রেকর্ড ২৫তম গ্র্যান্ডস্লাম শিরোপা জয়ের আশা এখনো ছাড়েননি নোভাক জোকোভিচ। আরেকটি নতুন আশায় খেলা ইউএস ওপেনে তিনি পৌঁছে গেছেন কোয়ার্টার ফাইনালে। ইউএস ওপেনে বাংলাদেশ সময় সোমবার ভোরে অনুষ্ঠিত ম্যাচে জার্মানির অবাছাই খেলোয়াড় ইয়ান-লেনার্ড স্ট্রাফকে ৬-৩, ৬-৩, ৬-২ গেমে হারিয়েছেন তিনি।
ভালো খেলে জিতলেও জোকোভিচের শারীরিক অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। উইম্বলডন সেমিফাইনালে হেরে যাওয়ার পর এই প্রথম কোনো টুর্নামেন্ট খেলছেন তিনি। মাঝে সিনসিনাটি ও টরন্টোয় টুর্নামেন্ট খেলেননি। ইউএস ওপেনের প্রথম দুই ম্যাচে তাকে বেশ ক্লান্ত দেখায়। তৃতীয় রাউন্ডে ব্রিটেনের ক্যামেরন নরির বিপক্ষে জিতলেও পিঠের নিচের দিকটার চোট তাকে ভুগিয়েছে। আজ খেলার সময়ও শারীরিক সমস্যায় ফিজিওকে ডাকতে হয় তাকে। প্রথমত ঘাঁড়ে সমস্যা অনুভব করছিলেন, পরে ডান হাতেও। এরপরও তিনি ম্যাচে জয়ী হয়েছেন। ৩৩টি উইনার আর ১২টি এইচ পেয়ে তিনি ম্যাচটি জিতে নেন। কোনো ‘ডাবল ফল্ট’ ছিল না। আর্থার অ্যাশ স্টেডিয়ামে তাকে এগিয়ে রেখেছে সার্ভ।
মেয়েদের এককে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আরিনা সাবালেঙ্কা ৬-১, ৬-৪ গেমে হারিয়েছেন স্পেনের ক্রিস্টিনা বুকসাকে। ইউএস ওপেনে দ্বিতীয় শিরোপার খোঁজে তিনি। গত বছর ফাইনালে যুক্তরাষ্ট্রের জেসিকা পেগুলাকে হারিয়ে শিরোপা উদযাপন করেন সাবালেঙ্কা, যা ছিল তার তৃতীয় গ্র্যান্ডস্লাম শিরোপা। চলতি বছর তিনি কোনো গ্র্যান্ডস্লাম শিরোপার স্বাদ পাননি। যদিও দু দুবার কাছাকাছি পৌঁছেছেন। অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে হেরেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাডিসন কিজের কাছে, আর ফ্রেঞ্চ ওপেনে হেরেছেন একই দেশের কোকো গাফের কাছে।
আজ কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করার পর সাবালেঙ্কা বলেন, ‘আমি হারার জন্য খেলি না, আমি খেলি জেতার জন্য। গত বছর কী ঘটেছে তা নিয়ে আমি ভাবছি না। অবশ্যই অর্জনটা আমার জন্য অনেক বড় ছিল, সেজন্য আমি অনেক অনেক খুশি। তবে এটি আরো অসংখ্যবার করতে চাই। প্রতিবার লড়াকু চেতনা নিয়ে নিজের স্বপ্নপূরণের জন্য ঝাঁপিয়ে পড়তে চাই আমি।’
২০১৪ সালের পর প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ব্যাক-টু-ব্যাক ইউএস ওপেন শিরোপা জেতার জন্য খেলছেন সাবালেঙ্কা। সর্বশেষ এ কীর্তি আছে সেরেনা উইলিয়ামসের।
কোয়ার্টার ফাইনালে ২০২৩ সালের উইম্বলডন চ্যাম্পিয়ন মারকেতা ভনদ্রোসোভার মুখোমুখি হবেন তিনি। শেষ ষোলোয় ভনদ্রোসোভা ৬-৪, ৫-৭, ৬-২ গেমে হারান কাজাখস্তানের এলেনা রিবাকিনাকে।
এছাড়া শেষ আটে উঠেছে কার্লোস আলকারাজ, ইগা সিয়ানতেক, জেসিকা পেগুলা, বারবোরা ক্রেসিকোভা।