এই বয়সেও বিশ্বকাপে মেসির পারফরম্যান্স অবিশ্বাস্য: ইয়ামাল

স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘এল মুন্দো দেপোর্তিভো’ যখন ইয়ামালের কাছে মেসির বিশ্বকাপ পারফরম্যান্স নিয়ে জানতে চায়, তখন ১৮ বছর বয়সী এ তরুণ বলেন, ‘‌অবিশ্বাস্য। মেসি কে, তা সবাই জানে। তবে কেউ আশা করেনি যে সে এখনো এত ভালভাবে খেলা চালিয়ে যাবে। আমি তার জন্য সত্যিই খুব আনন্দিত।’

এবারের বিশ্বকাপেও লিওনেল মেসির দুর্দান্ত পারফরম্যান্স প্রদর্শন করে যাওয়াটা ‘অবিশ্বাস্য’ বলে মন্তব্য করছেন স্পেনের উইঙ্গার লামিনে ইয়ামাল। তিনি জানিয়েছেন, মেসি যেভাবে বয়সকে জয় করে এ বিশ্বকাপে দলের প্রধান তারকা হিসেবে খেলে যাচ্ছেন, তা দেখে তিনি ভীষণ উচ্ছ্বসিত।

৩৯ বছর বয়সী মেসি বর্তমানে আটটি গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে সবার চেয়ে এগিয়ে আছেন। গত মঙ্গলবার মিশরের বিপক্ষে দলের ঐতিহাসিক ৩-২ ব্যবধানের রোমাঞ্চকর জয়ের ম্যাচে তিনি অসাধারণ পারফরম্যান্স উপহার দেন, যার ওপর ভর করে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে।

স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘এল মুন্দো দেপোর্তিভো’ যখন ইয়ামালের কাছে মেসির বিশ্বকাপ পারফরম্যান্স নিয়ে জানতে চায়, তখন ১৮ বছর বয়সী এ তরুণ বলেন, ‘‌অবিশ্বাস্য। মেসি কে, তা সবাই জানে। তবে কেউ আশা করেনি যে সে এখনো এত ভালভাবে খেলা চালিয়ে যাবে। আমি তার জন্য সত্যিই খুব আনন্দিত।’

২০২২ সালে কাতারে আর্জেন্টিনার দীর্ঘ ৩৬ বছরের খরা কাটিয়ে তৃতীয় বিশ্বকাপ জয়ের পেছনে মেসিই ছিলেন টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়।

গত মৌসুমে বার্সেলোনায় মেসির সেই আইকনিক ১০ নম্বর জার্সিটি নিজের করে নেয়া ইয়ামাল জানান, নিজের শৈশবের অন্য আদর্শদেরও এ বিশ্বকাপে খেলতে দেখে তার খুব ভালো লেগেছে। তিনি বলেন, ‘‌আমি নেইমারের জন্য খুশি, যদিও সে এখন আর এ টুর্নামেন্টে নেই, এবং ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর জন্যও আমার আনন্দ হচ্ছে। আমরা যারা এখন খেলছি, আমাদের সবার শৈশবকে তারাই গড়ে দিয়েছেন।’

ব্রাজিলের ইতিহাসের সর্বোচ্চ ৮০ গোল করা ৩৪ বছর বয়সী নেইমার গত রোববার শেষ ষোলোর ম্যাচে নরওয়ের কাছে দলের বিদায়ের পর নিজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টেনেছেন।

বার্সেলোনার এ সাবেক তারকা ইনজুরির কারণে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ব্রাজিলের হয়ে মাঠে নামেননি, তবে এ বিশ্বকাপের মাধ্যমে তিনি আবারও জাতীয় দলে ফিরেছিলেন।

অন্যদিকে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর ক্যারিয়ারের একমাত্র অপূর্ণ বড় ট্রফিটি জেতার স্বপ্ন ভেঙে দিয়েছে ইয়ামালের দেশ স্পেনই। গত সোমবার স্পেনের কাছে পর্তুগালের ১-০ ব্যবধানের পরাজয়টিই ছিল বিশ্বকাপের মঞ্চে রোনালদোর শেষ ম্যাচ। রিয়াল মাদ্রিদের এ সাবেক তারকা ইতিহাসের একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে ছয়টি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করার রেকর্ড নিয়ে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছেন। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বোচ্চ গোল (১৪৬) এবং সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার (২৩৩) রেকর্ড দুটি এখনো তার দখলেই রয়েছে।

ইয়োমাল আরো বলেন, তাদের সাঙ্গে ভালো কিছু ঘটলে আমারও ভালো লাগে। তবে আমি যদি ফাইনালে উঠি, তাহলে আমি ট্রফিটা জিততেই চাইব।

পর্তুগালের বিপক্ষে পুরো ৯০ মিনিট খেলেছেন ইয়ামাল, যা ইনজুরি কাটিয়ে ম্যাচ ফিটনেস ফিরে পাওয়ার পর বিশ্বকাপে তার দীর্ঘতম সময় মাঠে থাকার রেকর্ড। নিজের ফিটনেস নিয়ে তিনি বলেন, আমি প্রায় দুই মাস মাঠের বাইরে ছিলাম। টানা সাতটি ম্যাচ খেলার পর যে ছন্দ থাকে, এটি ঠিক তেমন নয়। আমার বলের ছোঁয়া পাওয়া দরকার, খেলা চালিয়ে যাওয়া দরকার, মাঠে আরও বেশি সময় কাটানো প্রয়োজন এবং আমি জানি সেই সেরা মুহূর্তটি আসবেই।

নিজের পারফরম্যান্সের প্রতি কড়া নজর রাখা এ তরুণ উইঙ্গার বলেন, আমার মনে হয় আমি আরো ভালো করতে পারি। আমি নিজের প্রতি খুব কঠোর। আমি যা করি তাতেই সন্তুষ্ট হয়ে যাই না। গ্রুপ পর্বে আমি কখনোই সেরা খেলোয়াড় ছিলাম না, তবে এটা নিয়ে আমি চিন্তিত নই। আমি জানি নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করার সুযোগ আমার সামনে আসবে। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলো, যেমন সেমিফাইনাল বা ফাইনাল যত কাছে আসবে, আমার খেলার ধার তত বাড়বে।

স্পেনের হয়ে ২০২৪ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ জেতা ইয়ামাল আগামী শুক্রবার ক্যালিফোর্নিয়ার ইঙ্গলউডে বেলজিয়ামের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। তিনি বলেন, আমি দারুণ বোধ করছি। দল হিসেবে আমরা কী করতে পারি এবং ব্যক্তিগতভাবে আমি কী করতে সক্ষম, তা দেখানোর জন্য আমি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি। আমি আশা করি বেলজিয়ামের বিপক্ষের ম্যাচটি পুরো দলের জন্যই একটি চমৎকার ম্যাচ হবে।

আরও