টেনিস কিংবদন্তি রজার ফেদেরার এখন বিলিয়নেয়ার

আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব এবং পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি তাকে বিলাসবহুল পণ্যের প্রতীক করে তুলেছে।

৪৪ বছর বয়সী ফেদেরার ২০২০ সালেই বিশ্বের সবচেয়ে বেশি আয় করা ক্রীড়াবিদ হিসেবে স্থান করে নিয়েছিলেন। সে বছর তার মোট প্রাক-কর আয় ছিল ১০৬ দশমিক ৩ মিলিয়ন ডলার। তিনি তার ক্যারিয়ারে মোট ১৩১ মিলিয়ন ডলার প্রাইজ মানি জিতেছেন, যা টেনিস ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ।

টেনিস ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় রজার ফেদেরার এখন বিলিয়নেয়ার। ফোর্বস-এর এক নতুন হিসাব অনুযায়ী, ফেদেরারের মোট সম্পদ এখন ১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার। এর পেছনে তার নিজের প্রতিষ্ঠিত জুতা এবং পোশাকের ব্র্যান্ড 'অন'-এর একটি বড় অংশের মালিকানা রয়েছে।

৪৪ বছর বয়সী ফেদেরার ২০২০ সালেই বিশ্বের সবচেয়ে বেশি আয় করা ক্রীড়াবিদ হিসেবে স্থান করে নিয়েছিলেন। সে বছর তার মোট প্রাক-কর আয় ছিল ১০৬ দশমিক ৩ মিলিয়ন ডলার। তিনি তার ক্যারিয়ারে মোট ১৩১ মিলিয়ন ডলার প্রাইজ মানি জিতেছেন, যা টেনিস ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ। তার প্রতিদ্বন্দ্বী নোভাক জোকোভিচ (১৮৯ মিলিয়ন ডলার) এবং রাফায়েল নাদাল (১৩৫ মিলিয়ন ডলার) কেবল তার চেয়ে এগিয়ে আছেন।

কোর্ট ও কোর্টের বাইরে ফেদেরারের সাফল্য ২৪ বছরের পেশাদার টেনিস জীবনে ফেদেরার রেকর্ড ৩১০ সপ্তাহ ধরে বিশ্বের এক নম্বর খেলোয়াড় ছিলেন। তিনি ১০৩টি টুর্নামেন্ট জিতেছেন— যার মধ্যে ২০টি গ্র্যান্ড স্ল্যাম সিঙ্গেলস শিরোপা এবং দুটি অলিম্পিক পদক রয়েছে।

তবে কোর্টের বাইরে তার সাফল্য ছিল আরো বেশি। ফোর্বসের হিসাব অনুযায়ী, ফেদেরার তার টেনিস ক্যারিয়ারে এন্ডোর্সমেন্ট, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উপস্থিতি এবং অন্যান্য ব্যবসায়িক উদ্যোগ থেকে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার (কর ও এজেন্টের ফি বাদ দিয়ে) আয় করেছেন। এই আয় জোকোভিচ বা নাদালের আয়ের দ্বিগুণেরও বেশি। ফেদেরারের স্পন্সর তালিকায় ছিল লিন্ড, মার্সিডিজ-বেঞ্জ, রোলেক্স এবং মোয়েট অ্যান্ড চ্যান্ডনের মতো নামী ব্র্যান্ড। আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব এবং পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি তাকে বিলাসবহুল পণ্যের প্রতীক করে তুলেছে।

খেলোয়াড়ি জীবনে সক্রিয় থাকা অবস্থায় প্রাক-কর আয় এক বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করা মাত্র সাতজন অ্যাথলেটের একজন ফেদেরার। এ তালিকায় আরো আছেন লস অ্যাঞ্জেলেস লেকারসের তারকা লেব্রন জেমস, গলফার টাইগার উডস ও ফিল মিকেলসন, ফুটবলার লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো এবং মুষ্টিযোদ্ধা ফ্লয়েড মেওয়েদার।

২০১৮ সালে ফেদেরার নাইকি ছেড়ে জাপানি ব্র্যান্ড ইউনিকলোর সঙ্গে ১০ বছরের জন্য ৩০০ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি করেন। এরপর তিনি জুরিখভিত্তিক জুতার ব্র্যান্ড 'অন'-এর সঙ্গে অংশীদারত্বের সুযোগ নেন। ২০১৯ সালে ফেদেরার এই উদীয়মান ব্যবসায় শেয়ার কেনেন। তিনি শুধু একজন বিনিয়োগকারী হিসেবেই সন্তুষ্ট ছিলেন না, ব্র্যান্ডটির জন্য একটি টেনিস জুতা এবং লাইফস্টাইল পোশাক তৈরি করতেও সহায়তা করেন।

এই বিনিয়োগের ফল মেলে মাত্র দুই বছরেই। ২০২১ সালে 'অন' নিউ ইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত হয়। তখন ফেদেরারের শেয়ারের মূল্য ছিল প্রায় ৩%। বর্তমানে কোম্পানির বাজারমূল্য প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলার এবং শেয়ারের দাম আইপিও মূল্যের চেয়ে ৮৬% বেড়েছে। এর ফলে ফেদেরারের শেয়ারের মূল্য এখন ৩৭৫ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি।

ফেদেরার তার বিনিয়োগ থেকে অন্যান্য ক্ষেত্রেও ভালো লাভ পেয়েছেন। ২০১৩ সালে তার দীর্ঘদিনের এজেন্ট টনি গডসিকের সঙ্গে তিনি 'টিমএইট' নামে একটি ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন। চার বছর পর তারা 'লেভার কাপ' নামে একটি বার্ষিক টেনিস টুর্নামেন্ট চালু করেন। এই টুর্নামেন্ট ধারাবাহিকভাবে লাভজনক হয়ে উঠেছে।

আরও