এক ফাইনাল, ইতিহাসের শিখরে মেসি

নিজের প্রথম গোল্ডেন বুট জয়ের থেকে মেসি এক পা দূরে। অপেক্ষায় তৃতীয় গোল্ডেন বল জেতার। দুটি মিললে তার হাতে উঠে যেতে পারে দ্বিতীয় বিশ্বকাপের শিরোপা। সব মিলে গেলে তার নবম ও সর্বোচ্চ ব্যালন ডি’অর ঠেকাবে কে? আজকের একটি রাত ইতিহাস গড়ার রাত।

কল্পনার সীমানা ছাড়িয়ে, স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিয়ে আর রেকর্ডের পর রেকর্ড ভেঙে চলেছেন লিওনেল মেসি। চল্লিশের দুয়ারে পৌঁছেও সবুজ গালিচায় ছোট্ট গড়নের এ আর্জেন্টাইন জাদুকরের দাপট যেন এতটুকুও কমেনি। বরং প্রতিটি ম্যাচেই নতুন করে মুগ্ধ করছেন ফুটবল বিশ্বকে। সময় বদলেছে, প্রজন্ম বদলেছে, কিন্তু মেসির জাদু যেন আজও একই রকম অমলিন।

আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির মাঠে নামা মানেই যেন নতুন কোনো ইতিহাসের জন্ম। নতুন মাইলফলক স্পর্শ করা যেন তার কাছে এখন নিত্যদিনের ঘটনা। তবে এবার বিশ্বকাপের ফাইনাল তার সামনে এনে দিয়েছে আরও বড় এক সুযোগ। এমন একটি কীর্তি গড়ার, যা শুধু তার রেকর্ডের খাতাকেই সমৃদ্ধ করবে না, বরং ফুটবল ইতিহাসে তার অমরত্বের স্বীকৃতিকে আরও বিস্তৃত ও অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দেবে।

নিজের প্রথম গোল্ডেন বুট জয়ের থেকে মেসি এক পা দূরে। অপেক্ষায় তৃতীয় গোল্ডেন বল জেতার। দুটি মিললে তার হাতে উঠে যেতে পারে দ্বিতীয় বিশ্বকাপের শিরোপা। সব মিলে গেলে তার নবম ও সর্বোচ্চ ব্যালন ডি’অর ঠেকাবে কে? আজকের একটি রাত ইতিহাস গড়ার রাত।

৮ গোল ও ৪ অ্যাসিস্টে লিওনেল মেসি গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে গতকাল পর্যন্তও এগিয়ে ছিলেন। গতকাল রাতে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে কিলিয়ান এমবাপ্পে জোড়া গোল করে মেসিকে ছাড়িয়ে গেছেন। তার গোল এখন ১০টি, অ্যাসিস্ট ৪টি। মেসি ফাইনালে ২ গোল করলে এমবাপ্পেকে ছাড়িয়ে নিজের প্রথম গোল্ডেন বুট জিতবেন। স্পেনের জাল ছিঁড়ে মেসি গোল করতে পারলে শুধু নিজের অর্জনই নয়, আর্জেন্টিনাকে শিরোপার পথেও এগিয়ে নেবেন নিশ্চিতভাবেই। ছয়টি বিশ্বকাপ খেললেও কখনো গোল্ডেন বুট না জেতা মেসির শোকেস নিশ্চিতভাবেই এই পুরস্কারের অপেক্ষায়।

এর আগে মেসি গোল্ডেন বল জিতেছেন দুইবার। অর্থাৎ, টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় হয়েছেন দুইবার—২০১৪ এবং ২০২২ সালে। ২০১৪ সালে ফাইনালে উঠেও শিরোপা জিততে পারেননি মেসি। ২০২২ সালে দলকে শিরোপা জিতিয়েছিলেন। এবারও মেসি যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছেন, গোল্ডেন বল তার হাতে ওঠা সময়ের ব্যাপার মাত্র। বিশ্বকাপের ইতিহাসে কখনো কোনো খেলোয়াড় তিনবার এই ট্রফি জেতেননি। মেসি স্রেফ ইতিহাস গড়ার অপেক্ষায়।

২০২২ সালে কাতারের লুসাইলে মেসির চিরকালীন আক্ষেপ দূর হয় বিশ্বকাপের শিরোপা জিতে। চার বছর পর মেসি ঠিক একই রোমাঞ্চের অপেক্ষায়। একই অর্জনের দ্বারপ্রান্তে। টানা দুই বিশ্বকাপ জিততে পারলে মেসির সাফল্যের মুকুটে যে পালক যুক্ত হবে, তা নিশ্চিতভাবেই সর্বকালের সেরা ফুটবলার নিয়ে যে বিতর্ক, তার ইতি টেনে দিতে পারবে। মেসিকে সর্বকালের সেরা বলতে আর দ্বিধা থাকবে না।

ফুটবলের ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ পুরস্কার ব্যালন ডি’অর। যেকোনো ফুটবলারের জন্য এই পুরস্কার আরাধ্য। এলএমটেন এই পুরস্কার জিতেছেন ৮টি। নবম ব্যালন ডি’অর জেতার দৌড়ে মেসিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে এগিয়ে। ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর দেওয়া হবে গত বছরের আগস্ট থেকে এ বছরের আগস্ট পর্যন্ত পারফরম্যান্স বিবেচনা করে। অর্থাৎ, বিশ্বকাপের পারফরম্যান্সের বড় প্রভাব থাকবে। ইন্টার মায়ামির হয়েও দারুণ ছন্দে আছেন মেসি। আর আর্জেন্টিনার জার্সিতে আছেন জাদুকরী ফর্মে। জাতীয় দল ও ক্লাবের হয়ে ব্যালন ডি’অরের এই সময়পঞ্জিতে এখন পর্যন্ত গোল করেছেন ৪৫টি। অর্থাৎ, ক্যারিয়ারের নবম ব্যালন ডি’অর জয়ের খুব ভালো সুযোগই আছে মেসির।

আরও