আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষবারের মতো নামছেন মেসি

মেসির আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর একটি অনিবার্য প্রশ্ন সামনে নিয়ে এসেছে—আর্জেন্টিনা কি বিশ্ব ফুটবলে অভিজাতদের কাতারে টিকে থাকতে পারবে, নাকি দিয়েগো ম্যারাডোনার বিদায়ের পর যে ৩৫ বছরের ট্রফিহীন খরা তৈরি হয়েছিল—তেমনই একটি দীর্ঘ খরার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে?

দুই দশক ধরে বিশ্ব ফুটবল শাসন করা লিওনেল মেসি আগস্টে ঘোষণা দেন, আর্জেন্টিনার জার্সিটা তিনি এবার তুলে রাখতে চান। বাংলাদেশ সময় বুধবার ভোর ৫টায় শেষবারের মতো আর্জেন্টিনার জার্সিতে মাঠে নামছেন আটবারের এ ব্যালন ডি’অরজয়ী। ৩৯ বছর বয়সী মহাতারকাকে বিদায় জানাতে তৈরি বুয়েনস এইরেসের এস্তাদিও মনুমেন্টাল স্টেডিয়াম। আফ্রিকার দল বেনিনের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে আর্জেন্টাইন সমর্থকরাও শেষবারের মতো ‘মেসি’ ‘মেসি’ বলে গলা ফাটানোর সুযোগ পাচ্ছেন।

মেসি বিদায় নিলেও রেখে যাচ্ছে অনন্য সাধারণ সব কীর্তি। ২০২২ সালের বিশ্বকাপ জয় ছাড়াও আরো দুটি বিশ্বকাপের ফাইনাল (২০১৪, ২০২৬), দুটি কোপা আমেরিকা ট্রফি জয় (২০২১, ২০২৪), একটি অলিম্পিক স্বর্ণপদক জয় (২০০৮) এবং জাতীয় দলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা (১২৫টি) তিনি। এছাড়া অসংখ্য শিরোপা আর স্বীকৃতি তার শোকেসে ভরা।

মেসির আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর একটি অনিবার্য প্রশ্ন সামনে নিয়ে এসেছে—আর্জেন্টিনা কি বিশ্ব ফুটবলে অভিজাতদের কাতারে টিকে থাকতে পারবে, নাকি দিয়েগো ম্যারাডোনার বিদায়ের পর যে ৩৫ বছরের ট্রফিহীন খরা তৈরি হয়েছিল—তেমনই একটি দীর্ঘ খরার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে?

আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী দলের কোচ লিওনেল স্কালোনি তার প্রিয় শিষ্যের বিদায়ের পরের শূন্যতা নিয়ে বলেন, ‘মেসি যা রেখে যাচ্ছেন তা অতুলনীয়। আমাদের খেলা চালিয়ে যেতে হবে, তবে মাঠে তাকে পাওয়ার অনুভূতিটা সম্পূর্ণ অন্যরকম। ফুটবল মাঠে সে যা প্রকাশ করে, তেমনটা আমি অন্য কাউকে করতে দেখিনি এবং এটাই আমরা মিস করতে যাচ্ছি। তবে আর্জেন্টিনা জাতীয় দল টিকে থাকবে। আমরা উঁচু স্তরেই থাকব, এ বিষয়ে আমার কোনো সন্দেহ নেই।’”

বিশ্বকাপের পর মেসিকে ছাড়া খেলা প্রথম দুটি ম্যাচ জিতেছে আর্জেন্টিনা। দুর্দান্ত পারফর্ম করে তারা বলিভিয়াকে ৪-০ ও ও বুরকিনা ফাসোকে ৭-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে। প্রতিপক্ষদের শক্তিমত্তা যেমনই হোক না কেন, এ ম্যাচগুলো আর্জেন্টিনার সামনে কী অপেক্ষা করছে তার একটি দারুণ আভাস দিয়েছে।

এমিলিয়ানো মার্তিনেস, ক্রিস্তিয়ান রোমেরো, এনজো ফার্নান্দেজ ও লাউতারো মার্তিনেসের মতো প্রতিষ্ঠিত তারকাদের পাশাপাশি নতুন প্রতিভাদের এক রোমাঞ্চকর জোয়ার দেখা গেছে—যার মধ্যে রয়েছেন ক্রিয়েটিভ মিডফিল্ডার নিকোলাস পাজ ও ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুয়োনো এবং উইঙ্গার জিয়ানলুকা প্রেস্তিয়ানি ও লিওনেল ফ্লোরেস। বোকা জুনিয়র্সের একজন তরুণ খেলোয়াড় ফ্লোরেস, যার মাত্র দুই মাস আগে পেশাদার ফুটবলে অভিষেক হয়েছে এবং এরই মধ্যে জাতীয় দলের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন।

আরও