চার্লস ডি কেটেলারের জোড়া গোল ও একটি অ্যাসিস্টে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বকাপ স্বপ্ন শেষ করে দিল বেলজিয়াম। বাংলাদেশ সময় আজ সকালে শেষ ষোলোর ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণভাগের একের পর এক ভুলের সুযোগ নিয়ে ৪-১ গোলের জয় তুলে নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে ‘রেড ডেভিলস’।
এক আগে বিতর্কিত সিদ্ধান্তে ফিফা এক ম্যাচের লাল কার্ড নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করায় তারকা ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুনকে দলে ফিরে পেয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। তবে প্রথমার্ধে দুটি গোলেই রক্ষণভাগের ভুল ছিল স্পষ্ট। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে গোলরক্ষক ম্যাট ফ্রিজের বড় ভুলের সুযোগ নিয়ে তৃতীয় গোল পেয়ে যায় বেলজিয়াম।
বিরতির পর বদলি হিসেবে নেমে যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে চতুর্থ গোল করেন রোমেলু লুকাকু। এর আগে ক্রিস রিচার্ডসের বল হারানোর সুযোগ কাজে লাগান তিনি।
ম্যাচ শেষে হতাশ যুক্তরাষ্ট্রের কোচ মরিসিও পোচেত্তিনো বলেন, ‘শুরু থেকেই সবাই দেখেছে, আমরা ম্যাচের সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিতে পারিনি। এটা শেখার একটি প্রক্রিয়া। আমাদের এ ম্যাচ বিশ্লেষণ করতে হবে এবং বুঝতে হবে কেন আমরা বিশ্বকাপের অন্য ম্যাচগুলোর মতো খেলতে পারিনি।’
বেলজিয়াম তাদের ইতিহাসের প্রথম বিশ্বকাপ শিরোপার লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছে। গত ১২ বছরে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের শেষ ষোলো থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে বিদায় করল তারা। একই সঙ্গে টানা ১৮ ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ডও ধরে রাখল। এখন সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে শুক্রবার ক্যালিফোর্নিয়ার ইংলউডে ২০১০ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনের মুখোমুখি হবে তারা। সেই ম্যাচের বিজয়ী সেমিফাইনালে খেলবে ফ্রান্স বা মরক্কোর বিপক্ষে।
৪৮ দলের এই সম্প্রসারিত বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো টানা তিনটি ম্যাচ জিতেছিল যুক্তরাষ্ট্র। তবে ২০০২ সালের পর প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন পূরণ হলো না। ১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপে জয়ের পর থেকে টানা সপ্তমবারের মতো বেলজিয়ামের কাছে হারল তারা।
ইউরোপীয় দলের বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সও হতাশাজনক। সর্বশেষ ১২ ম্যাচে তাদের হার ১১টি। একমাত্র জয়টি এসেছে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে ৩২ দলের নকআউট পর্বে।
ক্রিস্টিয়ান পুলিসিচ, ওয়েস্টন ম্যাককেনি ও টাইলার অ্যাডামসকে ঘিরে যে প্রজন্মকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে ফুটবলের জনপ্রিয়তা এনএফএল, এমএলবি ও এনবিএর কাছাকাছি নিয়ে যাওয়ার আশা ছিল, তারা সেই লক্ষ্য আংশিকভাবেই পূরণ করতে পারল।
যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডাসহ সবাই বাদ পড়ায় এবারের বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে শুধু ইউরোপ, আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার দলগুলোরই প্রতিনিধিত্ব থাকছে। এতে উত্তর আমেরিকা, মধ্য আমেরিকা এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলের ফুটবলের আঞ্চলিক সংস্থা কনকাকাফ ও এশিয়ার তুলনামূলক দুর্বলতাই আবারো স্পষ্ট হয়েছে।