২৪২ রানে টেস্টের চূড়ায় তাওহীদ হৃদয়

মাত্র তৃতীয় টেস্ট খেলতে নেমেই দেশের হয়ে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ইনিংসের চূড়ায় উঠলেন হৃদয়।

এক ইনিংসেই দেশের হয়ে টেস্টের রেকর্ড বুকটা ওলটপালট করে দিলেন তাওহীদ হৃদয়। ক্যারিয়ারের তৃতীয় টেস্টে এসে পেলেন প্রথম সেঞ্চুরির দেখা। আর সেই সেঞ্চুরিটাকেই রূপ দিলেন ডাবলে। সেখানেই থামেননি। তিনিই এখন টেস্টে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসের মালিক।

গতকাল সিলেটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টের তৃতীয় দিন ২৪২ রানের হার না মানা ইনিংস খেলে বাংলাদেশকে এনে দিয়েছেন ৩৮৬ রানের পুঁজি। এর মধ্য দিয়ে নিজে কীর্তি গড়ার পাশাপাশি দলকে ৩০ রানের লিড এনে দেন ডানহাতি এ ব্যাটার।

মাত্র তৃতীয় টেস্ট খেলতে নেমেই দেশের হয়ে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ইনিংসের চূড়ায় উঠলেন হৃদয়। তিনি ডাবল করার পর একে একে টপকে যান তামিম ইকবাল, সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিমকে। ২১৯ রানের ইনিংস খেলে ২০১৮ সাল থেকে চূড়ায় অবস্থান করছিলেন মুশফিক। ছয় বছর পর মুশফিককে সরিয়ে চূড়ায় উঠলেন হৃদয়।

টেস্টে বাংলাদেশের জার্সিতে প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি করেছিলেন মুশফিক। ২০১৩ সালে গল টেস্টে শ্রীলংকার বিপক্ষে ২০০ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। এর দুই বছর পর খুলনায় পাকিস্তানের বিপক্ষে ২০৬ রানের ইনিংস খেলেন বর্তমান বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল। ২০১৭ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়েলিংটনে ২১৭ রানের দুর্দান্ত এক ডাবল করেন সাকিব। পরের বছর মিরপুরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২১৯ রানের হার না মানা ইনিংস খেলেন মুশফিক।

২০২০ সালে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে তৃতীয় ডাবল সেঞ্চুরি করেন মুশফিক। সেবার তিনি খেলেন ২০৩ রানের হার না মানা ইনিংস। মুশফিক, তামিম ও সাকিবের পর এবার বাংলাদেশের চতুর্থ ব্যাটার হিসেবে টেস্টে ডাবল সেঞ্চুরিয়ানদের অভিজাত ক্লাবে নাম লেখালেন হৃদয়। এটা দেশের হয়ে ষষ্ঠ ডাবল সেঞ্চুরির কীর্তি।

২৫ বছর বয়সী ব্যাটারের এটা সব মিলিয়ে দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরি। ৫৮ ম্যাচের ওয়ানডে ক্যারিয়ারে সেঞ্চুরি করেছেন একটি। এ বছর জুলাইয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের হয়ে ৩৫০ রানের মহাকাব্যিক ইনিংস খেলে নির্বাচকদের নজর কাড়েন হৃদয়। এর পরই ডাক পড়ে টেস্ট দলে। সেই ফর্মটা টেনে আনলেন টেস্টে। সিলেটে ডাবল সেঞ্চুরির মধ্য দিয়ে তিনি টেস্ট দলে জায়গাটা পাকা করে নিলেন।

গতকাল একগুচ্ছ রেকর্ড গড়েন হৃদয়। টেস্টে গড়েছেন ছক্কার রেকর্ড। ২৪২ রানের ইনিংসটা সাজিয়েছেন ২২টি চার ও ১১টি ছক্কায়। তামিম ইকবাল ২০৬ রান করার পথে ১৭টি চার ও ৭টি ছক্কা মেরেছিলেন। মুশফিক ২০১৯ রানের পথে ১৯টি বাউন্ডারি ও ১টি ছক্কা মেরেছেন। সাকিব ২১৭ রান করেছিলেন ৩১টি বাউন্ডারিতে, কোনো ছক্কা তিনি মারেননি। এছাড়া মুশফিক ২০৩ রান করার পথে ২৮টি চার ও ২০০ রান করার পথে ২২টি চার ও ১টি ছক্কা মেরেছেন। তাদের চেয়ে বরং ৬৫ রানের ইনিংসে বেশি ছক্কা মারেন মোহাম্মদ রফিক। সাবেক এ বামহাতি ব্যাটার ২০০৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে চট্টগ্রাম টেস্টে ৬টি ছক্কা ও ২টি চারের সাহায্যে ৫৩ বলে ৬৫ রান করেছিলেন। এছাড়া ইনিংসে ৬টি ছক্কা মেরেছেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও সাকিব আল হাসান। ইনিংসে ৫টি করে ছক্কা আছে সৌম্য সরকার ও জাকের আলীর।

গোটা টেস্ট ইতিহাসেও রেকর্ড বুকে জায়গা করে নিয়েছেন হৃদয়। তার ১১ ছক্কা টেস্টের এক ইনিংসে যৌথভাবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। আগে ১১টি ছক্কা ছিল ছয়জনের। টেস্টে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ১২টি করে ছক্কা আছে পাকিস্তানের ওয়াসিম আকরাম ও ভারতের জশস্বী জয়সোয়ালের।

গতকাল তৃতীয় দিনই মোট ২১৩ রান করেছেন হৃদয়। এ পথে তিনি ভেঙেছেন দেশের ক্রিকেট আইকন সাকিব আল হাসানের রেকর্ড। ২০১৭ সালে ওয়েলিংটনে ২১৭ রান করার পথে একদিনে ২১২ রান করেছিলেন সাকিব।

সিলেট ভেন্যুর সর্বোচ্চ স্কোরও এখন হৃদয়ের দখলে। মাহমুদুল হাসান জয় গত বছর আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ১৭১ রান করেছিলেন। গতকাল ১৭২ রান করে জয়কে টপকে যান হৃদয়। পরে ইনিংসটা টেনে নেন ২৪২ পর্যন্ত। শেষ পর্যন্ত তিনি এ ইনিংস দিয়ে দেশের সব রেকর্ড ভেঙে দেন।

আরও