কোচিং কোর্সে স্কালোনির প্রশিক্ষক ছিলেন দে লা ফুয়েন্তে। সেই থেকে দুজনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। তবে বাইরে বন্ধুত্ব থাকলেও মাঠের লড়াইয়ে নিজেদের ফুটবল দর্শনেই অটল থাকতে চান তিনি।
ফাইনালের আগে সংবাদ সম্মেলনে স্পেন কোচ বলেন, ‘আমাদের পুরো মনোযোগ থাকবে নিজেদের খেলায়, নিজস্ব স্টাইলকে আরো কার্যকর করে তোলার দিকে। আমরা যদি আমাদের স্টাইল ও খেলার ধরন থেকে সরে যাই, তবে ভুগতে হবে। আমরা বল দখলে রেখে খেলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। নিজেদের দর্শনের প্রতি বিশ্বস্ত থাকতে চাই। আমরা কোনো ধরনের উসকানিতে পা দিতে চাই না। অবশ্য এর অর্থ এই নয় যে আর্জেন্টিনা এমন কিছু করবে।’
আর্জেন্টিনাকে অনেকে ‘রুক্ষ’ বা ‘অ্যাগ্রেসিভ’ দল হিসেবে আখ্যা দিলেও সে বিতর্কে জড়াতে চাননি দে লা ফুয়েন্তে। বন্ধুর দলের প্রতি সম্মান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি সবার মতামতকে সম্মান করি। যারা টানা দুবার কোপা আমেরিকা জিতেছে, যারা বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন এবং আমার এক প্রিয় বন্ধু যে দলটিকে পরিচালনা করছে—তাদের প্রতি আমার কেবল শ্রদ্ধা ও প্রশংসাই রয়েছে। আমরা প্রত্যেকেই মাঠে নিজেদের সেরা ফুটবলীয় অস্ত্র নিয়েই লড়াইয়ে নামব।’
সংবাদ সম্মেলনে বিশ্বকাপ ফাইনাল নিয়ে স্পেন কোচ বলেন, ‘ফাইনালে ওঠা অনেক বড় অর্জন। এখন আমাদের লক্ষ্য শিরোপার জন্য লড়াই করা। নিজেদের শক্তি ও সামর্থ্য কাজে লাগিয়ে প্রতিপক্ষের শক্তি যতটা সম্ভব নিষ্ক্রিয় করার চেষ্টা থাকবে। আর্জেন্টিনা দুর্দান্ত একটি দল এবং তাদের সাম্প্রতিক সফলতা উল্লেখ করার মতো। তবে আমরাও মুহূর্তটি উপভোগ করছি এবং বিশ্বাস করি, আমাদেরও ট্রফি জেতার সমান সুযোগ রয়েছে।’
ফাইনাল নিয়ে যদি কাউকে কোনো প্রশ্ন করার থাকে, তাহলে কাকে সেটা করবেন দে লা ফুয়েন্তে? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, স্পেনের সাবেক কোচ ভিসেন্তে দেল বস্কের কথা। ২০১০ সালে দেল বস্কের কোচিংয়ে প্রথমবার বিশ্বকাপ জিতেছিল স্পেন। ফুয়েন্তে বলেন, ‘ভিসেন্তে দেল বস্ককে আমি অনেক সম্মান করি, তিনি ফুটবলের একজন জ্ঞানী মানুষ। তিনিও এ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছেন, তাই পরামর্শ দেয়ার ও পথ দেখানোর জন্য তার চেয়ে উপযুক্ত আর কেউ হতে পারে না। গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো এসে গেলে—সেগুলো আসবেই—তখন কী করতে হবে, সেটার একটু ধারণা যদি আগে থেকে থাকে, তবে তা বেশ সাহায্য করে এবং মনে এক ধরনের প্রশান্তি এনে দেয়।’