বিশ্বকাপ রেকর্ড

এমবাপ্পে-ম্যারাডোনাকে পেছনে ফেলে ছুটছেন মেসি

বিশ্বকাপে নাটকীয় দিনে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা ৩-২ গোলে হারিয়েছে মিসরকে, আর গোলশূন্য ড্র থাকার পর টাইব্রেকারে কলম্বিয়াকে ৪-৩ গোলে হারিয়েছে সুইজারল্যান্ড।

মঙ্গলবার রাতের এ দুটি ম্যাচে হয়েছে বেশকিছু নতুন রেকর্ড। বিশেষ করে আর্জেন্টিনার জার্সিতে একগুচ্ছ রেকর্ড গড়েছেন দলটির অধিনায়ক লিওনেল মেসি। তিনি কোনো রেকর্ডে পেছনে ফেলেন ফ্রান্সের গোলমেশিন কিলিয়ান এমবাপ্পেকে, কোনোটিতে—বা আবার আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনাকে।

ফিফা বিশ্বকাপের নকআউটে টানা ছয় ম্যাচে গোল করা প্রথম খেলোয়াড় এখন মেসি। ২০২২ বিশ্বকাপে চারটি ও ২০২৬ বিশ্বকাপে দুটি নকআউট ম্যাচে তিনি গোল করার কৃতিত্ব দেখান। নকআউটে মোট ৭ গোল হয়ে গেল মেসির। এর মধ্য দিয়ে পেলে (ব্রাজিল), ভাভা (ব্রাজিল) ও অলড্রিচ নেজেদলির (চেক রিপাবলিক) পাশে নাম লিখিয়েছেন তিনি। এছাড়া চলতি বিশ্বকাপে আট গোল করে তিনি পেছনে ফেলেছেন এমবাপ্পেকে (সাত গোল)।

মিসরের বিপক্ষে ৮৩ মিনিটে গোল করে আর্জেন্টিনার সমর্থকদের উচ্ছ্বাসে ভাসিয়েছেন মেসি। এটা চলতি বিশ্বকাপে তার অষ্টম গোল। এর মধ্য দিয়ে এমবাপ্পেকে টপকে যান তিনি। সেই সঙ্গে এক আসরে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের মধ্যে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড স্পর্শ করেন তিনি। ১৯৩০ সালের আসরে আট গোল করেছিলেন আর্জেন্টিনার গিলার্মো স্তাবিলে। এছাড়া জার্মানির গার্ড মুলারের পর প্রথম খেলোয়াড় হলেন মেসি, যিনি বিশ্বকাপে দলের প্রথম পাঁচ ম্যাচে আট গোল করেছেন। ১৯৭০ আসরে প্রথম পাঁচ ম্যাচেই ১০ গোল করেছিলেন মুলার।

কোনো একটি বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম পাঁচ ম্যাচেই গোল করেছেন মোট ছয়জন খেলোয়াড়, যাদের একজন মেসি। বাকি পাঁচজন—ফ্রান্সের জঁ ফতেঁ (১৯৫৮ বিশ্বকাপ, ছয় ম্যাচ), ব্রাজিলের জায়ারজিনহো (১৯৭০ বিশ্বকাপ, ছয় ম্যাচ), জার্মানির গার্ড মুলার (১৯৭০ বিশ্বকাপ, পাঁচ ম্যাচ), রিভালদো (২০০২ বিশ্বকাপ, পাঁচ ম্যাচ) ও কলম্বিয়ার হামেশ রদ্রিগেজ (২০১৪ বিশ্বকাপ, পাঁচ ম্যাচ)।

মিসরের বিপক্ষে ম্যাচের ২১ মিনিটে পেনাল্টি মিস করেন মেসি। প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে এক বিশ্বকাপে দুটি পেনাল্টিতে গোল করতে ব্যর্থ হলেন মেসি। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে আটটি পেনাল্টি নিয়ে ৪টিতেই গোল করতে ব্যর্থ হন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক।

বিশ্বকাপের কোনো একটি ম্যাচে গোল করেছেন, পাঁচটির বেশি ড্রিবল করেছেন, পাঁচটির বেশি গোলের সুযোগ তৈরি করেছেন—সর্বশেষ এমন দুই খেলোয়াড় হলেন ম্যারাডোনা (১৯৮৬, প্রতিপক্ষ বেলজিয়াম) ও মেসি (২০২৬, প্রতিপক্ষ মিসর)। এটা ছিল বিশ্বকাপের নকআউটে মেসির তৃতীয় ম্যাচ, যাতে তিনি ন্যূনতম এক গোল ও এক অ্যাসিস্ট করেছেন। ২০০৬ বিশ্বকাপের পর এটাই সর্বোচ্চ। মেসি ছাড়া জার্মানির টমাস মুলারের আছে নকআউটের একাধিক ম্যাচে গোল ও অ্যাসিস্ট করার কীর্তি (দুবার)।

দ্বিতীয়বারের মতো কোনো বিশ্বকাপ আসরে টানা পাঁচ ম্যাচ জিতল আর্জেন্টিনা। এর আগে ২০১৪ সালে রানার্সআপ হওয়ার পথে টানা পাঁচ ম্যাচ জিতেছিল আলবিসেলেস্তেরা। চলতি বিশ্বকাপে ৭৬ মিনিটের পর মোট আট গোল করেছে আর্জেন্টিনা। এর মধ্য দিয়ে তারা ছুঁয়েছে ১৯৫৪ আসরে করা পশ্চিম জার্মানির রেকর্ড।

মিসরের বিপক্ষে মোট ছয়টি সুযোগ তৈরি করেছেন মেসি, যা তার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। ২০১০ সালের বিশ্বকাপেও তিনি ছয়টি সুযোগ তৈরি করেছিলেন। এক ম্যাচে সর্বোচ্চ নয়টি সুযোগ তৈরির রেকর্ড রয়েছে তার। ২০১৪ সালের বিশ্বকাপে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে তিনি এ কৃতিত্ব দেখান, যাদের বিপক্ষে আগামী রোববার সকাল ৭টায় কানসাস সিটিতে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলবে মেসির আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপে ২১ গোল করার পাশাপাশি রেকর্ড নয়টি অ্যাসিস্ট করেছেন মেসি। এ পথে তিনি ভেঙে দিয়েছেন প্রয়াত ম্যারাডোনার অ্যাসিস্টের রেকর্ড।

বিশ্বকাপে টানা গোল করা নিজেরই রেকর্ড ভেঙে দিয়েছেন মেসি। তিনি টানা নয় ম্যাচে গোল করার কৃতিত্ব দেখিয়েছেন।

মিসরের পেনাল্টি বক্সের মধ্যে মোট ১২ বার বল স্পর্শ করেছেন মেসি, যা বিশ্বকাপে তার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। ২০২২ আসরে পোল্যান্ডের বিপক্ষে মোট ১৩ বার বল স্পর্শ করেছিলেন। বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচে ১৪টি গোলে অবদান রেখেছেন মেসি (সাতটি গোল, অ্যাসিস্ট সাতটি), যা ৬০ বছরের মধ্যে সেরা। এর আগে এমবাপ্পের সঙ্গে রেকর্ড ভাগাভাগি করছিলেন তিনি।

মিসরের বিপক্ষে ৯০ মিনিট শেষে যোগ করা সময়ে গোল করেন আর্জেন্টিনার এনজো ফার্নান্দেজ। চলতি বিশ্বকাপে ৯০তম মিনিটের পর গোল করে দলের জয়ের দশম নজির এটা।

বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচে শেষ ১৫ মিনিটে দুই গোলে পিছিয়ে থাকার পরও জয়লাভ করা প্রথম দল আর্জেন্টিনা। মিসরের বিপক্ষে ৭৯, ৮৩ ও ৯২ মিনিটের গোলে জয় পায় আলবিসেলেস্তেরা। এছাড়া এ প্রথম কোনো বিশ্বকাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পরও জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে।

এক বিশ্বকাপে একাধিক গোল করা মাত্র তৃতীয় মিসরীয় খেলোয়াড় মোস্তাফা জিকো। এর আগে ২০১৮ সালের বিশ্বকাপে মোহামেদ সালাহ ও ১৯৩৪ সালের বিশ্বকাপে আব্দেল রাহমান ফাওজির আছে এ কৃতিত্ব। চলতি বিশ্বকাপে জিকো করেছেন দুই গোল আর অ্যাসিস্ট করেছেন একটিতে। মিসরের হয়ে এক বিশ্বকাপ আসরে তিন গোলের সঙ্গে সম্পৃক্ততা আছে শুধুই সালাহর।

আরও