আবুধাবি টেস্টে বাংলাদেশের ছুড়ে দেয়া ৪৭৯ রান তাড়া করতে নেমে ১৪২ ওভার ব্যাটিং করে ম্যাচ ড্র করল আফগানিস্তান। টেস্টের ইতিহাসে চতুর্থ সর্বোচ্চ ওভার ব্যাটিং করে ড্র করার নজির এটা। সাদিকুল্লাহ আতাল ৩৩২ বল খেলে ১১১ রান করে আফগানিস্তানের জন্য জয়ের সমান ড্র এনে দেন। এতে ম্লান হলো লিটন দাসের বিশ্বরেকর্ড। ম্যাচে নয়টি ডিসমিসালের পাশাপাশি ব্যাট হাতে দুই ইনিংসে করেছেন যথাক্রমে ৫৩ ও ১০২ রান।
আজ মঙ্গলবার পঞ্চম ও শেষদিন প্রায় পুরো দিন বাংলাদেশকে ভুগিয়েছেন আতাল। ওভারের হিসেবে প্রায় ৫৫ ওভার খেলেছেন তিনি একাই! রহমত শাহকে নিয়ে ২১৪ বল, হাশমতউল্লাহ শহীদিকে নিয়ে ৬৩ বল, ইকরাম আলিখিলকে নিয়ে ১৪৭ বল, ইসমত আলমকে নিয়ে ১২৩ বল ও ইয়ামিন আহমাদজাইকে নিয়ে ৭৯ বল খেলেছেন আতাল। দিনের ৮৩.৪ ওভারের সময় আতালকে আউট করেন তাইজুল ইসলাম। তখন মনে হচ্ছিল আফগানদের লড়াই বুঝি শেষ হলো। কিন্তু এরপর ধনুর্ভঙ্গ লড়াই করলেন ইয়ামিন (৮৫ বলে ১৯) ও কায়েস আহমেদ (৮০ বলে ৪৯*)। দুজন খেলেন ১১০ বল।
মেহেদী হাসান মিরাজ ১৩৭তম ওভারের শেষ বলে ইয়ামিনকে সাজঘরে পাঠিয়ে খানিকটা আশা জাগালেও এরপর জিয়া-উর-রেহমানকে নিয়ে ৫ ওভার নির্বিঘ্নে কাটিয়ে দিয়ে ম্যাচটা ড্র করে ফেলেন কায়েস।
এ ম্যাচে উইকেটকিপার হিসেবে বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন লিটন দাস। গতকাল এবাদত হোসেনের বাউন্সার আফগান ব্যাটার ইকরাম আলিখিলের গ্লাভস ছুঁয়ে যাওয়ার পর ডান দিকে ডাইভ দিয়ে ক্যাচ নেন লিটন। এর মধ্য দিয়ে বিশ্ব রেকর্ড গড়েন তিনি। ম্যাচে এটা তার নবম ডিসমিসাল। বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে ৫৩ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ১০২ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। টেস্ট ইতিহাসে প্রথম উইকেটকিপার হিসেবে একটি ম্যাচে দুবার ফিফটি প্লাস রান ও ৯টি ডিসমিসাল করেন লিটন। আর তিনটি ডিসমিসাল করতে পারলে এককভাবে টেস্টে সর্বোচ্চ ডিসমিসালের রেকর্ডও গড়তেন তিনি।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ: ৩৪৬ ও ৩৭২/৭/ডি.। আফগানিস্তান: ২৪০ ও ৩৪৬/৮ (আতাল ১১১, রহমত ৫১, কায়েস ৪৯*; এবাদত ৩/৫০, মিরাজ ৩/৭৩)। ফল: ম্যাচ ড্র। প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ: লিটন দাস (বাংলাদেশ)।