অ্যাশেজে ভরাডুবির মাঝে ‘অতিরিক্ত মদ্যপান’, তদন্তের মুখে স্টোকসের দল

‘টানা ছয় দিন ধরে খেলোয়াড়দের মদ্যপানের খবর যদি সত্যি হয়, তবে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।'

বিবিসিসহ বেশ কিছু সংবাদমাধ্যমের দাবি, এই বিরতির সময় এবং তার আগে ব্রিসবেনে অবস্থানকালে ক্রিকেটারদের একটি অংশ দীর্ঘ সময় ধরে মদ্যপান করেছে। এমনকি এই সফরকে কোনো কোনো সংবাদমাধ্যম 'স্ট্যাগ ডু' বা উদ্দাম আমোদ-প্রমোদের সঙ্গে তুলনা করেছে।

অ্যাশেজে টানা তিন হারে এরইমধ্যে সিরিজ খুইয়েছে ইংল্যান্ড। মাঠের পারফরম্যান্সের এমন বিপর্যস্ত অবস্থার মধ্যেই মাঠের বাইরের এক বিতর্ক ঘিরে উত্তাল ইংলিশ ক্রিকেট। সিরিজের মাঝপথে বিরতি যাপনের সময় ক্রিকেটারদের ‘অত্যধিক মদ্যপান’ করার অভিযোগ উঠেছে, যা খতিয়ে দেখার ঘোষণা দিয়েছেন ইংল্যান্ডের ক্রিকেট পরিচালক রব কি।

অ্যাশেজের দ্বিতীয় ও তৃতীয় টেস্টের মাঝে কুইন্সল্যান্ডের উপকূলীয় শহর নুসাতে চার দিনের বিরতি কাটিয়েছে ইংল্যান্ড স্কোয়াড। বিবিসিসহ বেশ কিছু সংবাদমাধ্যমের দাবি, এই বিরতির সময় এবং তার আগে ব্রিসবেনে অবস্থানকালে ক্রিকেটারদের একটি অংশ দীর্ঘ সময় ধরে মদ্যপান করেছে। এমনকি এই সফরকে কোনো কোনো সংবাদমাধ্যম 'স্ট্যাগ ডু' বা উদ্দাম আমোদ-প্রমোদের সঙ্গে তুলনা করেছে।

প্রকাশিত কিছু ছবিতে দেখা গেছে, শহরের একটি পানশালায় বসে ক্রিকেটাররা প্রকাশ্যে মদ্যপান করছেন। উল্লেখ্য, টানা দুই টেস্টে হারের পরও আগে থেকে নির্ধারিত এই বিরতি বাতিল করেনি বোর্ড।

ক্রিকেট পরিচালক রব কি বিবিসি স্পোর্টসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘টানা ছয় দিন ধরে খেলোয়াড়দের মদ্যপানের খবর যদি সত্যি হয়, তবে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা খতিয়ে দেখছি ঘটনাটি ঠিক কতটুকু সত্য আর কতটুকু অতিরঞ্জিত।‘

তিনি আরো যোগ করেন, ‘আমি মদ্যপানের সংস্কৃতির ঘোর বিরোধী। ডিনারের সময় এক গ্লাস ওয়াইন ঠিক আছে, কিন্তু এর চেয়ে বেশি কিছু করাটা হাস্যকর।‘

শুধু নুসা সফর নয়, এর আগে নিউজিল্যান্ড সফরেও ওয়ানডে ম্যাচের আগের রাতে হ্যারি ব্রুক ও জ্যাকব বেথেলের মদ্যপানের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল। সেই প্রসঙ্গে রব কি জানান, সে সময় তাদের কোনো আনুষ্ঠানিক শাস্তি না দিলেও মৌখিকভাবে সতর্ক করা হয়েছিল।

তবে মদ্যপান নিয়ে কঠোর হলেও ক্রিকেটারদের বিরতি নেয়ার অধিকারের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন রব কি। তিনি বলেন, ‘হ্যারি ব্রুক এই পুরো শীতকালীন মৌসুমে মাত্র ছয় দিন বাড়িতে থাকার সুযোগ পাবেন। নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া সফর এবং এরপর ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ব্যস্ততায় খেলোয়াড়রা প্রায় ছয় মাস বাড়ির বাইরে থাকবেন।‘

তার মতে, অ্যাশেজের মতো হাই-ভোল্টেজ সিরিজের প্রচণ্ড চাপ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কাটাছেঁড়া থেকে মানসিকভাবে দূরে থাকতে ক্রিকেটারদের এমন বিরতির প্রয়োজন রয়েছে।

সিরিজের প্রথম ১১ দিনের মধ্যেই ৩-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়া ইংল্যান্ড এখন মাঠের ব্যর্থতার পাশাপাশি খেলোয়াড়দের শৃঙ্খলার এই নতুন সংকটে দিশেহারা।

আরও