স্প্যানিশ ডিফেন্ডার আইমেরিক লাপোর্ত

‘আর্জেন্টিনা এমন কিছু কৌশল ব্যবহার করে, যা ফুটবলে চলতে দেয়া উচিত নয়’

সরাসরি আর্জেন্টিনার নাম উল্লেখ করে লাপোর্ত বলেন, ওরা এমন একটা দল যারা প্রতিপক্ষের ওপর (শারীরিক ও মানসিকভাবে) আঘাত বা দাগ রেখে যেতে পছন্দ করে। এ ধরণের আচরণ বিশেষ করে বিশ্বকাপের মতো বড় টুর্নামেন্টে চলতে দেয়া উচিত নয়। কারণ এগুলো আপনাকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দিতে পারে এবং আপনার মেজাজ বিগড়ে দিতে পারে।

বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে মাঠের বাইরের লড়াই বেশ জমে উঠেছে। স্প্যানিশ কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের পর এবার আর্জেন্টিনার খেলার ধরণ ও কৌশল নিয়ে সরাসরি বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন স্পেনের তারকা ডিফেন্ডার আইমেরিক লাপোর্ত। তার অভিযোগ, আর্জেন্টিনা দল মাঠে এমন কিছু ‘কৌশল’ (ট্রিকস) ব্যবহার করে যা ফুটবলে মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়।

ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে ২০১০ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে লা রোহারা। পুরো টুর্নামেন্টে স্পেনের রক্ষণভাগের মূল স্তম্ভ লাপোর্ত। রোববার তরুণ তুর্কি পাউ কুবার্সির সঙ্গে জুটি বেঁধে সামলাবেন লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনাকে। তবে মাঠে নামার আগেই আলবিসেলেস্তেদের ‘অতিরিক্ত শারীরিক ফুটবল’ ও ‘মাঠের নোংরা কূটকৌশল’ (গেমসম্যানশিপ) নিয়ে রেফারিকে কড়া বার্তা দিলেন এ আল-নাসর ডিফেন্ডার।

ফাইনালের আগে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে লাপোর্ত বলেন, ফুটবলের স্বাভাবিক নিয়মের মধ্যে থাকা আগ্রাসন নিয়ে আমি মোটেও চিন্তিত নই। যদি তা নিয়মের ভেতরে থাকে এবং রেফারি নিজের কাজ ঠিকঠাক করেন, তবে আমার কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু এটাও সত্যি, সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোয় এমন কিছু জিনিস দেখেছি যা আমাদের অবাক করেছে—এমন কিছু কাণ্ড যা রেফারিরা স্রেফ এড়িয়ে গেছেন।

সরাসরি আর্জেন্টিনার নাম উল্লেখ করে লাপোর্ত বলেন, বিশেষ করে আর্জেন্টিনার কথা বলতে হয়, ওরা এমন একটা দল যারা প্রতিপক্ষের ওপর (শারীরিক ও মানসিকভাবে) আঘাত বা দাগ রেখে যেতে পছন্দ করে। এ ধরণের আচরণ বিশেষ করে বিশ্বকাপের মতো বড় টুর্নামেন্টে চলতে দেয়া উচিত নয়। কারণ এগুলো আপনাকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দিতে পারে এবং আপনার মেজাজ বিগড়ে দিতে পারে।

কোচ দে লা ফুয়েন্তের সুরে সুর মিলিয়ে লাপোর্তও ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্লোভেনিয়ান রেফারি স্লাভকো ভিনচিচের ওপর চাপ বাড়ালেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, ম্যাচ যেন হাতছাড়া হয়ে না যায়, সেটা নিয়ন্ত্রণ করার দায়িত্ব রেফারির। যদি মাঠের ভেতরে এক বা দুজন খেলোয়াড়কে এ ধরণের আচরণ করার ছাড় দেয়া হয়, তবে পুরো ম্যাচটাই বিশৃঙ্খলায় রূপ নেবে।

স্লোভেনিয়ান রেফারি স্লাভকো ভিনচিচ

নিজেদের ফেয়ার-প্লে’র প্রশংসা করে লাপোর্ত যোগ করেন, টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই আমরা অত্যন্ত পরিচ্ছন্ন ও সুশৃঙ্খল ফুটবল খেলেছি। আমরা প্রতিপক্ষকে অযথা আঘাত করি না বা বেপরোয়া ফাউল করি না। ফাইনালে আমাদের এটাই করা উচিত। তবে ম্যাচটি কতটা শান্তিপূর্ণ থাকবে, তা অনেকটাই নির্ভর করবে রেফারি কেমন বাঁশি বাজাচ্ছেন তার ওপর।

লাপোর্তের এ বিস্ফোরক মন্তব্য ফাইনালের রেফারি ৪৬ বছর বয়সী স্লাভকো ভিনচিচের ওপর বাড়তি মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করবে। এটি চলতি বিশ্বকাপে ভিনচিচের চতুর্থ ম্যাচ হতে যাচ্ছে। ইতিমধ্যেই একজন খেলোয়াড়কে (ইকুয়েডরের পিয়েরো হিনকাপি) লাল কার্ড দেখিয়েছেন তিনি। এখন দেখার বিষয়, রোববারের হাই-ভোল্টেজ ফাইনালে লাপোর্তের এ অভিযোগ রেফারি কীভাবে দেখেন আর মেসিদের আগ্রাসী ফুটবলের সামনে স্প্যানিশ রক্ষণভাগ কতটা অবিচল থাকে।

আরও