গ্র্যান্ড স্ল্যাম জিতেছেন ২২ বার। এর চেয়ে বেশি গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয় আর কারো নেই। বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে কতবারই তো দেয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন রাফায়েল নাদাল। চলতি উইম্বলডন ওপেনের কোর্টে আবারো সেরকম একটি প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখেছেন স্প্যানিশ তারকা। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর আমেরিকান টেনিস তারকা টেলর ফ্রিটজকে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠেছেন তিনি।
গতকাল বুধবার দিবাগত রাতে কোয়ার্টার
ফাইনালে সাড়ে ৪ ঘণ্টার লড়াইয়ে ৩-৬,
৭-৫, ৩-৬, ৭-৫, ৭-৬ (১০-৪) গেমে জেতেন ৩৬ বছর বয়সী রাফা।
আগামীকাল শুক্রবার সেমিফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার নিক কিরিওসের মুখোমুখি
হবেন তিনি।
চিলির ক্রিস্তিয়ান গারিনকে হারিয়ে প্রথমবার গ্র্যান্ড স্ল্যামের সেমিফাইনালে উঠেছেন কিরিওস । ২৭ বছর বয়সী এই খেলোয়াড় ম্যাচ জেতেন ৬-৪, ৬-৩, ৭-৬ (৭-৫) গেমে। ২০০৫ সালের পর প্রথম কোনো অস্ট্রেলিয়ান পুরুষ খেলোয়াড় হিসেবে উইম্বলডনের সেমিতে উঠলেন তিনি।
মৌসুমের শুরুতে ইন্ডিয়ান ওয়েলসের
ফাইনালে হারিয়ে নাদালকে হারিয়েছিলেন ২৪ বছর বয়সী ফ্রিটজ। উইম্বলডনেও একইরকম শুরু
করেন ফ্রিটজ। প্রথম সেটে একটা সময় ১-৩ এ পিছিয়ে ছিলেন। সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে ৩-৬ পয়েন্টে জিতে নেন সেট।
কিন্তু দ্বিতীয় সেটের মাঝপথে চোটে পড়েন নাদাল। এ কারণে কোর্ট ছেড়ে গিয়ে মেডিকেল
টাইম-আউট নিতে হয় তাকে।
নাদালের বাবা খেলা না চালিয়ে যাওয়ার
কথাও বলেছিলেন নাদালকে। কিন্তু বাবার অনুরোধের প্রতি কোনো কর্ণপাত করেননি, ফিরে আসেন কোর্টে। দ্বিতীয় সেট ৭-৫ পয়েন্টে
জিতে সমতা টানেন ম্যাচে। তৃতীয় সেট অবশ্য সহজেই জিতে নেন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্রিটজ।
চতুর্থ সেটে এক পর্যায়ে ৫-৪-এ এগিয়ে যান তিনি। তবে ঘুরে দাঁড়িয়ে সেই সেট জিতে
ম্যাচ শেষ সেটে নিয়ে যান নাদাল।
সেখানেও জমে ওঠে লড়াই। ৬-৬ পয়েন্ট হয়ে গেলে সেট গড়ায় টাইব্রেকে। এক পর্যায়ে ৫-০ তে এগিয়ে যান নাদাল। ফ্রিটজ এরপর ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও পেরে ওঠেননি। নাদলে জেতে ১০-৪ পয়েন্টে। তাতে ভেঙে যায় ফ্রিটজের গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ের স্বপ্ন।
এদিকে, আজ নারী এককের দুটি সেমিফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে। সাবেক চ্যাম্পিয়ন সিমোনা হালেপের মুখোমুখি হবেন কাজাখস্তানের ২৩ বছর বয়সী খেলোয়াড় এলেনা রিবাকিনা, অন্য সেমিফাইনালে তিউনিসিয়ার ওনস জাবেউর খেলবেন জার্মানির তাতিয়ানা মারিয়ার বিপক্ষে।