ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ক্ষণ গণনা পেল বাড়তি গতি ও রঙ। বিশ্বকাপজয়ী সাবেক তারকাদের নিয়ে এক জমকালো অনুষ্ঠানে বিশ্বকাপের নতুন বল ট্রাইওন্ডা উন্মোচন করা হলো। ২ অক্টোবর রাতে অন্যতম স্বাগতিক দেশ যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের ব্রুকলিন ব্রিজ পার্কে জমকালো অনুষ্ঠানে ট্রাইওন্ডাকে সবার সামনে নিয়ে আসা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাবেক পাঁচ বিশ্বকাপজয়ী তারকা—জার্মানির ইয়ুর্গেন ক্লিন্সম্যান (১৯৯০), ব্রাজিলের কাফু (১৯৯৪), ইতালির আলেসান্দ্রো দেল পিয়েরো (২০০৬), স্পেনের জাভি হার্নান্দেজ (২০১০) ও ফ্রান্সের জিনেদিন জিদান (১৯৯৮)।
তাদের সবার হাতে ছিল একটি করে ফুটবল। অনুষ্ঠানের সঞ্চালক ঘোষণা করলেন, ‘এখন আমি আপনাদের সামনে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের অফিশিয়াল ম্যাচ বল ট্রাইওন্ডাকে উপস্থাপন করছি।’
এভাবেই ইতিহাস গড়া ৪৮ দলের ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের অফিশিয়াল বল উন্মোচন করেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। নতুন এ বল নিয়ে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলেন, ‘এই হলো ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের বল, যা অনেক সুন্দর। আপনাদের সামনে ট্রাইওন্ডা উপস্থাপন করতে পেরে আমি খুশি ও গর্বিত। বিশ্বকাপের জন্য অ্যাডিডাস আরেকটি আইকনিক বল তৈরি করেছে, যার নকশায় পরবর্তী আসরের স্বাগতিক কানাডা, মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রের ঐক্য ও আবেগ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। সুন্দর এই বলটির গোলবার পেরিয়ে জালে জড়িয়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখতে আমার আর তর সইছে না। ইতিহাসের সর্ববৃহৎ ফিফা বিশ্বকাপের ক্ষণগণনা চলছে—এবার বলও গড়ানো শুরু করল!’
ট্রাইওন্ডা বলটি বানিয়েছে ক্রীড়াসামগ্রী প্রস্তুতকারক জার্মান কোম্পানি অ্যাডিডাস। এ নিয়ে টানা ১৫তম বারের মতো ফিফা বিশ্বকাপের বল সরবরাহ করছে বিশ্ববিখ্যাত এ প্রতিষ্ঠান। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো যৌথভাবে ২০২৬ বিশ্বকাপ আয়োজন করায় বলটিতে উত্তর আমেরিকার এ তিন দেশের ‘ঐক্য’ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এতে ব্যবহার করা হয়েছে ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে আধুনিক প্রযুক্তি।
এখন জেনে নেয়া যাক ট্রাইওন্ডার মানে কী? নামটি এসেছে দুটি স্প্যানিশ শব্দ ‘ট্রাই’ ও ‘ওন্ডা’ থেকে। ‘ট্রাই’ মানে তিন আর ওন্ডা মানে ঢেউ। বলে লাল, সবুজ ও নীল—এই তিন রঙের ঢেউ দিয়ে আয়োজক দেশগুলোকে বোঝানো হয়েছে। এই প্রথম তিন দেশ একসঙ্গে বিশ্বকাপ আয়োজন করছে। তাই অনন্য ও অভিনব নকশার পাশাপাশি বলের নকশায় তিন দেশের জাতীয় প্রতীক স্থান পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের জন্য তারকা, কানাডার জন্য ম্যাপল পাতা ও মেক্সিকোর জন্য ইগল। বলের ওপর এসব প্রতীক গ্রাফিকস আকারে ও খোদাই করা হয়েছে। বলটিতে সোনালি রঙের ছোঁয়াও আছে। এর মাধ্যমে বিশ্বকাপ ট্রফির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা হয়েছে এবং মনে করিয়ে দেয়া হয়েছে, এ বল ফুটবলের সর্ববৃহৎ মঞ্চের জন্য।
বলে নতুন চার প্যানেল নকশা আছে, যা এটিকে আরো স্থির ও টেকসই করেছে। পুরু সেলাই ও রেখাগুলো বাতাসে বলের চলাচল স্থিতিশীল রাখবে। খোদাই করা প্রতীকগুলো বল ভেজা অবস্থায়ও ভালো গ্রিপ করা নিশ্চিত করবে। অ্যাডিডাসের ‘কানেক্টেড বল প্রযুক্তি’ হলো সবচেয়ে বড় নতুনত্ব। বলের (ভেতরে) এক পাশে থাকা ৫০০ হার্জ সেন্সর ভিএআর ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের রিয়েল টাইম তথ্য দেব। ফলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে অফসাইড ধরা যাবে। এছাড়া হ্যান্ডবল বা ফাউলের মতো বিতর্কিত পরিস্থিতি সহজেই চিহ্নিত করা যাবে।
২০২৬ বিশ্বকাপের বল নিয়ে অ্যাডিডাসের মহাব্যবস্থাপক স্যাম হ্যান্ডি বলটি নিয়ে বলেছেন, ‘প্রতিটি ছোট জিনিসই বড় প্রভাব ফেলে। খোদাই করা নকশা, স্তরযুক্ত গ্রাফিকস ও উজ্জ্বল রং এ বলকে অন্যগুলো থেকে আলাদা করেছে। এখন পর্যন্ত এটাই আমাদের তৈরি করা সবচেয়ে সুন্দর এবং আকর্ষণীয় ফিফা বিশ্বকাপের বল।’
১৯৭০ সালের মেক্সিকো আসর থেকে বিশ্বকাপের বল সরবরাহ করে আসছে অ্যাডিডাস। এখন পর্যন্ত তারা বানিয়েছে টেলস্টার (১৯৭০), টেলস্টার ডুরলাস (১৯৭৪), ট্যাঙ্গো ডুরলাস্ট (১৯৭৮), ট্যাঙ্গো এস্পানা (১৯৮২), আজটেকা (১৯৮৬), এট্রুস্কো ইউনিকো (১৯৯০), কুয়েস্ট্রা (১৯৯৪), ট্রাইকালার (১৯৯৮), ফিভারনোভা (২০০২), টিমজিস্ট (২০০৬), জাবুলানি (২০১০), ব্রাজুকা (২০১৪), টেলস্টার ১৮ (২০১৮) ও আল রিহলা (২০২২)। অ্যাডিডাস সর্বশেষ ২০২৬ আসরের জন্য নিয়ে এসেছে ‘ট্রাইওন্ডা’ বল।