পাকিস্তান ক্রিকেট দল বারবার বলে আসছে তারা আক্রমণাত্মক মানসিকতার ক্রিকেট খেলবে, ব্যাটারদের স্ট্রাইক রেটই হবে অগ্রাধিকার। কিন্তু ভারতের বিপক্ষে সুপার ফোরের ম্যাচে দেখা গেল সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র। প্রথম ১০ ওভারে দুর্দান্ত সূচনা করেও শেষার্ধে আবার পুরনো ছন্দে ফিরল পাকিস্তান—ধীর, অনিশ্চিত ও ভীতু ব্যাটিং।
কোচ মাইক হেসনের অধীনে বাবর আজম ও মোহাম্মদ রিজওয়ানকে টি-২০ দল থেকে সরিয়ে আনা হয়েছিল। যুক্তি—তাদের স্ট্রাইক রেট যথেষ্ট নয়। হেসন ঘোষণা করেছিলেন, আক্রমণাত্মক ব্যাটারদের জায়গা নিশ্চিত থাকবে, ব্যর্থ হলেও ভয় নেই। কিন্তু ভারতের বিপক্ষে দেখা গেল, সুযোগ পাওয়া ‘আক্রমণাত্মক’ ব্যাটাররাই আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেললেন মাঝপথে।
কিছুদিন আগে মোহাম্মদ নওয়াজকে 'বিশ্বের সেরা স্পিনার' হিসেবে আখ্যা দিয়েছিলেন হেসন। ভারতের বিপক্ষে নওয়াজ খেললেন ১৩ বলে ৭ রানের শম্বুকগতির ইনিংস। অথচ তাকে বলও করানো হলো না এ গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে!
জাসপ্রিত বুমরাহকে সাধারণ মানে নামিয়ে এনে পাকিস্তান ১০ ওভারে তুলেছিল রেকর্ড ৯১ রান—ভারতের বিপক্ষে তাদের সর্বোচ্চ। সাহিবজাদা ফারহান ঝড় তুলে করেছিলেন ৩৪ বলে হাফসেঞ্চুরি। মনে হচ্ছিল ‘নতুন পাকিস্তান’ সত্যিই গতি পেয়েছে। কিন্তু ড্রিঙ্কস বিরতির পরই সাইম আয়ুব আউট হতেই থেমে গেল রানের চাকা। পরের সাত ওভারে এল মাত্র ৩৮ রান, দেখা গেল টানা ৩৯ বল বাউন্ডারিহীন এক হতাশাজনক পরিসংখ্যান।
মাঝে নামা হুসেইন তালাত ১০ বলে করলেন মাত্র ১১, অধিনায়ক সালমান আগা খেললেন ১৩ বলে ১৩। তিন-চারে যারা সুযোগ পেলেন, তারাই খেললেন সবচেয়ে ধীর ইনিংস। অথচ ফাহিম আশরাফ শেষদিকে মাত্র আট বলে ২০ রান তুলে দেখালেন, আক্রমণ করলেই সুযোগ ছিল।
অধিনায়ক প্রসঙ্গেও দ্বিচারিতা খুঁজে পাওয়া কঠিন না। পাকিস্তানের কোচ ১২৯ স্ট্রাইক রেটের বাবর আজম ও ১২৫ স্ট্রাইক রেটের রিজওয়ানকে ধীর গতির ব্যাটিংয়ের জন্য দল থেকে বাদ দিলেও যে সালমান আগাকে অধিনায়ক করা হয়েছে, তার স্ট্রাইক রেট ১১১!
চার বছর আগে একই মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে বাবর–রিজওয়ানের ধীর ব্যাটিং নিয়ে সমালোচনা হয়েছিল। এবার বাবর–রিজওয়ান বাদ, কিন্তু চিত্র ভিন্ন হলো না। প্রথমার্ধে ঝড় তুলেও শেষ ১০ ওভারে তুলতে পারল মাত্র ৮০ রান—যা আবারও রেখে গেল ব্যর্থতার ছাপ।
ভারতের বিপক্ষে হার পাকিস্তানের জন্য নতুন নয়। জিতলেই বরং বড় খবর হতো। আপাত স্বাভাবিক ঘটনাতেই উঠে এল বড় প্রশ্ন— হেসনের ঘোষিত নতুন দর্শন বাস্তবে কার্যকর হচ্ছে কি না। ১০ ওভারের সাহসী শুরু দেখাল তারা বদলাতে চায়, কিন্তু পরের ১০ ওভারে আবারও ধরা দিল পুরনো মানসিকতা। পাকিস্তান যা বলে, মাঠে করে দেখায় ঠিক তার উল্টোটা।