এবারের বিশ্বকাপ থেকে রেকর্ড ১৫ বিলিয়ন ডলার রাজস্বের কথা ঘোষণা করতে যাচ্ছে ফিফা। ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি এ টুর্নামেন্টে ১১ বিলিয়ন ডলার আয়ের পূর্বাভাস দিয়েছিল। গত শনিবার ফিফার সদস্য অ্যাসোসিয়েশনগুলোকে আয়ের এ বড় ধরণের প্রবৃদ্ধির কথা জানান জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। খবর দ্য গার্ডিয়ান।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, হসপিটালিটি এবং টিকিট বিক্রি এ আয়ের একটি বড় অংশ জুগিয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য চড়া মূল্যের সেকেন্ডারি মার্কেটের টিকিট বিক্রি, যেখানে ফিফা ক্রেতার কাছ থেকে ১৫% এবং বিক্রেতার কাছ থেকে আরো ১৫% কেটে নেয়।
ফিফার এ বর্ধিত বিশ্বকাপ তহবিল থেকে ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনগুলো লাভবান হবে বলে আশা করা হচ্ছে, যদিও এর বিস্তারিত বিবরণ এখনও চূড়ান্ত করা হয়নি। তবে এ আর্থিক সাফল্য ইনফান্তিনোর অবস্থানকে আরো মজবুত করবে।
শেষ ১৬-এর ম্যাচে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগানকে দেয়া লাল কার্ড স্থগিত করার পর তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল। অনেকেই মনে করেছেন, ফিফা এখানে ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপের কাছে নতি স্বীকার করেছে। ফিফা অবশ্য জানিয়েছে, সিদ্ধান্তটি তাদের ডিসিপ্লিনারি কমিটি স্বাধীনভাবেই নিয়েছে, তবে ইউরোপীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনগুলোর মধ্যে এ নিয়ে অসন্তোষ রয়েই গেছে। তা সত্ত্বেও, ইনফান্তিনো আগামী মার্চের পুনর্নির্বাচনের জন্য ফিফার সদস্য অ্যাসোসিয়েশনগুলোর কাছ থেকে ২০০টিরও বেশি সমর্থনের প্রতিশ্রুতি পেয়েছেন। বিশ্বকাপের এ বিশাল রাজস্ব থেকে অতিরিক্ত অর্থ পাওয়ার সম্ভাবনা সম্ভবত কিছু ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে তাদের অসন্তোষ প্রকাশ্যে আনা থেকে বিরত রাখবে।
এই ধরণের বিশাল আর্থিক সাফল্য অদূর ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের আবারও বিশ্বকাপ আয়োজনের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিতে পারে। বিডের জন্য উন্মুক্ত পরবর্তী বিশ্বকাপটি হলো ২০৩৮ সালের টুর্নামেন্ট। গত শুক্রবার এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ট্রাম্প পুনরায় টুর্নামেন্টটি আয়োজনে তার দেশের আগ্রহের কথা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেছেন, আপনাদের আবারও যুক্তরাষ্ট্রকে বেছে নেয়া উচিৎ। এবার আমরা কানাডা ও মেক্সিকোকে বাদ রাখব। এছাড়া ২০২৯ সালের ক্লাব বিশ্বকাপ আয়োজনের বিষয়েও ফিফার সঙ্গে আলোচনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
গতকাল সন্ধ্যায় নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া স্পেন এবং আর্জেন্টিনার মধ্যকার রবিবারের ফাইনাল ম্যাচের জন্য ভিআইপি ও হসপিটালিটি প্যাকেজগুলো তখনও ফিফার টিকিট পোর্টালে তালিকাভুক্ত ছিল। সেখানে ট্রফি লাউঞ্জ-এর টিকিট প্রতি ব্যক্তির জন্য সাড়ে ৩৪ হাজার ডলারে বিক্রি হচ্ছিল।