বিশ্বকাপে কার ঝুলিতে কোন রেকর্ড?

বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড গড়ার পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি সময় মাঠে থাকার রেকর্ডও লিওনেল মেসির দখলে। ৩২টি বিশ্বকাপ ম্যাচে তিনি খেলেছেন ২ হাজার ৮৪৪ মিনিট

বিশ্বকাপের এবারের আসরে বেশ কিছু নতুন রেকর্ড দেখা গেছে। লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পে গড়েছেন নতুন গোলের রেকর্ড, আবার দেশ হিসেবে সর্বাধিক গোলের তালিকায় সাময়িকভাবে ব্রাজিলকে ছাড়িয়ে গিয়েও শেষ পর্যন্ত পিছিয়ে পড়েছে জার্মানি। বিশ্বকাপে আর বাকি শেষ চার ম্যাচ। এর আগে দেখে নেয়া যাক ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরের ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি রেকর্ডের বর্তমান মালিক কারা।

আর্জেন্টিনার প্রথম ছয় ম্যাচে লিওনেল মেসি আটটি গোল করেন। এর মাধ্যমে বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম ফুটবলার হিসেবে মোট ২১ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন তিনি।

ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পেও আগের রেকর্ডধারী মিরোস্লাভ ক্লোসেকে ছাড়িয়ে গেছেন। ছয় ম্যাচে আট গোল করে তার বিশ্বকাপে মোট গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০।

কুরাসাওকে ৭-১ গোলে হারানোর পর বিশ্বকাপের ইতিহাসে জাতীয় দল হিসেবে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডে ব্রাজিলকে ছাড়িয়ে গিয়েছিল জার্মানি। তবে পরে ব্রাজিল আবার চার গোলের ব্যবধানে জার্মানিকে পেছনে ফেলে শীর্ষস্থান পুনরুদ্ধার করেছে। দুই দল এরই মধ্যে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে। বর্তমানে ব্রাজিলের গোল ২৪৭ এবং জার্মানির ২৪৩।

যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত ২০২৬ বিশ্বকাপ আকারের দিক থেকেও ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আসর। ৪৮টি দল নিয়ে অনুষ্ঠিত হওয়ায় এটি ১৯৯৮ সাল থেকে প্রচলিত ৩২ দলের বিশ্বকাপের তুলনায় ৫০ শতাংশ বড়।

অবশ্য টুর্নামেন্টের শেষ চারটি ম্যাচে আরো কিছু রেকর্ড বদলে যেতে পারে।

৯৬ বছরের পুরুষদের ফিফা বিশ্বকাপ ইতিহাসে এখন পর্যন্ত মাত্র আটটি দেশ শিরোপা জিতেছে। এর মধ্যে ছয়টি দেশ একাধিকবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।

সবচেয়ে বেশি পাঁচবার বিশ্বকাপ জয়ের রেকর্ড ব্রাজিলের। তারা শিরোপা জিতেছে ১৯৫৮, ১৯৬২, ১৯৭০, ১৯৯৪ ও ২০০২ সালে।

এরপর রয়েছে জার্মানি ও ইতালি, যারা চারবার করে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। জার্মানির চার শিরোপার মধ্যে তিনটি এসেছিল পশ্চিম জার্মানি নামে, ১৯৯০ বিশ্বকাপের পর পূর্ব ও পশ্চিম জার্মানি একীভূত হওয়ার আগে।

বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা তিনবার বিশ্বকাপ জিতেছে। ফ্রান্স ও উরুগুয়ে জিতেছে দুবার করে। আর ইংল্যান্ড ও স্পেন একবার করে বিশ্বকাপ জয় করেছে।

এবারের সেমিফাইনালে উঠেছে ফ্রান্স, স্পেন, আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। ফলে নিশ্চিতভাবেই এবারের শিরোপাও যাবে আগের কোনো এক বিশ্বচ্যাম্পিয়নের হাতে। এটাও নিশ্চিত, ব্রাজিলের সর্বাধিক জয়ের রেকর্ড অক্ষুণ্ন থাকছে।

২০২৬ বিশ্বকাপ শুরুর আগে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড ছিল জার্মানির সাবেক স্ট্রাইকার মিরোস্লাভ ক্লোসের। কিন্তু এখন তিনি নেমে গেছেন তৃতীয় স্থানে। তার আগে রয়েছেন লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পে। ব্রাজিলের সাবেক স্ট্রাইকার রোনালদো ১৯ ম্যাচে ১৫ গোল করে আছেন চতুর্থ স্থানে।

যৌথভাবে পঞ্চম স্থানে রয়েছেন গের্ড মুলার, তিনি পশ্চিম জার্মানির হয়ে মাত্র ১৩ ম্যাচে ১৪ গোল করেছিলেন। এবারের বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইনও ১৪ গোল করে তার সঙ্গে সমতায় পৌঁছেছেন।

ফ্রান্সের সাবেক স্ট্রাইকার জুস্ত ফঁতেন আছেন সপ্তম স্থানে। তিনবারের বিশ্বকাপজয়ী ব্রাজিল কিংবদন্তি পেলে ১২ গোল নিয়ে আছেন অষ্টম স্থানে।

ব্রাজিল ও জার্মানির পর গোলের সংখ্যায় তৃতীয় স্থানে রয়েছে ২০২২ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা, যাদের গোল ১৬৯টি। এরপর রয়েছে— ফ্রান্স ১৫২, ইতালি ১২৮, স্পেন ১১৯, ইংল্যান্ড ১১৭ ও নেদারল্যান্ডস ১০৭ গোল।

বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড গড়ার পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি সময় মাঠে থাকার রেকর্ডও লিওনেল মেসির দখলে।

৩২টি বিশ্বকাপ ম্যাচে তিনি খেলেছেন ২ হাজার ৮৪৪ মিনিট। এটি দ্বিতীয় স্থানে থাকা ইতালির সাবেক ডিফেন্ডার পাওলো মালদিনির চেয়ে ৬২৮ মিনিট বেশি। মালদিনি ১৯৯৪ বিশ্বকাপের রানার্সআপ দলের সদস্য ছিলেন।

তৃতীয় স্থানে রয়েছেন পর্তুগালের ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো (২ হাজার ২০৬ মিনিট)। এর পর জার্মান গোলরক্ষক মানুয়েল নয়্যার (২ হাজার ১৬০ মিনিট)। ১৯৯০ বিশ্বকাপজয়ী ও ব্যালন ডি'অর বিজয়ী জার্মান কিংবদন্তি লোতার ম্যাথাউস ২ হাজার ৪৫ মিনিট খেলে পঞ্চম স্থানে রয়েছেন। এর পর ২ হাজার মিনিট খেলার তালিকায় কোনো খেলোয়াড় নেই।

আরও