গত মার্চে ইউরোপিয়ান অঞ্চলের বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের প্লে-অফ প্রায় সম্পন্ন হয়ে যায়, শুধু বাকি ছিল পাথ ‘এ’ তে ইউক্রেনের ম্যাচ। তখন ইউক্রেনের ওপর রাশিয়ার হামলার কারণে ফিফা ও উয়েফা তাদের ম্যাচটি জুনে নির্ধারণ করে। এখনো দেশটির ওপর চলছে রাশিয়ার আগ্রাসন। এরই মধ্যে গত ১ জুন প্লে-অফ সেমিফাইনালে স্কটল্যান্ডের মুখোমুখি হয় যুদ্ধবিধ্বস্ত জাতিটি। স্কটল্যান্ডের হ্যাম্পডেন পার্কে রোমান ইয়ারেমচুক ও আন্দ্রি ইয়ারমোলেঙ্কোরা যখন ইউক্রেনকে বিশ্বকাপে নিয়ে যাওয়ার জন্য লড়াই করছিলেন, তখন তাদের জন্মভূমিতে চলছির রুশ বোমা হামলা আর গোলার আঘাত। শোককে শক্তিতে পরিণত করে জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ল তারা।
খেলা শুরুর আগে হলুদ-নীলের পতাকা গায়ে জড়িয়ে ইউক্রেনের ফুটবলাররা জানিয়ে রাখেন, আমরা দেশ ছেড়ে যাচ্ছি না, আমরা শান্তি চাই, আমরা দেশের হয়ে বিশ্বকাপে প্রতিনিধিত্ব করতে চাই। সেই পথেই এগোচ্ছে ইউক্রেন। সেমিফাইনালে স্কটল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়েছে তারা।
ম্যাচ শেষে ইউক্রেনের ম্যানেজার আলেকসান্দ্রো পেত্রকোভ বলেছেন, এ জয় পুরো দেশবাসীর জন্য। ছেলেরা সবকিছু দেশের জন্য করছে। তারা ইউক্রেনিয়ানদের জন্য খেলেছে। যারা ঘরে থেকে খেলা দেখছেন, সামরিক বাহিনীর যেসব সদস্য ট্রেঞ্চে রাত কাটাচ্ছেন, যারা হাসপাতালে কাজ করছেন, তারা আমাদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন। কিন্তু আমরাই তাদের ধন্যবাদ জানাতে চাই।
ওয়েলসের বিপক্ষে ফাইনালটা জিতে দেশের মানুষকে বিশ্বকাপ টিকিট উপহার দিতে চান পেত্রকোভ। তিনি বলেন, যারা রক্তের শেষ বিন্দু দিয়ে ইউক্রেনের জন্য যুদ্ধ করছে, আমরা তাদের জন্য লড়াই করছি। আমরা সেই ইউক্রেনিয়ানদের জন্য খেলছি, যারা প্রতিদিন সংগ্রাম করছেন। ওয়েলসের ম্যাচটা আছে সামনে। আমরা দেশবাসীকে গর্বিত করতে চাই।
আজ প্লে-অফ ফাইনালে ইউক্রেনের প্রতিপক্ষ গ্যারেথ বেলের ওয়েলস। এই ম্যাচে জয় পেলেই ১৬ বছর পর আবার বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পাবে ইউক্রেন। সর্বশেষ ২০০৬ সালে বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলেছিল তারা। প্লে-অফ সেমিতে স্কটিশদের মাঠে খেলা ইউক্রেন ফাইনালও খেলবে প্রতিপক্ষের মাঠে। কার্ডিফ সিটি স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় ওয়েলসের মুখোমুখি হবে পেত্রকোভের শিষ্যরা।
অন্যদিকে এই ম্যাচ জিতলে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে যাবে ওয়েলস। প্রায় ৩০ লাখ জনসংখ্যার দেশটি তাদের ইতিহাসে একমাত্র বিশ্বকাপ খেলেছিল ১৯৫৮ সালে। ওইবার তারা কোয়ার্টার ফাইনালে হেরে বিদায় নিয়েছিল। ইউক্রেন এ পর্যন্ত বিশ্বকাপের আট আসরে খেলেছে। তাদের সর্বোচ্চ অর্জন ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থান। তারা কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছে চারবার।
ওয়েলস ও ইউক্রেন এ পর্যন্ত মুখোমুখি হয়েছে তিনবার। ২০০১ সালে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের দুই দেখাতেই ১-১ গোলে ড্র হয়। সর্বশেষ ২০১৬ সালে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে ওয়েলসকে ১-০ গোলে হারায় ইউক্রেন। এই ম্যাচে বিজয়ী দল কাতার বিশ্বকাপে ‘বি’ গ্রুপে ইংল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সঙ্গে স্থান করে নেবে। বিবিসি