মেগা নিলাম প্রতি পাঁচ বছরে একবার করা, দলগুলোকে সর্বোচ্চ পাঁচজন খেলোয়াড় ধরে রাখার সুযোগ দেয়া, প্রতিটি ফ্র্যাঞ্চাইজিকে আটজন ‘রাইট টু ম্যাচ (আরটিএম)’ অপশন দেয়া এবং খরচের সীমা ১৩০-১৪০ কোটি রুপিতে নিয়ে যাওয়া—আইপিএলের প্রধান নির্বাহী হেমাং আমিনের কাছে এমনই বেশকিছু দাবি উত্থাপন করেছে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো। ২০২৫ সালের আইপিএল নিলাম সামনে রেখে ফিডব্যাক সেশনে এ দাবিগুলো তুলেছে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো। আগামী সপ্তাহে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর সঙ্গে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) কর্মকর্তাদের বৈঠকে বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে। যদিও বৈঠকের দিনক্ষণ এখনো ঠিক হয়নি।
গভর্নিং বডি যদি ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর পরামর্শ গ্রহণ করে তবে একবার নিলামে একটি নির্দিষ্ট দামে কেনার পরও আইপিএলে খেলোয়াড়দের বেতন-ভাতা বেড়ে যেতে পারে। খেলোয়াড়দের বেতনের জন্য দলগুলোকে সর্বোচ্চ খরচের যে সীমা বেঁধে দেয় গভর্নিং বডি, সেটিও ৯০ কোটি রুপি থেকে বেড়ে ১৩০-১৪০ কোটি রুপি হতে পারে। একটি সূত্র ইএসপিএনক্রিকইনফোকে জানিয়েছে, ‘অনেক দিন ধরেই এটি ঝুলে আছে। স্যালারি ক্যাপ সম্ভবত ৯০ কোটি থেকে বাড়িয়ে ১৩০-১৪০ কোটি রুপি করা হবে। চলতি মিডিয়াস্বত্ব চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৫ ও ২০২৬ সালের আইপিএলে ৮৪টি করে ম্যাচ হবে। ২০২৭ আইপিএলে হবে ৯৪টি ম্যাচ। ম্যাচ বেশি হলে বিরতিও কমে যাবে। খেলোয়াড়েরা বিশ্রাম কম পাবেন। তাই বেশি টাকা চাইতে ও প্রত্যাশা করতেই পারেন তারা।’
এ কারণেই আগামী ডিসেম্বরে আইপিএলের মেগা নিলামে খেলোয়াড়দের আরো বেশি অর্থ পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
বর্তমান নিয়মে কী হয়? নিলামে একজন খেলোয়াড়কে যে দামে কেনা হয়, সেটি পরবর্তী সময়ে আর বাড়ানোর সুযোগ নেই। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন কলকাতা নাইট রাইডার্সের কথাই ধরা যাক। অস্ট্রেলিয়ান পেস বোলার মিচেল স্টার্ককে যেমন রেকর্ড ২৪ কোটি ৭৫ লাখ রুপিতে কিনেছে শাহরুখ খানের দল। আবার ভারতীয় ব্যাটার রিংকু সিংকে মাত্র ৫৫ লাখ রুপি দেয়া হয়েছে। রিংকু সিংয়ের পারিশ্রমিক নিয়ে কথা উঠলেও মধ্যপথে তাকে বেশি অর্থ দেয়ার সুযোগ কি ছিল? এখন এ নিয়ম বদলাতে চায় ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো। মূলত পরবর্তী নিলামে যাতে অন্য দল একজন কোনো খেলোয়াড়কে ছিনিয়ে নিতে না পারে, সেজন্যই এমন নিয়ম চাওয়া হচ্ছে।
এক ফ্র্যাঞ্চাইজি কর্মকর্তা এ নিয়ে টাইমস অব ইন্ডিয়াকে বলেছেন, ‘চাকরির মতো এখানে তো একজন খেলোয়াড়ের বেতন বৃদ্ধির সুযোগ নেই। ধরা যাক, কাউকে ৩০ লাখ রুপিতে কেনা হলো। এরপর তার আইপিএলটি দুর্দান্ত কাটল। ফলে ফ্র্যাঞ্চাইজির হাতে এমন উপায় থাকা উচিত, যাতে ধরুন পরের বছর তাকে ৩ কোটি রুপির নতুন একটি চুক্তির প্রস্তাব দেয়া যায়। অন্য কোনো দলের কাছে তাকে হারিয়ে না ফেলার উপায় এটা। অন্য দলগুলো তখন খেলোয়াড় ছিনিয়ে নিতে পারবে না। ভালো পারফর্ম করা খেলোয়াড়ের বেতন নিয়ে দরকষাকষির সুযোগ ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোকে দেয়া উচিত। এর মাধ্যমে আগের মৌসুমের সেরা খেলোয়াড়কে তারা ধরে রাখতে পারবে। সে খেলোয়াড় তাকে ছেড়ে দিতে বলবে বা অন্য দল তাকে কিনে নেবে, এমন চিন্তা করা লাগবে না। ভালো অংকের বেতন বৃদ্ধি পেলে খেলোয়াড়ও খুশি থাকবে। ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো খুশি থাকবে অন্য দলগুলো তাদের পছন্দের খেলোয়াড়কে ছিনিয়ে নিতে পারবে না বলে।’
এবার আসা যাক মেগা নিলাম নিয়ে। খেলোয়াড় ধরে রাখা ও আরটিএম কীভাবে কাজ করে? ২০১৮ সালের মেগা নিলামে প্রথম খেলোয়াড় ধরে রাখা ও আরটিএমের সমন্বিত একটি পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছিল। সে সময় এক দল সর্বোচ্চ পাঁচজন ধরে রাখতে পারত, যদিও সর্বোচ্চ তিনজনকে রাখা যেত নিলামের আগে। আর সর্বোচ্চ তিনজনকে নিলামে আরটিএম পদ্ধতিতে আবার কিনে নিতে পারত দলগুলো। মানে আগের খেলোয়াড়কেই ধরে রাখা।
এখন পাঁচ বছরে মেগা নিলাম একবার চাওয়ার বিষয় নিয়ে এক ফ্র্যাঞ্চাইজি কর্মকর্তা বলেন, ‘যাতে ধারাবাহিকতাটা নিশ্চিত করা যায়। তিন বছরের চেয়ে পাঁচ বছর অন্তর মেগা নিলাম করাটাই বেশি যুক্তিযুক্ত। মেগা নিলামের মাঝখানে বেশি ব্যবধান থাকলে দলগুলো খেলোয়াড়দের সেরাটি বের করে আনতে পারবে। তারা তরুণ থাকা অবস্থায় যেটি বিনিয়োগ করা হয়েছিল। বিশেষ করে আমাদের যাদের তৃণমূল পর্যায়ে একাডেমি আছে, তাদের খেলোয়াড়দের উন্নয়নে বিনিয়োগ করার সুযোগ করে দেবে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, একজন তরুণ ভারতীয় ক্রিকেটারের বেড়ে উঠতে বছর দুয়েক লাগে। কিন্তু তিন বছর পরই আপনি তাকে হুট করে হারিয়ে ফেলবেন মেগা নিলামে। এটা ন্যায়সংগত নয়।’
প্রাথমিকভাবে আটজন খেলোয়াড় ধরে রাখার কথা উঠলেও সেটি কমে আসবে বলে জানা গেছে। আরটিএম পদ্ধতি রাখা হবে কিনা, সেটি নিশ্চিত নয়। ২০২২ সালের মেগা নিলামে দলগুলোর চারজন করে খেলোয়াড় ধরে রাখার নিয়ম ছিল, কিন্তু কোনো আরটিএম ছিল না। সেবার নতুন দল গুজরাট টাইটান্স ও লক্ষ্ণৌ সুপার জায়ান্টসকে খেলোয়াড় বাছাইয়ে বেশি সুযোগ করে দিতে এমন করা হয়েছিল।
২০২৪ সালের আইপিএলের আলোচিত ও বিতর্কিত বিষয় ছিল ‘ইমপ্যাক্ট’ খেলোয়াড়। মানে বদলি খেলোয়াড় ব্যবহার করা। ফিল্ডিং করার পর কোনো দল চাইলে একজন বোলারকে তুলে নিয়ে তার জায়গায় একজন ব্যাটারকে খেলাতে পারে। আবার পরে বোলিং করা দলটি একজন ব্যাটারকে উঠিয়ে একজন বোলারকে খেলাতে পারেন। ম্যাচে ইমপ্যাক্ট ফেলতে পারেন, এমন খেলোয়াড় নামানোর সুযোগ থাকে এ নিয়মে। বিতর্কিত হলেও নিয়মটি অন্তত আরো এক বছরের জন্য টিকে যেতে পারে। চলতি মাসের শেষ দিকে মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে বিসিসিআই কার্যালয়ে গভর্নিং বডি ও ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকদের বৈঠকে এসব চূড়ান্ত করা হবে।