ইউরোপের শীর্ষ ফুটবল ক্লাবগুলোর আর্থিক চিত্রে এক ধরনের বৈপরীত্য দেখা যাচ্ছে। গত বছর এখানকার ক্লাবগুলো রেকর্ড পরিমাণ আয় করেছে। অথচ লোকসান হয়েছে বিলিয়ন ইউরোর বেশি। খবর এফটি।
উয়েফার নতুন তথ্যানুযায়ী, ইউরোপের শীর্ষ লিগে খেলা ক্লাবগুলো গত বছর সম্মিলিতভাবে ১ বিলিয়ন বা ১০০ কোটি ইউরোর বেশি লোকসান করেছে। অথচ একই সময়ে তাদের মোট আয় ছিল রেকর্ড ৩০ বিলিয়ন বা ৩ হাজার কোটি ইউরোর বেশি। এর আগে ২০২৪ সালে আয় করে ২ হাজার ৮৬০ কোটি ইউরো।
ইউরোপজুড়ে সাত শতাধিক টিমের প্রাথমিক আর্থিক নথির ভিত্তিতে এ হিসাব করা হয়েছে। দেখা গেছে, সম্মিলিত আয়ের অর্ধেকই গেছে শীর্ষ ২৫টি ক্লাবের অ্যাকাউন্টে।
ক্লাবগুলোর আয় বৃদ্ধিতে প্রধান তিন চালিকাশক্তি হলো স্পনসরশিপ, খেলোয়াড়দের দলবদল এবং ইউরোপজুড়ে আয়োজিত প্রতিযোগিতার পুরস্কারমূল্য। কিছু দেশে স্থানীয় টিভি সম্প্রচার স্বত্ব দুর্বল থাকলেও অন্য উৎস থেকে আয় বাড়ায় তা পুষিয়ে গেছে।
আয় বাড়ানোর পাশাপাশি ক্লাবগুলোর ব্যয়ও বেড়েছে চোখে পড়ার মতো। স্টেডিয়ামভিত্তিক আতিথেয়তা, ফুটবলবহির্ভূত ইভেন্টসহ বিকল্প আয়ের উৎস বাড়াতে গিয়ে পরিচালন ব্যয়ে বড়সড় উল্লম্ফন দেখেছে সংশ্লিষ্টরা। এর মধ্যে চেলসির পরিচালন ব্যয় বেড়েছে ৫১ শতাংশ। আর্সেনাল ও বার্সেলোনার বেড়েছে যথাক্রমে ৩৫ ও ১৯ শতাংশ।
ক্লাবগুলোর ব্যয়ের বড় অংশজুড়ে থাকে খেলোয়াড়দের বেতন, তাও বেড়েছে। ২০২৪ সালে বেতন বাড়ে ১ দশমিক ৮ শতাংশ, গত বছর তা ছিল ৪ দশমিক ৮ শতাংশ।
বিভিন্ন খাতে বাড়তি ব্যয়ের কারণে ২০২৫ সালে কর-পূর্ব সম্মিলিত লোকসান প্রায় ১১০ কোটি ইউরো হবে বলে অনুমান করছে উয়েফা, যা ২০২৪ সালের সমপরিমাণ। কিছু ক্লাবের বড় লোকসান সামগ্রিক চিত্রকে প্রভাবিত করেছে। তবে প্রাথমিক হিসাবে ক্লাবগুলোর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই ২০২৫ সালে মুনাফা করেছে।
সবচেয়ে বেশি লোকসান দিয়েছে চেলসি, ৪০ কোটি ৭০ লাখ ইউরো। এছাড়া অলিম্পিক লিওনেঁ ও টটেনহ্যাম হটস্পার লোকসান দিয়েছে যথাক্রমে ১৯ কোটি ৬০ লাখ ও ১৪ কোটি ৮০ লাখ ইউরো।