ম্যাচ শুরুর আগে চেলসির খেলোয়াড়রা যখন একে অপরের হাত ধরে গোল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন, তখন মনে হচ্ছিল কোনো এক অদম্য প্রতিরোধের শপথ নিচ্ছেন তারা। কিন্তু মাঠের লড়াই শুরু হতেই সে শপথ তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল। স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে পিএসজির রুদ্রমূর্তির সামনে চেলসিকে দেখাল একখণ্ড কাগজের মতো—অসহায়, লক্ষ্যহীন। ৩-০ গোলে পিছিয়ে থেকে প্রত্যাবর্তনের যে রূপকথা লিখতে চেয়েছিল ব্লুজরা, তা শেষ পর্যন্ত পিএসজির তরুণ তুর্কিদের দাপটে এক দুঃস্বপ্নে পরিণত হলো। লুইস এনরিকের শিষ্যরা যেন বুঝিয়ে দিলেন, ইউরোপের অভিজাত মঞ্চে নাম লেখাতে হলে যে কৌশলী ফুটবল প্রয়োজন, চেলসি বর্তমানে তার থেকে আলোকবর্ষ দূরে।
ম্যাচের শুরু থেকেই পিএসজির দাপট ছিল চোখে পড়ার মতো। গত তিন বছর ধরে লুইস এনরিকে যে তরুণ প্রতিভাদের নিয়ে বুনন শুরু করেছিলেন, তার ফল এখন হাতে-নাতে পাচ্ছে প্যারিস। বিপরীতে, কাঁড়ি কাঁড়ি অর্থ খরচ করেও চেলসির প্রজেক্ট যেন পরিণত হয়েছে এক ব্যর্থ গবেষণাগারে। লিয়াম রোসেনিয়রের শিষ্যদের মধ্যে সেই প্রাণশক্তি বা লড়াকু মানসিকতা দেখা যায়নি, যা ১৪ বছর আগে নাপোলির বিপক্ষে রূপকথার জন্ম দিয়েছিল। বরং গ্যালারি থেকে ভেসে আসা দুয়োধ্বনি আর রোসেনিয়রের কৌশলী পরিবর্তনগুলো সমর্থকদের ক্ষোভকেই উসকে দিয়েছে।
পিএসজির প্রথম গোলটি যেন চেলসির রক্ষণের কঙ্কালসার অবস্থাকেই ফুটিয়ে তুলল। গোলরক্ষক সাফোনোভের লং বল মামাদু সার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে সেই সুযোগ লুফে নিতে ভুল করেননি কাভিশা কাভারাশখেলিয়া। ক্লিনিকাল ফিনিশে বল জালে জড়িয়ে তিনি চেলসির কফিনে প্রথম পেরেকটি ঠুকে দেন। এরপর ব্র্যাডলি বারকোলার ২০ গজ দূর থেকে নেয়া এক নিখুঁত শট যখন চেলসি গোলরক্ষক রবার্ট সানচেজকে নড়তেই না দিয়ে টপ কর্নার দিয়ে জালে জড়াল, স্ট্যামফোর্ড ব্রিজের দর্শকরা তখন নিস্তব্ধ। রক্ষণের ভুলে প্রতিবারই প্রতিআক্রমণে চেলসিকে ছিন্নভিন্ন করে দিচ্ছিল ফরাসি জায়ান্টরা।
মরার ওপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে যোগ হয়েছে ট্রেভোহ চালোবাহর ইনজুরি এবং এনজো ফার্নান্দেজের মন্তব্য। স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়ার সময় চালোবাহর চোখে-মুখে যে আতঙ্কের ছাপ ছিল, তা চেলসি শিবিরের জন্য অশনিসংকেত। অন্যদিকে ম্যাচ শেষে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে এনজোর অস্পষ্ট মন্তব্য লন্ডনের এই ক্লাবটিতে চলমান নাটকের নতুন মাত্রা যোগ করেছে। কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে পিএসজি যখন শ্রেষ্ঠত্বের দিকে পা বাড়াচ্ছে, চেলসি তখন ডুবে আছে অন্তহীন অনিশ্চয়তায়।