চ্যাম্পিয়নস লিগ

দাঁতে দাঁত চেপে লড়েও ব্যর্থ আর্সেনাল, ইতিহাস গড়ার পথে পিএসজি

ওসমান দেম্বেলে এদিন বদলি হিসেবে নামলেও কাউন্টার অ্যাটাকে অন্যতম ভয়ঙ্কর পিএসজির আক্রমণভাগে গতির কোনো ঘাটতি ছিল না।

আর্সেনালের জন্য এই হার শুধুই বিদায় নয়, এটা আত্মসমালোচনার বড় এক ভূমি। স্কোয়াডের গভীরতা, ইনজুরি, কৌশলের পূর্বানুমেয়তা—সব মিলিয়েই প্রশ্ন উঠবে।

পার্ক দ্য প্রিন্সেসের রাতে সবটুকু দিয়ে লড়েছে আর্সেনাল। তবুও তা যথেষ্ট ছিল না। মিকেল আর্তেতার দল লড়েছে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত, কিন্তু প্যারিস সেইন্ট জার্মেইনের দাপটের কাছে ২-১ গোলে হার মানতে হয়েছে তাদের। দুই লেগ মিলিয়ে ৩-১ গোলে জয়ী পিএসজি উঠে গেছে চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে। সেখানে তারা মুখোমুখি হবে ইন্টার মিলানের।

খেলা যতই এগিয়েছে, ততই স্পষ্ট হয়েছে এই বড় মঞ্চে আর্সেনালের দুর্বলতা। মানসিকতা বা ইচ্ছার অভাব ছিল না, কিন্তু শারীরিক ও কৌশলগত দিক থেকে তারা ছিল কয়েক কাঠি পিছিয়ে। স্কোরলাইন দেখে প্রথমার্ধে আর্সেনালের নখদন্তহীন ফুটবলের চিত্র অনুধাবন কঠিন। পিএসজির লেফট ব্যাক নুনো মেন্ডেসকে রক্ষণের কাজই করতে হয়নি তেমন। বরং তিনি আক্রমণেই মনোযোগী ছিলেন বেশি।

প্রথমার্ধে ফ্যাবিয়ান রুইজের দুর্দান্ত ভলিতে করা গোল পিএসজিকে লিড এনে দেয়। আর্সেনাল রক্ষণের দুর্বল ক্লিয়ারেন্সের সুযোগ নিয়ে বাঁ পায়ের এক গোলা ছোড়েন তিনি, যা রুখে দেয়ার সাধ্য ছিল না ডেভিড রায়ার। এরপর দ্বিতীয়ার্ধে আসে বিতর্কিত পেনাল্টির সিদ্ধান্ত—আক্রমণের পর হাকিমির শট রায়া ফিরিয়ে দিলেও ভিএআরের ডাক পড়ে। রিপ্লেতে দেখা যায়, বল সামান্য লেগেছে লুইস-স্কেলির হাতে। কঠিন সিদ্ধান্ত, তবে বাস্তবতা বদলায়নি।

ভিতিনিয়ার শট রায়া ঠেকিয়ে দিলে আশা জাগে আর্সেনাল শিবিরে। কিন্তু দ্রুতই সেই আশায় ছাই ঢেলে দেন আশরাফ হাকিমি। পার্টে বল হারালে, সুযোগ হাতছাড়া না করে গোল করেন এই রাইট ব্যাক। এরপর লিয়ান্দ্রো ট্রোসার্ডের ডিফ্লেক্টেড ক্রস থেকে বুকায়ো সাকার একমাত্র গোল কিছুটা সান্ত্বনা দিলেও শেষ রক্ষা হয়নি।

এ যাত্রায় পারলেন না ডেকলান রাইস। ছবি: এপি

আর্সেনালের জন্য এই হার শুধুই বিদায় নয়, এটা আত্মসমালোচনার বড় এক ভূমি। স্কোয়াডের গভীরতা, ইনজুরি, কৌশলের পূর্বানুমেয়তা—সব মিলিয়েই প্রশ্ন উঠবে। আক্রমণে ধার ছিল না, মাঝমাঠে রাইস ছাড়া কার্যত কেউ সৃষ্টিশীল হতে পারেননি, আর গোলের সামনে মিকেল মেরিনো ও লেফট উইংয়ে মার্টিনেল্লির কার্যক্ষমতা ছিল প্রায় শূন্য। আক্রমণে উঠলে তাদের ভয় থাকছে বারকোলা, দুয়েদের নিয়ে। ওসমান দেম্বেলে এদিন বদলি হিসেবে নামলেও কাউন্টার অ্যাটাকে অন্যতম ভয়ঙ্কর পিএসজির আক্রমণভাগে গতির কোনো ঘাটতি ছিল না।

কাতারি মালিকানাধীন পিএসজির জন্য এটি একটি ঐতিহাসিক সুযোগ। ২০২০ সালের ফাইনালে হারের পর এবার লুইস এনরিকের দল ইন্টার মিলানের বিরুদ্ধে জার্মানির মিউনিখে তাদের দ্বিতীয় চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে নামবে।

আন্তর্জাতিক ফুটবলের এই মহাযজ্ঞে আর্সেনালের বিদায় এক চেনা গল্প—চেষ্টা আছে, হৃদয় আছে, কিন্তু শেষরক্ষা নেই। এবারের চ্যাম্পিয়নস লিগ যাত্রা ছিল আর্সেনালের জন্য ১৪ বছরের মধ্যে সেরা, কিন্তু শেষ মুহূর্তে গতি হারাল তারা। চোট জর্জর স্কোয়াড, কৌশলগত নিস্পৃহতা এবং গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ফিনিশিংয়ে ব্যর্থতা—এই তিনেই ডুবে গেল আর্তেতার ‘প্রজেক্ট’।

আরও