প্রবল বিরোধিতা

বিশ্বকাপের অংশীদারত্ব বিক্রির পরিকল্পনা থেকে সরে দাঁড়ালেন ইনফান্তিনো

উয়েফার ৫৫টি সদস্যদেশ গত বৃহস্পতিবার বিশ্বকাপসহ ফিফার সব প্রতিযোগিতা বয়কটের সিদ্ধান্ত নেয়। একই সঙ্গে উত্তর আমেরিকার কনকাকাফ এবং এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি)-ও পরিকল্পনার বিরোধিতা করে

বিশ্বকাপের অংশীদারত্ব বিক্রির বিতর্কিত পরিকল্পনা থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। বিশ্ব ফুটবলের বিভিন্ন মহল থেকে তীব্র বিরোধিতার মুখে তিনি এ সিদ্ধান্ত নিলেন। খবর এপি।

ইনফান্তিনোর এ সিদ্ধান্ত আসে ফিফার একজন জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টার পদত্যাগ এবং ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার সঙ্গে এশিয়ার ফুটবল সংস্থার একযোগে পরিকল্পনার বিরোধিতা করার পর।

গতকাল এক বিবৃতিতে ইনফান্তিনো বলেন, ‘সব পক্ষের মতামত মনোযোগ দিয়ে শোনার পর স্পষ্ট হয়েছে— এই প্রকল্প এমন বিভাজনের সৃষ্টি করেছে, যতই সমর্থন থাকুক না কেন পরিকল্পনাটি আমাদের মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে আর সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। আমাদের লক্ষ্য সবসময়ই ফুটবলকে ঐক্যবদ্ধ করা ও এগিয়ে নেয়া। তাই প্রস্তাবটি আর এগোনো হবে না।’

ইনফান্তিনো দুই হাজার কোটি ডলারের একটি কোম্পানি গঠনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন, যা বিশ্বকাপ পরিচালনা করবে। এতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের পরিবারসহ কয়েকটি বেসরকারি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়ার কথা ছিল। তবে গত মঙ্গলবার ফিফার পরিকল্পনাটি ঘোষণার পর থেকেই এর বিরুদ্ধে প্রতিদিনই বিরোধিতা বাড়তে থাকে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। ছবি: রয়টার্স

গত বৃহস্পতিবার উয়েফার ৫৫টি সদস্যদেশ বিশ্বকাপসহ ফিফার সব প্রতিযোগিতা বয়কটের সিদ্ধান্ত নেয়। একই সঙ্গে উত্তর আমেরিকার কনকাকাফ এবং এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি)-ও পরিকল্পনার বিরোধিতা করে।

এদিকে ফিফার জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা কার্লোস কর্দেইরো গতকাল পদত্যাগ করেছেন। গোল্ডম্যান স্যাকসের এ কর্মকর্তা বিশ্বকাপসংক্রান্ত হোয়াইট হাউজ টাস্কফোর্সে ফিফার প্রতিনিধিও ছিলেন। পদত্যাগের পাশাপাশি কর্দেইরো ফিফার অন্য জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদেরও মুখ খুলতে আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ‘ফিফা যখন বিশ্বকাপের মালিকানার অংশ বিক্রির কথা বিবেচনা করছে, তখন আমি নীরব থাকতে পারি না।’

এর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে ফিফা দাবি করেছিল, ‘কেউ ফুটবল বিক্রি করছে না।’

এরপর ফিফার প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা কেভিন লামুর এক বিবৃতিতে এপি-কে বলেন, বিক্রির পরিকল্পনা নিয়ে ইনফান্তিনোর গোপনীয়তায় ফিফার কর্মকর্তারা বিভ্রান্ত হয়েছেন এবং এ প্রকল্প আর এগোনো উচিত নয়।

তিনি লেখেন, ‘এটি একজন ব্যক্তির প্রকল্প। শুধু এই প্রকল্পই বন্ধ হওয়া উচিত নয়, বরং এখন সময় এসেছে ফুটবলের নীতিনির্ধারকদের নিজেদের কাছে সঠিক প্রশ্ন তোলা এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়ার।’

আরও