ডারবান টেস্টের প্রথম ইনিংসে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৩৬৭ রানে অলআউট করেছে বাংলাদেশ। আজ দ্বিতীয় দিন ৪ উইকেটে ২৩৩ রান নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামা প্রোটিয়ারা বাকি ৬ উইকেট হারিয়ে বোর্ডে আরো ১৩৪ রান যোগ করতে সমর্থ হয়। জবাব দিতে নেমে প্রথম দিকে ভালো শুরু করলেও পরে খেই হারায় টাইগাররা।
প্রোটিয়াদের বিপক্ষে দ্বিতীয় দিনের শেষ বিকেলে ৪ উইকেট হারিয়ে ৯৮ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশি ক্রিকেট দল। দক্ষিণ আফ্রিকার খরচ হয়েছে ৪৯ ওভার। ২৬৯ রানে পিছিয়ে সফরকারীরা।
শুরুতে সাদমানের উইকেট দিয়ে শুরু হয় প্রোটিয়াদের উল্লাস। এরপর একে একে সাজ ঘরের পথ ধরেন শান্ত, মুমিনুল ও মুশফিক। ক্রিজে আছেন ওপেনিংয়ে নামা জয় (৪৪), তাকে সঙ্গ দিচ্ছেন নাইটওয়াচম্যান তাসকিন (০)।
দিশেহারা পথে চলার শুরুর সময়টা অত্যন্ত ভালো ছিল বাংলাদেশ দলের। দুই ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয় ও সাদমান ইসলাম মিলে প্রোটিয়াদের মোকাবেলা করে চলেছিলেন। কিন্তু চায়ের বিরতিতে যাওয়ার আগে শেষ বলে হারমারের ঘূর্ণিতে সাদমান আউট হয়ে যান। ফেরার আগে ৩৩ বলে তিনি করেন ৯ রান।
শান্ত ক্রিজে এসে শান্তভাবেই জয়কে নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু দলীয় ৮০ রানে জুটি ভাঙে তাদের। তাকে বোল্ড করেন হারমার। দুই চার ও দুই ছক্কায় ৩৮ রান করে সাজঘরে যাত্রা করেন শান্ত।
মুমিনুল এসেও টিকে থাকতে পারেননি। এবারো অফস্পিনার হারমার ভেলকি। তার বলের ঘূর্ণি মুুমিনুলের ব্যাটের কানায় লেগে প্যাড ছুঁয়ে জমা পড়ে কেগান পিটারসেনের হাতে। শূন্য রানে ফিরে যান অধিনায়ক।
জয়ের সঙ্গী হতে পারেননি অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম তার যোগ্য সঙ্গী হতে পারেননি। আগের তিন উইকেট শিকারি হারমারের স্পিনেই মাত্র সাত রানে ফিরতে হয় রান মেশিনখ্যাত মুশফিককে।
এর আগে দ্বিতীয় দিনের শুরুতেই দক্ষিণ আফ্রিকা শিবিরে জোড়া আঘাত হানেন বাংলাদেশের পেস বোলার খালেদ আহমেদ। আগের দিনের অপরাজিত ব্যাটার কাইল ভেরেইনকে (২৮) দিনের ষষ্ঠ ওভারের দ্বিতীয় বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন এই পেসার। পরের বলে উইয়ান মুলডারকেও শিকারে পরিণত করেন খালেদ। গালিতে মাহমুদুল হাসান জয়কে ক্যাচ দিয়ে রানের খাতা সাদা রেখে সাজঘরে ফেরেন এই ব্যাটার। এরপর তেম্বা বাভুমাসহ আরো দুই উইকেট শিকার করে স্বাগতিকদের চাপে রাখে বাংলাদেশ।
ষষ্ঠ উইকেট পতনের পর কেশব মহারাজকে নিয়ে বোর্ডে আরো ৫৩ রান যোগ করেন বাভুমা। তিনি ছুটছিলেন ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরির দিকে। যদিও মাত্র ৭ রান দূরে থাকতে তাকে ফিরতে হয় সাজঘরে। মেহেদী হাসান মিরাজের ঘূর্ণিতে বিভ্রান্ত হয়ে তিনি বোল্ড হন। ১৯০ বলে ১২টি বাউন্ডারির সাহায্যে ৯৩ রান করেন প্রোটিয়াদের ওয়ানডে অধিনায়ক। সেঞ্চুরি না পেলেও গুরুত্বের বিচারে এটি সেঞ্চুরির চেয়েও হয়তো বেশি ভারী ইনিংস।
বাভুমার বিদায়ের রেশ কাটতে না কাটতেই প্রোটিয়াদের আরেক ধাক্কা দেয় বাংলাদেশ। পরের বলেই এবাদত বোল্ড করেন কেশব মহারাজকে (২৯৮/৮)। মহারাজ ৪০ বলে করেন ১৯ রান।
এরপর টেল-এন্ডের দৃঢ়তায় সাড়ে তিনশ পার হয় প্রোটিয়ারা। সাইমন হার্মার ও অভিষিক্ত লিজাড উইলিয়ামস নবম উইকেটে ৬৫ বলে ৩৪ রান এবং দশম উইকেটে হার্মার ও ডুয়ান অলিভিয়ার ৭২ বলে ৩৫ রান করে বাংলাদেশ বোলারদের যথেষ্ট ভুগিয়েছেন। এ দুটি জুটিতে প্রোটিয়াদের সংগ্রহটাও সাড়ে তিনশ পেরিয়ে যায়। হার্মার ৩৮ রানে অপরাজিত থাকেন। আর লিজাড ও অভিলিয়ার উভয়ই ১২ রান করে দলের স্কোরবোর্ডে অবদান রাখেন। জয়ের হাতে ক্যাচ বানিয়ে লিজাডকে সাজঘরে ফেরান খালেদ, আর অভিলিয়ারকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন মিরাজ।
সব মিলে ৯২ রানে চারটি উইকেট নিয়েছেন খালেদ, মিরাজের শিকার ৯৪ রানে তিনটি এবং এবাদত নিয়েছেন ৮৬ রানে দুটি উইকেট।
ডারবানে টস জিতে ফিল্ডিং বেছে নেয় বাংলাদেশ। দক্ষিণ আফ্রিকা ও বাংলাদেশ এই সিরিজের দুটি টেস্ট খেলবে। পরের টেস্ট পোর্ট এলিজাবেথে।