মাঠ ছাড়ার সময় অস্ট্রেলিয়ার স্কোর ছিল ৯ উইকেটে ১৯১ রান। ২৮৫ রানের টার্গেটে ব্যাট করা অজিদের প্রয়োজন ছিল ৪৬ বলে ৯৪ রান। এরপর আর মাঠে খেলা না গড়ালে ডিএলএস মেথডে ৮৬ রানের জয় পায় স্বাগতিকরা। ঘরের মাঠে ওয়ানডে ম্যাচে সাতবারের চেষ্টায় অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এটা টাইগারদের প্রথম জয়।
ওয়ানডেতে ২৩ বারের মোকাবেলায় এটা বাংলাদেশের মাত্র দ্বিতীয় জয়। অস্ট্রেলিয়া ২০টিতে জিতেছে, পরিত্যক্ত হয় একটি। বাংলাদেশের মাটিতেও কর্তৃত্ব করে এসেছে অজিরা। এর আগের ছয়টিতেই তারা জিতেছে। ২০০৬ সালে প্রথমবার বাংলাদেশ সফরে এসে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ৩-০-তে জয়লাভ করে অজিরা। ২০১১ সালে মিরপুরে তিন ম্যাচের সিরিজে বাংলাদেশকে হোয়াইটওয়াশ করে তারা। এবার অস্ট্রেলিয়াকে হারের স্বাদ দিল মেহেদী হাসান মিরাজের দল। এর আগে ২০০৫ সালে যুক্তরাজ্যের কার্ডিফে মোহাম্মদ আশরাফুলের সেঞ্চুরিতে ভর করে পরাশক্তি অস্ট্রেলিয়াকে প্রথমবার হারিয়েছিল বাংলাদেশ। দীর্ঘ ২১ বছর পর এল দ্বিতীয় জয়।
প্রায় চার বছর পর ওয়ানডে দলে ফেরা মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের অলরাউন্ড নৈপুণ্যে জিতেছে বাংলাদেশ। সঙ্গে ছিল গতি বোলার নাহিদ রানার আরেকটি অনবদ্য পারফরম্যান্স। সৈকত ৭০ বলে ৮৬ রান করার পর ৩৭ রানে ২ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা। আর নাহিদ রানা ৪১ রানে নিয়েছেন ৪ উইকেট।
সফরকারীরা ২৮৫ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে ২ রানে ২ উইকেট হারায়। ইনিংসের প্রথম বলেই উইকেট হারায় তারা। ম্যাথিউ শর্টকে বোল্ড করে সাজঘরে ফেরান তাসকিন আহমেদ। দ্বিতীয় ওভারের দ্বিতীয় বলে মারনাস লাবুশেনকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন মুস্তাফিজুর রহমান (২/২)। এরপর নাহিদ রানার গতি আর মোসাদ্দেকের ঘূর্ণিতে এলোমেলো অজিরা। অধিনায়ক জস ইংলিস, অ্যালেক্স ক্যারি, লিয়াম স্কট ও জাভিয়ের বার্টলেটকে গতিতে হারিয়ে সাজঘরে ফেরান তিনি।
গত ২০ এপ্রিল এ মিরপুরে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৩২ রানে ৫ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশকে জেতান নাহিদ রানা। এরপর চট্টগ্রামে তৃতীয় ওয়ানডে ম্যাচে তিনি নেন ৩৭ রানে ২ উইকেট। সেই ফর্ম এবার অস্ট্রেলিয়া সিরিজেও টেনে আনলেন এ পেস সেনসেশন। গতকাল নিজেদের দুর্গে গতির ঝড় তুলে এলোমেলো করে দেন অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপ।
নাহিদ ও মোসাদ্দেক ছাড়াও বল হাতে আলো ছড়ান মুস্তাফিজ ও তাসকিন। ‘ফিজ’ ২৪ রানে ২টি ও তাসকিন ২৮ রানে ১টি উইকেট নেন।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নামা বাংলাদেশকে ভালো সংগ্রহ এনে দেন মোসাদ্দেক হোসেন, নাজুমল হোসেন শান্ত ও তানজিদ হোসেন তামিম। মোসাদ্দেক ৭০ বলে ৮৬, শান্ত ৮৬ বলে ৬৭ ও তানজিদ ৪৪ বলে ৫৪ রান করেন। তাওহীদ হৃদয় ৫১ বলে ৩১ রান করে ইনিংস গড়ার পথে ভূমিকা রাখেন। আর শেষ দিকে ১৬ বলে ২০ রান করে ইনিংসটা বড় করতে সাহায্য করেন।
আগের ৪৩টি ওয়ানডেতে মোসাদ্দেকের ফিফটি মাত্র ৩টি। প্রায় চার বছর পর ফিরেই ক্যারিয়ারসেরা ইনিংস খেললেন তিনি। ৭০ বলে ৭ বাউন্ডারি ও ৩ ছক্কায় রাজসিক এক ইনিংস খেলেন এ ব্যাটার। এ পথে তাওহীদ হৃদয়কে নিয়ে ৯০ বলে ৭৫, তাসকিন আহমেদকে নিয়ে ৩৩ বলে ৪৫ ও তানভীর ইসলামকে নিয়ে ১১ বলে ২০ রানের জুটি গড়েন ৩০ বছর বয়সী মোসাদ্দেক।
বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় একই মাঠে দ্বিতীয় ওয়ানডে। রোববার তৃতীয় ও শেষ ম্যাচ। এরপর চট্টগ্রামে রয়েছে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ: ৫০ ওভারে ২৮৪/৮ (মোসাদ্দেক ৮৬, শান্ত ৬৭, তানজিদ ৫৪; এলিস ৩/৩৮)। অস্ট্রেলিয়া: ৪২.২ ওভারে ১৯১/৯ (গ্রিন ৫২, ক্যারি ৪৭, কুপার ৩৫; নাহিদ ৪/৪১, মুস্তাফিজ ২/২৪, মোসাদ্দেক ২/৩৭)। ফল: বাংলাদেশ ৮৬ রানে জয়ী (ডিএলএস)। ম্যাচসেরা: মোসাদ্দেক হোসেন। সিরিজ: বাংলাদেশ ১-০-তে এগিয়ে।