বাংলাদেশ ৬৪ রানে অলআউট

গতিতেই জবাব টাইগারদের

ম্যাকাই টেস্টে প্রথম ইনিংসে মাত্র ৬৪ রানে গুটিয়ে গেছে বাংলাদেশ, যা টেস্টে বাংলাদেশের চতুর্থ সর্বনিম্ন সংগ্রহ। টেস্টে নিজেদের ২৭ বছরের ইতিহাসে সর্বনিম্ন সংগ্রহ ৪৩ রান।

গতকাল একটি পর্যায়ে ৩৯ রানে ৯ উইকেট হারিয়ে আগের রেকর্ড ভেঙে নতুন লজ্জার মুখোমুখি হতে বসেছিল নাজমুল হোসেন শান্তর দল। যদিও টেল-এন্ডার তাইজুল ইসলাম ও শরিফুল ইসলামের ব্যাটে ভর করে সেই লজ্জা এড়াতে পেরেছে সফরকারীরা।

টেস্টে মোট ১৪ বার একশ রানের নিচে অলআউট হয়েছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে আটটিই ছিল টেস্টে নিজেদের পথচলার শুরুর দিকে। ২০০০ সালের নভেম্বরে ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়ামে ভারতের বিপক্ষে অভিষেক টেস্টে প্রথম ইনিংসে আমিনুল ইসলাম বুলবুলের সেঞ্চুরিতে ভর করে ৪০০ রান তুললেও দ্বিতীয় ইনিংসে ৯১ রানে গুটিয়ে গিয়েছিল স্বাগতিক বাংলাদেশ। এরপর আরো ১৩ বার একশ রানের নিচে অলআউট হয়েছে বাংলাদেশ। সর্বশেষ গতকাল ম্যাকাই টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৬৪ রানে গুটিয়ে যায় সফরকারী দল, যা নিজেদের সবচেয়ে কম রানের দিক থেকে চতুর্থ স্থানে জায়গা করে নিয়েছে।

২০১৮ সালে অ্যান্টিগা অ্যান্ড বারবুডার নর্থ সাউন্ডে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে মাত্র ৪৩ রানে গুটিয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ। কেমার রোচ ৮ রানে ৫ উইকেট নিয়ে প্রায় একাই গুঁড়িয়ে দিয়েছিলেন বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপকে। কেবল লিটন দাস একা দুই অংক স্পর্শ করতে পেরেছেন। এছাড়া মিগুয়েল কামিন্স ১১ রানে ৩টি ও জেসন হোল্ডার ১০ রানে ২টি উইকেট নিয়েছিলেন। ওই টেস্টে দ্বিতীয় ইনিংসে ১৪৪ রানে গুটিয়ে গিয়ে ম্যাচটিতে ইনিংস ব্যবধানে হেরে যায় সফরকারীরা।

তালিকার দুইয়ে আছে ২০২২ সালে ডারবান টেস্টের চতুর্থ ইনিংসে ৫৩ রানে গুটিয়ে যাওয়ার ঘটনা। একসময় এটিই ছিল টেস্টে বাংলাদেশের সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহ। ডারবানে দারুণ খেলছিল বাংলাদেশ। ২৭৪ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে কেশব মহারাজের ঘূর্ণির সামনে হঠাৎই এলোমেলো হয়ে যান মুমিনুল হকরা। ১৯ ওভার টিকে থেকে মাত্র ৫৩ রানে শেষ বাংলাদেশ। কেশব একাই নিলেন ৭ উইকেট। জয়ের দারুণ সম্ভাবনা থাকলেও শেষমেশ ২২০ রানে হেরে যায় বাংলাদেশ।

নর্থ সাউন্ড ও ডারবানের আগে টেস্টে বাংলাদেশের সর্বনিম্ন সংগ্রহ ছিল কলম্বোয় ৬২ রান। ২০০৭ সালে পি সারা স্টেডিয়ামে প্রথম ইনিংসে সিংহলিজদের কাছে ৬২ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। ইনিংসের আয়ু ছিল ২৫.২ ওভার। লাসিথ মালিঙ্গা ও মুত্তিয়া মুরালিধরণ ৪টি করে উইকেট নিয়েছিলেন। বাংলাদেশের ব্যাটিং বিপর্যয়ের পর কুমার সাঙ্গাকারার ডাবল সেঞ্চুরিতে লংকানরা ৪৫১ রানে ইনিংস ঘোষণা করে। দ্বিতীয় ইনিংসে মোহাম্মদ আশরাফুলের সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশ ২৯৯ রান করেও ইনিংস হার এড়াতে পারেনি।

তালিকায় এর পরেই জায়গা করে নিল ম্যাকাই টেস্টের গতকালের ৬৪ রান। গতি বোলার মিচেল স্টার্ক ২২ বলের মধ্যে ৫ উইকেট শিকার করেন। পরে নেন আরো এক উইকেট। সব মিলিয়ে ১২ রান খরচ করে ৬ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের বড় ক্ষতিটা করেন তিনি। এছাড়া প্যাট কামিন্স ২৫ রানে ৩টি ও জস হ্যাজেলউড ১৮ রানে ১টি উইকেট নেন। স্টার্কের গোলার আঘাতে বাংলাদেশের প্রথম ছয় ব্যাটারের মধ্যে চারজনই আউট হয়েছেন শূন্য রানে!

বাংলাদেশ টেস্টে মোট ১৪ বার একশ রানের নিচে অলআউট হয়েছে, যার মধ্যে চারবারই শ্রীলংকার বিপক্ষে এবং চারটিই কলম্বোয়। ২০০৭ সালে ৬২ রানে, ২০০৫ সালে ৮৬ রানে, ২০০৭ সালে ৮৯ রানে ও ২০০১ সালে ৯০ রানে অলআউট হওয়ার লজ্জা আছে বাংলাদেশের। দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে একশ রানের নিচে তিনবার অলআউট হয়েছে বাংলাদেশ—২০২২ সালে ডারবানে ৫৩ রানে, একই বছর গেবেরহায় ৮০ ও ২০১৭ সালে পচেফস্ট্রুমে ৯০ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। ওয়েস্ট ইন্ডিজ দুবার একশ রানের নিচে অলআউট করেছে বাংলাদেশকে। নর্থ সাউন্ডে ২০১৮ সালে ৪৩ রানে ও ২০০২ সালে ঢাকায় ৮৭ রানে বাংলাদেশকে অলআউট করেছিল ক্যারিবীয়রা। এছাড়া অস্ট্রেলিয়া ও পাকিস্তানের কাছে দুবার করে ও ভারতের কাছে একবার একশ রানের নিচে অলআউট হয়েছে বংলাদেশ।

টেস্টের ইতিহাসে সবচেয়ে কম রান কত? ১৯৫৫ সালে অকল্যান্ড টেস্টে সফরকারী ইংল্যান্ডের কাছে মাত্র ২৬ রানে অলআউট হয়েছিল নিউজিল্যান্ড। সেই রেকর্ডই টিকে আছে দীর্ঘ ৭১ বছর। সব দল মিলে সবচেয়ে কম রান করায় বাংলাদেশ রয়েছে ১৫ নম্বরে। বাংলাদেশের ৪৩ ও নিউজিল্যান্ডের ২৬ রানের মধ্যে আরো ১৩টি স্কোর রয়েছে বিভিন্ন দলের। সবচেয়ে কম রান করা ছয়টি ইনিংসের মধ্যে চারটিই দক্ষিণ আফ্রিকার। যদিও এগুলো হয়েছিল ১৮৯৯, ১৮৯৬, ১৯২৪ ও ১৯৩২ সালে। এছাড়া ১৮৮৯ সালে ৪৩ রানে ও ১৯৩২ সালে ৪৫ রানে অলআউট হয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা।

এছাড়া ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২৭ রানে, অস্ট্রেলিয়া ৩৬ ও ৪২ রানে, ভারত ৩৬ ও ৪২ রানে, আয়ারল্যান্ড ৩৮, নিউজিল্যান্ড ৪২ ও শ্রীলংকা ৪২ রানে অলআউট হওয়ার লজ্জা পায়।

স্টার্কের পর গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনার উইকেটে আগুন ঝরিয়েছেন বাংলাদেশের পেস বোলার শরিফুল ইসলাম। তিনিও স্টার্কের মতো ৬ উইকেট শিকার করেন। তার দুর্দান্ত বোলিংয়ের মুখে অজিরা ৮ উইকেট হারিয়ে বসে ১৪৮ রানের মধ্যে। বিপদের সময় লড়াকু ফিফটিতে স্বাগতিকদের লিড একশ পার করান ক্যামেরন গ্রিন। ১৮ উইকেট পতনের এ নাটকীয় দিনে এগিয়ে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া।

শরিফুলের শিকার হন ট্রাভিস হেড, মার্নাস

লাবুশেন, স্টিভেন স্মিথ, বিউ ওয়েবস্টার, প্যাট কামিন্স ও মিচেল স্টার্ক। ১৪ টেস্টের ক্যারিয়ারে এই প্রথম ৫ উইকেট নিলেন ২৫ বছর বয়সী বাঁহাতি পেসার। আগে দুবার ইনিংসে ৩ উইকেট নিতে পেরেছেন তিনি।

এদিকে ডারউইন টেস্টে দারুণ ব্যাটিংয়ের পর ম্যাকাই টেস্টেও অস্ট্রেলিয়ার ত্রাতা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন গ্রিন। গতকাল ৮১ বলে ৫১ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন। তার নৈপুণ্যেই অস্ট্রেলিয়ার লিড ছাড়িয়েছে একশ রান। অজিদের সংগ্রহ ছিল ৮ উইকেটে ১৬৫ রান। লিড ১০১ রানের। আজ সকালে গ্রিনের দিকেই তাকিয়ে থাকবে স্বাগতিকরা।

আরও