ইউনাইটেডের মৌসুমকে ব্যর্থ বানিয়ে ইউরোপা লিগ টটেনহ্যামের

ইউনাইটেডকে আটকে রাখার সঙ্গে সুযোগ পেলে কাউন্টার অ্যাটাক— অন্য কোনো কৌশল নিয়ে মাথা ঘামাননি পোস্তেকগলু।

পুরো ম্যাচকে ঘিরে যে হাইপ, সেটা অস্বাভাবিক কিছু ছিল না। দুই দলের জন্যই এটি ছিল ‘মুক্তি না হয় ধ্বংস’ টাইপের মুহূর্ত। খেলোয়াড়দের মধ্যে ছিল উত্তেজনা ও একগাদা ভুল।

আঞ্জ পোস্তেকগলুর টটেনহ্যাম ও রুবেন আমোরিমের ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের জন্য একটিই গল্প ছিল, একটিই লক্ষ্য—জয়। উয়েফা ইউরোপা লিগের সেই ফাইনালে আমোরিমের রেড ডেভিলদের ১-০ গোলে হারিয়ে ইউরোপীয় শিরোপা জিতে নিল স্পার্স। দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে পোস্তেকগলু তার দ্বিতীয় মৌসুমে টটেনহ্যামকে এনে দিলেন কাঙ্ক্ষিত ট্রফি। ২০০৮ সালের পর প্রথমবার কোনো ট্রফি জিতলো স্পার্স। আর ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের জন্য এই মৌসুমে মনে রাখার কোনো সুখস্মৃতিই রইল না।

ইউরোপিয়ান আসরের ফাইনাল হিসেবে ম্যাচটি ক্লাসিকের ধারেকাছেও ছিল না। দুই রক্ষণাত্মক ইংলিশ ক্লাব তাদের চিরাচরিত ঢঙেই খেলেছে। কিন্তু যারা গ্যালারিতে সাদা জার্সি পরে নাচছিলেন, একে অন্যকে জড়িয়ে ধরছিলেন, তাদের কাছে এটা ছিল দারুণ এক রাত। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই স্পার্স গোল পায় ব্রেনান জনসনের গোলে। ম্যাচের ৪২ মিনিটে প্যাপে সারের ক্রসে রেড ডেভিল লেফট ব্যাক লুক শ এর হাতে লেগে ভাগ্যের ছোঁয়ায় চলে যায় জালে। গোলটি জনসনের বুট স্পর্শের পরেই যায় জালে। গোলটি যেন পুরো ম্যাচেই টটেনহ্যামের পারফরমেন্সের প্রতিচ্ছবি—সুন্দর নয়, কিন্তু কার্যকরী।

এর পরের গল্পটা প্রতিরোধের। পুরো দ্বিতীয়ার্ধে স্পার্স গোলের চেষ্টার দিকে মনও দেয়নি। ইউনাইটেডকে আটকে রাখার সঙ্গে সুযোগ পেলে কাউন্টার অ্যাটাক— অন্য কোনো কৌশল নিয়ে মাথা ঘামাননি পোস্তেকগলু।

সন হিউং-মিনের অনুপস্থিতিতে স্পার্সের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করা আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো এদিন ছিলেন দুর্দান্ত। তার সঙ্গে মিকি ভ্যান ডে ভেনও ছিলেন প্রাচীর হয়ে। দারুণ খেলেছেন সার। বিসুমাও উল্লেখযোগ্য।

৬৮ মিনিটে সবচেয়ে বড় সুযোগ পায় ইউনাইটেড। রাসমুস হয়লুন্ডের হেড লক্ষ্যমুখী ছিল, কিন্তু মিকি ভ্যান ডে ভেন অসাধারণভাবে বলটি গোললাইন থেকে স্লাইড করে ক্লিয়ার করেন—এই মুহূর্তটাই যেন ম্যাচের প্রতীক।

মিকি ভ্যান ডে ভেনের 'পিকচার পারফেক্ট' গোললাইন ক্লিয়ারেন্স। ছবি- রয়টার্স

ফাইনাল বাঁশির পর সন হিউং-মিনের অশ্রু ঝরল—দলটির সঙ্গে ১০ বছর থাকার পর অবশেষে পেলেন নিজের কাঙ্ক্ষিত শিরোপা। পোস্তেকগলুর মুখে ছিল প্রশস্ত হাসি। যেখানে পরাজিত হয়েছিলেন মাওরিসিও পচেত্তিনো, হোসে মরিনহো বা আন্তোনিও কন্তে, সেখানে তিনি সফল। যদি এই মৌসুমের পর বিদায়ও নেন তবু এই ট্রফির সৌজন্যে হোয়াইট হার্ট লেনে কিংবদন্তি হয়েই বিদায় নেবেন।

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড নিজেদের চেষ্টায় ঘাটতি রাখেনি। অতিরিক্ত সময়ে লুক শ’র হেড গোলকিপার গুলিয়েলমো ভিকারিওকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু আবারো তারা ভুগল ফিনিশিংয়ের অভাবে। এই ট্রফি মৌসুমে তাদের ভয়াবহতা ঢেকে ফেলত না। তবে কিছুটা সান্ত্বনা দিতে পারত। পরিবর্তে তারা ফিরল খালি হাতেই। লিগের ১৬ নম্বরে থাকা রেড ডেভিলরা সামনের মৌসুমের চ্যাম্পিয়নস লিগেও থাকছে না।

পুরো ম্যাচকে ঘিরে যে হাইপ, সেটা অস্বাভাবিক কিছু ছিল না। দুই দলের জন্যই এটি ছিল ‘মুক্তি না হয় ধ্বংস’ টাইপের মুহূর্ত। খেলোয়াড়দের মধ্যে ছিল উত্তেজনা ও একগাদা ভুল।

নকআউট রাউন্ডগুলোতে পোস্তেকগলু দেখিয়েছেন, কীভাবে তিনি খেলার ছকে নমনীয়তা আনতে পারেন। কেবল আক্রমণের ঢেউ নয়, কখনো কখনো প্রতিরোধই এনে দেয় জয়। ডমিনিক সোলাঙ্কেকে সামনে রেখে খেলা কিংবা ডিফেন্সিভ বাস পার্কিং— জয়ের জন্য নেয়া সব কৌশলেই খুশি ছিল স্পার্স।

শেষ দিকে পোস্তেকগলু ব্রেনান জনসনের পরিবর্তে কেভিন ড্যানসোকে নামিয়ে পাঁচ জনের রক্ষণ সাজান। ভিকারিও যখন শ’র শট ঠেকান, তখনই নিশ্চিত হয়ে যায়—স্পার্সই ইউরোপা লিগ চ্যাম্পিয়ন। রেলিগেশন জোনের ঠিক ওপরে থেকে লিগ শেষ করলেও সামনে চ্যাম্পিয়নস লিগে দেখা যাবে তাদের।

আরও