ম্যাকাই টেস্ট

উভয় ইনিংসে একশ রানের নিচে অলআউট, লজ্জার হার বাংলাদেশের

ডারউইন টেস্টে শোচনীয়ভাবে পরাজিত অস্ট্রেলিয়া পরের টেস্টেই ঘুরে দাঁড়াল। আর আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ ভেঙে পড়ল বালির বাঁধের মতোই।

ম্যাকাই টেস্টে মাত্র দুদিনেই বাংলাদেশকে হারিয়ে সিরিজ ড্র করেছে অজিরা। মিচেল স্টার্ক চতুর্থবারের মতো ম্যাচে ১০ উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে ইনিংস ও ৫১ রানের বড় জয় এনে দেন।

প্রথম ইনিংসে ৬৪ রানে অলআউট হওয়া বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসে গুটিয়ে যায় ৯৫ রানে। এই প্রথম কোনো টেস্টের উভয় ইনিংসে একশ রানের নিচে অলআউট হলো বাংলাদেশ। আর সব মিলিয়ে ২১ বছর পর এমন ঘটনার সাক্ষী হলো টেস্ট ক্রিকেট। এছাড়া ইনিংস ব্যবধানে জয় পাওয়া দলগুলোর মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার ২১০ রান চতুর্থ সর্বনিম্ন দলীয় পুঁজি।

ম্যাচে ৫১ রানে ১০ উইকেট নিয়েছেন স্টার্ক। প্রথম ইনিংসে ১২ রানে ৬ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশকে ৬৪ রানে অলআউট করে দিতে রাখেন বড় ভূমিকা। দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৯ রানে নিয়েছেন ৪ উইকেট। তার সঙ্গে অধিনায়ক প্যাট কামিন্স ১০ ওভারে ১০ রান খরচ করে ৩টি ও নাথান লায়ন ২৫ রানে ৩টি উইকেট নেন।

গতকাল চা বিরতির পর অল্প সময়ের ব্যবধানে দুই উইকেট নিয়ে বাংলাদেশকে অলআউট করে দেন অভিজ্ঞ স্পিনার লায়ন।

সকালে ৪৫ রান যোগ করে শেষ দুটি উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। ক্যামেরন গ্রিন ৬৭ রান করে শরিফুল ইসলামের সপ্তম শিকারে পরিণত হন। লায়ন অপরাজিত থাকেন ৩২ রানে। ২১০ রানে অলআউট হয়েও অস্ট্রেলিয়া পায় ১৪৬ রানের লিড, বাংলাদেশ যার কাছেও যেতে পারেনি।

এরপর স্টার্কের নির্দয় বোলিংয়ের মুখে এলোমেলো হয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস। তৃতীয় ওভারে টানা দুই বলে তিনি সাজঘরে ফেরান সাদমান ইসলাম ও মুমিনুল হককে। দ্রুত দুই উইকেট হারানোর পর তানজিদ হাসান ও নাজমুল হোসেন শান্ত ১৯ রানের জুটি গড়েন। এ জুটি ভাঙেন প্যাট কামিন্স। আক্রমণে এসেই নিজের প্রথম ওভারে স্টার্কের ক্যাচ বানিয়ে তানজিদকে ফেরান তিনি (২৪/৩)। শান্ত ও মুশফিক ৮০ বল মোকাবেলায় ২৭ রানের জুটি গড়ে বিপদ সামাল দেয়ার চেষ্টা করেন। এ পথে কাউন্টার অ্যাটাকে যান শান্ত। তিনি স্টার্ককে পাঁচটি বাউন্ডারি মারেন, যার চারটিই ছিল মাটি কামড়ানো, আর একটি স্লিপের পাশ ঘেঁষে চলে যায় সীমানার ওপারে। মধ্যাহ্ন ভোজের পর লায়নের বলে লং-অফে স্টার্ককে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান বাংলাদেশ দলনায়ক।

এরপর বিদায় নেন লিটন দাস। সিরিজে টানা তিন ইনিংসে শূন্য রানে আউট হলেন বাংলাদেশের উইকেটকিপার। গতকাল স্টার্কের বলে থার্ড স্লিপে ক্যাচ দেন ওয়েবস্টারকে। অর্থাৎ এ সিরিজে নামের পাশে একটি রানও লিখতে পারেননি বাংলাদেশের ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক লিটন।

মেহেদী হাসান মিরাজ ১ রান করে কামিন্সের বলে উইকেটকিপারকে ক্যাচ দেন। ঠিক ৬ বল পর হাসান মাহমুদকেও সাজঘরে ফেরান কামিন্স। এরপর তাইজুল ইসলামকে (৭) নিয়ে ১২, তাসকিন আহমেদকে (৮) নিয়ে ১৩ রান যোগ করেন মুশফিক। লায়নের করা ৩৯তম ওভারে তাসকিন ও শরিফুল ইসলাম বিদায় নিলে অলআউট হয়ে যায় বাংলাদেশ।

অপর প্রান্তে অসহায় দাঁড়িয়ে থাকেন মুশফিক, যিনি ২৯ রানে অপরাজিত ছিলেন।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

অস্ট্রেলিয়া: ২১০/১০ (গ্রিন ৬৭, স্মিথ ৪২; শরিফুল ৭/৪৮)। বাংলাদেশ: ৬৪/১০ ও ৯৫/১০ (শান্ত ৩১, মুশফিক ২৯; স্টার্ক ৪/৩৯)। ফল: অস্ট্রেলিয়া ইনিংস ও ৫১ রানে জয়ী। সিরিজ: ১-১-এ ড্র। প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ ও সিরিজ: মিচেল স্টার্ক।

আরও