টি-২০ বিশ্বকাপ

ফাইনালের ভাগ্য নির্ধারণ কি 'ঘাতক' অফস্পিনেই?

ভারতের ব্যাটিং অর্ডারের প্রথম আটজনের মধ্যে পাঁচজনই বাঁহাতি। আর, বাঁহাতিদের জন্য অফস্পিন সবসময়ই একটি কঠিন চ্যালেঞ্জ।

টুর্নামেন্টে অফস্পিনের বিপক্ষে ভারত সর্বোচ্চ ১৫টি উইকেট হারিয়েছে। এছাড়া, অফস্পিনের বিপক্ষে তাদের ব্যাটিং গড় মাত্র ১৫ দশমিক ৮৭, যা যে কোনো দলের চেয়ে কম। এমনকি, রান তোলার গতিও (১২০ দশমিক ২০) বেশ মন্থর।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ফাইনাল ঘিরে ক্রিকেট বিশ্বে এখন টানটান উত্তেজনা। একদিকে ঘরের মাঠে অপ্রতিরোধ্য ভারত, অন্যদিকে ‘জায়ান্ট কিলার’ নিউজিল্যান্ড। এই লড়াইকে অনেকেই দেখছেন স্টার ওয়ার্স সিনেমার ‘ডেথ স্টার’ বনাম ‘ইউয়োকস’ (ছোট কিন্তু লড়াকু জাতি)-এর যুদ্ধ হিসেবে। ভারতের বিধ্বংসী ব্যাটিং লাইনআপকে যদি একটি মহাকাশ দানব ধরা হয়, তবে নিউজিল্যান্ডের তুরুপের তাস হতে পারে অফস্পিন।

চলতি বিশ্বকাপে ভারতের ব্যাটিং লাইনআপ যেন এক অজেয় শক্তির নাম। প্রথম দিকে কিছুটা ধীরগতিতে শুরু করলেও শেষ তিন ম্যাচের দুটিতেই তারা টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহের রেকর্ড গড়েছে। তবে এই বিধ্বংসী শক্তির একটি দুর্বল জায়গা বা ‘সফট স্পট’ খুঁজে বের করেছে প্রতিপক্ষরা। আর সেই দুর্বলতা হলো—অফস্পিন। রোববার আহমেদাবাদে নিউজিল্যান্ডের কোল ম্যাককনচি বা গ্লেন ফিলিপসরা হতে পারেন ভারতের জন্য বড় বাধা।

সাধারণত মনে করা হয় আধুনিক ক্রিকেটে অফস্পিনারদের দিন ফুরিয়ে আসছে। কিন্তু এই বিশ্বকাপ অন্য কথা বলছে। ভারতের ব্যাটিং অর্ডারের প্রথম আটজনের মধ্যে পাঁচজনই বাঁহাতি। আর ডাটা অ্যানালিস্টদের মতে, বাঁহাতিদের জন্য অফস্পিন সবসময়ই একটি কঠিন চ্যালেঞ্জ। এই বিশ্বকাপে অফস্পিনের বিপক্ষে ভারতের পরিসংখ্যান বেশ উদ্বেগজনক। যেমন— টুর্নামেন্টে অফস্পিনের বিপক্ষে ভারত সর্বোচ্চ ১৫টি উইকেট হারিয়েছে। এছাড়া, অফস্পিনের বিপক্ষে তাদের ব্যাটিং গড় মাত্র ১৫ দশমিক ৮৭, যা যে কোনো দলের চেয়ে কম। এমনকি, রান তোলার গতিও (১২০ দশমিক ২০) বেশ মন্থর।

সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো অভিষেক শর্মার ফর্ম। যাকে মনে করা হচ্ছিল ভবিষ্যতের মহাতারকা, তিনি বিশ্বকাপের শুরুতে টানা তিন ম্যাচে শূন্য রানে আউট হয়েছেন, যার মধ্যে দুবারই ছিল প্রথম ওভারে অফস্পিনের শিকার। এমনকি দলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ঈশান কিষানও অফস্পিনের বিপক্ষে মাত্র ৪৮ বলে ৫ বার আউট হয়েছেন (গড় ১৩.০০)। তিলক ভার্মাও অফস্পিনের সামনে রানের গতি বাড়াতে হিমশিম খাচ্ছেন। এমনকি ডানহাতি সূর্যকুমার যাদবও এই টুর্নামেন্টে অফস্পিনের বিপক্ষে খুব একটা স্বচ্ছন্দে নেই।

নিউজিল্যান্ডের জন্য আশার আলো হয়ে এসেছেন ৩৪ বছর বয়সী কোল ম্যাককনচি। ইনজুরি রিপ্লেসমেন্ট হিসেবে আসা এই খেলোয়াড় সেমিফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকার দুই বিপজ্জনক বাঁহাতি কুইন্টন ডি কক এবং রায়ান রিকেলটনকে আউট করে নিজের সামর্থ্য দেখিয়েছেন। মিচেল স্যান্টনারের জাদুকরী ঘূর্ণি আর ম্যাট হেনরির পেস বোলিংয়ের পাশাপাশি নিউজিল্যান্ড দল চাইবে ম্যাককনচি এবং গ্লেন ফিলিপসকে দিয়ে ভারতের পাওয়ারপ্লেতে ধাক্কা দিতে।

ভারতের এই ‘প্ল্যানেট-কিলিং’ ব্যাটিং লাইনআপকে থামাতে হলে কিউইদের প্রধান অস্ত্র হবে অফস্পিন। ডেভিড বনাম গোলিয়াথের এই লড়াইয়ে ছোট এই ‘অফস্পিন’ অস্ত্রটিই হয়তো শেষ পর্যন্ত বড় পার্থক্য গড়ে দেবে।

আরও