‘ওয়ান ম্যান শো’। করিম বেনজেমার হ্যাটট্রিকে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের স্বপ্নটা আরেকবার ভেঙে গেল প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি) ক্লাবের। বুধবার রাতে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে শেষ ষোলোর দ্বিতীয় লেগে লিওনেল মেসি, নেইমার ও কিলিয়ান এমবাপ্পেকে নিয়ে গড়া তারকাপুঞ্জকে প্রায় একাই হারিয়ে দিলেন বেনজেমা।
রিয়াল-পিএসজি হাইভোল্টেজ ম্যাচের ফলাফল নির্ধারণ করে দিয়েছেন ফরাসি স্ট্রাইকার। সান্তিয়াগো বার্নাবুতে রিয়াল মাদ্রিদ জিতেছে ৩-১ গোলে। প্রথমার্ধে কিলিয়ান এমবাপ্পের গোলে পিছিয়ে পড়ার পর দ্বিতীয়ার্ধে ১৮ মিনিটের মধ্যে তিন গোল করে রিয়ালকে জয় উপহার দেন বেনজেমা। প্রথম লেগে ১-০ গোলে জয় পায় পিএসজি। দুই লেগ মিলে ৩-২ গোলের অগ্রগামিতায় কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে রেকর্ড ১৩ বারের ইউরোপাসেরা রিয়াল।
বুধবার রাতে অন্য ম্যাচে পর্তুগালের ক্লাব স্পোর্টিং লিসবনের সঙ্গে গোল শূন্য ড্র করেও কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে পেপ গার্দিওলার ম্যানচেস্টার সিটি। প্রথম লেগে ৫-০ গোলে জয়ে শেষ আট নিশ্চিত হলো সিটিজেনদের।
রিয়ালের মাঠে ৩৯ মিনিটে পিএসজি এগিয়ে যায়। একাধিক গোলের সুযোগ নষ্ট করার পর অবশেষে এমবাপ্পে সফল হন। নেইমারের নিজেদের অর্ধের থ্রু থেকে বক্সে ঢুকে এমবাপ্পে সুন্দর ফিনিশিংয়ে গোল করেন এমবাপ্পে। ঝাঁপিয়ে পড়েও বলের নাগাল পেলেন না রিয়ালের গোলকিপার থিবো কোর্তোয়া।
বিরতির পর রাজসিক বেনজেমায় ম্যাচের কর্তৃত্ব নিয়ে নেয় রিয়াল। নিজেদের ভুলে ৬১ মিনিটে গোল হজম করে পিএসজি। ফরাসি দলের গোলকিপার দোন্নারুমা বল তুলে দেন ভিনিসিয়ুসের পায়ে। ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডের পাসে ফাঁকা জালে গোল করতে ভুল হয়নি করিম বেনজেমার। এরপর দুই মিনিটের মধ্যে দুই গোল! ৭৬ মিনিটে আসে দ্বিতীয় গোল। লুকা মদ্রিচের ডিফেন্স চেরা পাসে বল পেয়েই বেনজেমা শট নিলে মার্কিনোসের পায়ে লেগে গোলকিপারকে ফাঁকি দিয়ে বল জালে আশ্রয় নেয়।
৭৮ মিনিটে এসেছে জয়সূচক গোল। পাল্টা-আক্রমণে মার্কিনোস ক্লিয়ার করতে গিয়ে বল তুলে দেন বেনজেমার পায়ে। প্রথম ছোঁয়ায় নিচু শটে কাছের পোস্ট দিয়ে স্কোরলাইন ৩-১ করে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন ফরাসি তারকা। এরই সঙ্গে নিজের হ্যাটট্রিকও পূর্ণ হয়।
যোগ করা সময়ে মেসির ফ্রি কিক ক্রসবারের ওপর দিয়ে গেলে আশাহত হতে হয় প্যারিসের সবচেয়ে ধনী দলকে। বাকি সময় এই স্কোরলাইন ধরে রেখে মাঠ ছাড়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে সবচেয়ে সফল দল রিয়াল মাদ্রিদ।