মরক্কোর বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে ২-০ গোলের জয়ে একটি গোল ও একটি অ্যাসিস্ট করে আরো কয়েকটি অনন্য রেকর্ডে নাম লিখিয়েছেন ফ্রান্স অধিনায়ক। টুর্নামেন্টজুড়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে এরই মধ্যে তিনি ফ্রান্সের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন, বিশ্বকাপে দেশটির ইতিহাসের সেরা গোল স্কোরারের আসন দখল করেছেন এবং নকআউট পর্বে সর্বাধিক গোলের নতুন রেকর্ডও গড়েছেন। এখন বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় লিওনেল মেসির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন রিয়াল মাদ্রিদের এ ফরওয়ার্ড।
মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচে শুরুতেই একটি পেনাল্টি মিস করেছিলেন এমবাপ্পে। তবে দ্বিতীয়ার্ধে গোল করে দলকে শেষ চারে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। সেই গোলের সুবাদে বিশ্বকাপে পেনাল্টি ছাড়া সর্বাধিক গোলের তালিকায় তিনি এখন মেসির সমান। দুজনেরই পেনাল্টি ছাড়া বিশ্বকাপে গোলসংখ্যা ১৭।
এমবাপ্পের বিশ্বকাপে মোট গোল এখন ২০টি। সর্বকালের তালিকায় তার ওপরে আছেন কেবল মেসি, যার গোল ২১টি। অর্থাৎ সেমিফাইনালেই মেসির রেকর্ড স্পর্শ কিংবা ছাড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকছে ফরাসি তারকার সামনে। এবারের বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই ইতিহাস গড়েছিলেন এমবাপ্পে। সেনেগালের বিপক্ষে গোল করে তিনি ভেঙে দেন অলিভিয়ে জিরুর ফ্রান্সের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড। বর্তমানে জাতীয় দলের হয়ে তার গোলসংখ্যা ৬৪, যেখানে জিরুর গোল ৫৭। তালিকার পরের দুই স্থানে আছেন থিয়েরি অঁরি (৫১) ও আঁতোয়া গ্রিজমান (৪৪)।
একই ম্যাচে আরেকটি রেকর্ডও নিজের করে নেন তিনি। বিশ্বকাপে ফ্রান্সের হয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে যান এমবাপ্পে। ১৯৫৮ বিশ্বকাপে জাঁ ফঁতের করা ১৩ গোলের রেকর্ড ভেঙে তখন তার গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ১৪-তে। এরপর আরো ছয়টি গোল যোগ করে সেই রেকর্ডকে আরো উঁচুতে নিয়ে গেছেন তিনি। এখন বিশ্বকাপে ফ্রান্সের হয়ে তার গোল ২০টি।
শুধু মোট গোলই নয়, নকআউট পর্বেও ইতিহাসের সেরা গোলদাতা এখন এমবাপ্পে। সুইডেনের বিপক্ষে প্রথম গোলটি করার মধ্য দিয়েই তিনি ব্রাজিলের দুই কিংবদন্তি লিওনিদাস ও রোনালদোকে পেছনে ফেলেন। পরে সেই ম্যাচে আরো একটি গোল করেন। এরপর প্যারাগুয়ে ও মরক্কোর বিপক্ষেও গোল করে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে তার গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ১২, যা সর্বকালের সর্বোচ্চ।
মরক্কোর বিপক্ষে শুধু গোলই করেননি, ওসমান দেম্বেলেকে দিয়ে একটি গোলও করিয়েছেন এমবাপ্পে। এ অ্যাসিস্টের মাধ্যমে আরেকটি অনন্য রেকর্ড গড়েন তিনি। বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম ফুটবলার হিসেবে দুটি ভিন্ন আসরে অন্তত ১০টি করে সরাসরি গোল অবদানের কীর্তি গড়েছেন তিনি। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে করেছিলেন ৮ গোল ও ২ অ্যাসিস্ট। আর ২০২৬ বিশ্বকাপেও এরই মধ্যে ১০-এর বেশি গোলে অবদান নিশ্চিত করেছেন। ১৯৬৬ সাল থেকে পরিসংখ্যান সংরক্ষণ শুরু হওয়ার পর এমন কীর্তি আর কারো নেই।
মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল ফ্রান্সের জার্সিতে এমবাপ্পের ২০তম বিশ্বকাপ ম্যাচ। এর মাধ্যমে তিনি দেশটির সাবেক অধিনায়ক ও গোলরক্ষক উগো লরিসের পাশে উঠে এসেছেন। তবে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এত কম বয়সে এ মাইলফলকে পৌঁছানো প্রথম ফুটবলার তিনিই। সেমিফাইনালে মাঠে নামলেই লরিসকে ছাড়িয়ে ফ্রান্সের হয়ে বিশ্বকাপে সর্বাধিক ম্যাচ খেলার একক রেকর্ড গড়ে ফেলবেন এমবাপ্পে।