ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে আজ মুখোমুখি হবে দুই শিরোপাপ্রত্যাশী লিভারপুল ও ম্যানচেস্টার সিটি। ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ৯টায়।
এমন সময়ে লিভারপুলের মতো বড় দলের মুখোমুখি হবে ম্যানসিটি, যখন প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় কেলেঙ্কারির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে ক্লাবটির বিরুদ্ধে। শীর্ষ তারকা খেলোয়াড়দের কেনার কাজ সহজ করতে ম্যানসিটি তাদের আয় ১০০ কোটি ডলার (১২ হাজার ৩৩১ কোটি টাকা) বেশি দেখিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আর্থিক অনিয়মে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পরও ক্লাবটির মালিক পক্ষের পাশে দাঁড়িয়েছেন কোচ এনজো মারেস্কা। শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, সিটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের ওপর তার পূর্ণ আস্থা রয়েছে। একই সঙ্গে লিগে ক্লাবটির আধিপত্য ও সাফল্য এ রায়ের ফলে কলঙ্কিত হয়েছে—এমন দাবিও তিনি নাকচ করে দেন।
একটি স্বাধীন প্যানেলের রায় প্রকাশের পর নিজের প্রথম সংবাদ সম্মেলনে মারেস্কা বলেন, ‘বর্তমান, ভবিষ্যৎ ও সবসময়ই এ ক্লাবের ওপর আমার সম্পূর্ণ আস্থা আছে। আমি এ ক্লাবে যোগ দিয়েছি। কারণ এর মালিক, সিইও, স্পোর্টস ডিরেক্টর ও পুরো ক্লাব সংগঠনের ওপর আমার শতভাগ বিশ্বাস আছে। এ বিষয়ে আমার কোনো সন্দেহ নেই।’
ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে ২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ নয় বছর ধরে তাদের আর্থিক বিষয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। এ সময়ের মধ্যেই দলটি তিনটি প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা জিতেছে এবং ইয়াইয়া তোরে, সার্জিও আগুয়েরো ও কেভিন ডি ব্রুইনার মতো তারকা খেলোয়াড়রা এসেছেন ইতিহাদে। রায়ে বলা হয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত সমর্থিত ক্লাবটি বড় তারকাদের দলে টানার জন্য তাদের আয় কৃত্রিমভাবে ১০০ কোটি ডলারেরও বেশি বাড়িয়ে দেখিয়েছে এবং ১১৫টিরও বেশি নিয়মের প্রায় সবই ভঙ্গ করেছে।
সিটি কর্তৃপক্ষ অবশ্য শুরু থেকেই এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে এবং এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছে। লিভারপুল ম্যাচের আগে স্বাভাবিকভাবেই সংবাদ সম্মেলনে মূল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল এ বিস্ফোরক রায়।
ক্লাবের আপিল প্রসঙ্গে মারেস্কা বলেন, ‘আমরা যখন আপিলে জয়ী হব, তখন এ পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে চাই।’ রায়টি সিটির এক দশকেরও বেশি সময়ের আধিপত্যকে ম্লান করে দিয়েছে কিনা—এমন প্রশ্নে তিনি সরাসরি বলেন, ‘একেবারেই না।’
গত মৌসুমের শেষে বিদায় নেন স্প্যানিশ কোচ পেপ গার্দিওলা। তার ১০ বছরের অধ্যায়ে অভূতপূর্ব সাফল্য পায় সিটিজেনরা। এরপর মারেস্কাকে হেড কোচ নিয়োগ করে সিটি। ২০২৩ সালে সিটি যখন প্রিমিয়ার লিগ, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, এফএ কাপসহ ট্রেবল জিতেছিল, তখন গার্দিওলার সহকারী হিসেবে কাজ করেছিলেন মারেস্কা।
এ রায়ের ফলে সিটির ওপর বড় অংকের জরিমানা, পয়েন্ট কর্তন, এমনকি লিগ থেকে বহিষ্কারের মতো কঠোর শাস্তি আসতে পারে। তবে মারেস্কা জানান, দায়িত্ব নেয়ার আগেই যদি এ রায় আসত, তাহলেও তিনি ১০০ শতাংশ এ ক্লাবের কোচের দায়িত্ব নিতেন।
আপাতত তার মূল কাজ খেলোয়াড়দের মাঠের খেলায় মনোযোগী রাখা। বাস্তবতা মেনে নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা পরিস্থিতির গুরুত্ব পুরোপুরি বুঝি। খেলোয়াড়রাও এটা বোঝে। তবে বাইরের আলোচনা ও গুঞ্জন সামলানো আমাদের দায়িত্ব ও কাজ না। আমরা মাঠের ভেতরের অংশটুকুই শুধু নিয়ন্ত্রণ করতে পারি এবং আমাদের পুরো মনোযোগ এখন সেখানেই।’
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কোচ মাইকেল ক্যারিক বলেন, ‘এ রায় অনেক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।’ ২০১২ সালে ম্যানইউর খেলোয়াড় হিসেবে তারা সিটির কাছে শিরোপা হারিয়েছেন। সিটির সেই শিরোপা কেড়ে নিয়ে যদি ম্যানইউকে ফিরিয়ে দেয়া হয়? এ নিয়ে তিনি বলেন, ‘তাতে সে সময়ের আবেগ বদলে যাবে না। সেই মুহূর্তটা আমরা আর ফিরে পাব না।’
কভেন্ট্রির কোচ ফ্র্যাঙ্ক ল্যাম্পার্ড, যিনি ক্যারিয়ারের শেষ দিকে কিছুদিন সিটিতে খেলেছিলেন, তিনিও একই সুর মিলিয়েছেন। চেলসির হয়ে একাধিক শিরোপাজয়ী ল্যাম্পার্ড বলেন, ‘আমার শিরোপাগুলো ঘরের দেয়ালে টাঙানো নেই, সেগুলো আমার মনে আছে। তাই কোনো খেলোয়াড়ের কাছ থেকে তার শিরোপা কেড়ে নেয়া খুব কঠিন কাজ।’
২০১২ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত সিটিতে খেলা ভিনসেন্ট কোম্পানি এখন বায়ার্ন মিউনিখের কোচ। তিনি বলেন, ‘আমি সেখানে ১১ বছর খেলেছি এবং মাঠে আমরা খেলোয়াড় হিসেবে যা অর্জন করেছি, তার পেছনে আমি সম্পূর্ণভাবে আছি।’