গ্রীষ্মকালীন দলবদলে খরচের আগের সব রেকর্ড ভেঙে দিল ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবগুলো। এবার তাদের মোট খরচ ৩.৪৬ বিলিয়ন পাউন্ড (প্রায় ৫৭ হাজার ৩৫২ কোটি টাকা)। গত বছর প্রিমিয়ার লিগের দলগুলো রেকর্ড ৩.১৪ বিলিয়ন পাউন্ড খরচ করেছিল। এমনকি পাঁচ বছর আগের (১.১৩ বিলিয়ন পাউন্ড) খরচের তুলনায় এই সংখ্যাটি প্রায় তিন গুণ।
ট্রান্সফার উইন্ডোর শেষ দিনেই (ডেডলাইন ডে) ক্লাবগুলো খরচ করেছে ৪৭৫ মিলিয়ন পাউন্ড, যা গত বছরের ৩৯১ মিলিয়ন পাউন্ডের চেয়ে অনেক বেশি। ডেডলাইন ডেতেই (১ সেপ্টেম্বর) এভারটন থেকে ম্যানচেস্টার সিটিতে ইলিমান এনদিয়ায়ের ৬০ মিলিয়ন পাউন্ডের ট্রান্সফারটি প্রিমিয়ার লিগের আগের খরচের রেকর্ড ভেঙে দেয়। এছাড়া, চেলসি থেকে ১২৫ মিলিয়ন পাউন্ডে ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দিয়ে যৌথভাবে ব্রিটিশ রেকর্ড গড়েন এঞ্জো ফার্নান্দেজ।
বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসেই অন্যতম ব্যয়বহুল গ্রীষ্মকালীন দলবদল হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে এটি। ইতিহাসের ১০টি সবচেয়ে ব্যয়বহুল চুক্তির তিনটিই ঘটেছে এই উইন্ডোতে এবং এর প্রতিটিই ছিল প্রিমিয়ার লিগে। এছাড়া প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ৫টি ট্রান্সফারের ৪টিই সম্পন্ন হয়েছে এবার।
আর্লিং হালান্ডের সঙ্গে এঞ্জো ফার্নান্দেজ ও তার প্রেমিকা। ছবি: ম্যানসিটি
প্রিমিয়ার লিগের বাইরে ৬০ মিলিয়ন পাউন্ডের বেশি খরচের চুক্তি হয়েছে মাত্র দুটি দলবদলে— ইয়ান দিওমান্দের রিয়াল মাদ্রিদে যোগদান এবং অ্যান্থনি গর্ডনের নিউক্যাসেল থেকে বার্সেলোনায় পাড়ি জমানো। সব মিলিয়ে প্রিমিয়ার লিগের বিশাল আর্থিক শক্তির সামনে অন্য সব লিগ ম্লান হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে ব্যয়বহুল ২০টি চুক্তির ১৪টিই সম্পন্ন করেছে ইংলিশ ক্লাবগুলো।
নতুন ম্যানেজার এঞ্জো মারেস্কার অধীনে দলবদলে সবচেয়ে বেশি দাপট দেখিয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। তারা গড়েছে এক উইন্ডোতে কোনো একক ক্লাবের সর্বোচ্চ খরচের নতুন লিগ রেকর্ড। ক্লাবটি খরচ করেছে ৪৫৮ মিলিয়ন পাউন্ড।
নবাগত ইপসউইচ টাউন খরচ করেছে ১৭১ মিলিয়ন পাউন্ড, যা ইউরোপীয় ফুটবলের পরাশক্তি বার্সেলোনা, এসি মিলান, জুভেন্টাস ও পিএসজির মোট খরচের চেয়েও বেশি ছিল। প্রিমিয়ার লিগে ফেরা হাল সিটিও ১৮ জন নতুন খেলোয়াড় সই করিয়ে দারুণ ব্যস্ত সময় পার করেছে।
প্রিমিয়ার লিগের মোট ২০টি ক্লাবের মধ্যে ১১টি ক্লাবই নিজেদের ইতিহাসের সর্বোচ্চ দামে খেলোয়াড় কেনার রেকর্ড ভেঙেছে, যার মধ্যে ৬টি ক্লাব একাধিকবার রেকর্ড গড়েছে।