২০২০ ও ২০২৪ সালের ইউ রোর কোয়ার্টার ফাইনাল খেলা সুইজারল্যান্ড ২০২২ বিশ্বকাপের শেষ ষোলো থেকে বিদায় নেয়। এবার বিশ্বকাপের শেষ আটে উঠলেন গ্রানিত শাকারা। অন্যদিকে, বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় চারবার খেলে তিনবারই বিদায় নিয়েছে কলম্বিয়া। ২০১৪ সালের ব্রাজিল আসরে তারা কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছে, যা বিশ্বকাপে তাদের সেরা সাফল্য। এছাড়া বিশ্বকাপ ইতিহাসে দশম দল হিসেবে একাধিক টাইব্রেকারে হারল কলম্বিয়া।
চলতি আসরে সর্বশেষ দল হিসেবে কোয়ার্টার ফাইনালে নাম লেখায় সুইজারল্যান্ড। তাদের সাফল্য ইউরোপের নিরঙ্কুশ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হলো। ৪৮ দলের এবারের ঐতিহাসিক আসরে কোয়ার্টার ফাইনালে আট দলের মধ্যে ছয়টিই ইউরোপের! এর আগে তিন আসরে (১৯৩৪—৮টি, ১৯৯৪—৭টি ও ১৯৫৮—৭টি) ইউরোপ মহাদেশ থেকে ছয়টির বেশি দেশ কোয়ার্টার ফাইনালে খেলেছে। ১৯৯৪ সালের পর এ প্রথম ইউরোপের বাইরে অনুষ্ঠিত কোনো বিশ্বকাপে ইউরোপের সবচেয়ে বেশি দল কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে।
এবার ইউরোপ থেকে শেষ আটে উঠেছে বর্তমান ইউরো চ্যাম্পিয়ন স্পেন, ২০১৮ সালের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স, ১৯৬৬ সালের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড, আর্লিং হালান্ডের নরওয়ে, বেলজিয়াম ও সুইজারল্যান্ড।
রেকর্ড বলে, ইউরোপের বাইরে ভালো করে না ইউরোপের দেশগুলো। ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় শিরোপা জয় করে স্পেন। ২০১৪ সালে ব্রাজিলে চ্যাম্পিয়ন হয় জার্মানি, যা ছিল আমেরিকার মাটিতে ইউরোপের কোনো দেশের বিশ্বকাপ জয়। তাদের পাশে আরেকটি ইউরোপের দেশ যুক্ত হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে এবার। আমেরিকার মাটিতে এবার লেখা হতে পারে ভিন্ন এক গল্প। আর্জেন্টিনা ও মরক্কো ছাড়া বাকি ছয়টি দলই যে ইউরোপের।
গতকাল কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে কলম্বিয়াকে টাইব্রেকারে হারিয়েছে সুইজারল্যান্ড। নির্ধারিত ৯০ মিনিট ও অতিরিক্ত সময়ের খেলায় কোনো দলই গোলের দেখা না পেলে ফল নির্ধারিত হয় টাইব্রেকারে। সেই ভাগ্য পরীক্ষায় ৪-৩ গোলের জয় তুলে নেয় সুইসরা। কলম্বিয়ার কুচো হার্নান্দেজের পেনাল্টি ঠেকিয়ে ‘রেড ক্রস’দের জয়ের নায়ক গোলকিপার গ্রেগর কোবেল।
সুইজারল্যান্ডের সামনে এবার ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা, যারা মঙ্গলবার রাতে ৩-২ গোলের স্নায়ুক্ষয়ী জয় তুলে নেয়। শাকাদের যাত্রা কি এখানেই থেমে যাবে?
লিওনেল মেসির দলকে অবশ্য ভয় পায় না ইউরোপীয় দলটি। সুইজারল্যান্ড কোচ মুরাত ইয়াকিন পরবর্তী প্রতিপক্ষ আর্জেন্টিনাকে নিয়ে বলেন, ‘বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে খেলাটাই আসল পরীক্ষা। এটা বিরল একটা সুযোগও বলতে পারেন। তবে আর্জেন্টিনা অজেয় নয়। অবশ্যই আমরা তাদের হারানোর চেষ্টা করব।’
এরপর আর্জেন্টিনার প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘আমরা দক্ষিণ আমেরিকার দলগুলোর মানসিকতা সম্পর্কে জানি, তাদের কাছে তো প্রতিটি ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ। আর্জেন্টিনা চমৎকার একটি দল, তাদের অনেক উচ্চ মানের খেলোয়াড় আছে, ভালো একজন কোচও আছে। আমরা জানি তারা কীভাবে খেলে। তাদের আছে মেসি, যে বিশ্বের সেরা।’