চোটের সঙ্গে যেন নেইমারের নিত্য বসবাস। বার্সেলোনা, পিএসজি কিংবা ব্রাজিল—প্রতিটি দলই তার চোটের কারণে ভুগেছে। এখন ভুগছে সৌদি আরবের ক্লাব আল হিলাল। চোট নিয়েই গত বছরের আগস্টে পিএসজি ছেড়ে সৌদি লিগের দল আল হিলালে যোগ দিয়েছিলেন ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার। সেরে ওঠার পর ক্লাবটির হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে মাত্র পাঁচ ম্যাচ খেলেছেন। আবার চোটে পড়েন তিনি। গত ১৮ অক্টোবর উরুগুয়ের বিপক্ষে ব্রাজিলের হয়ে বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের ম্যাচ খেলতে গিয়ে হাঁটুর লিগামেন্ট ছিঁড়ে যায় নেইমারের। তাতে মৌসুমই শেষ হয়ে যায় এ খেলোয়াড়ের।
চলতি মৌসুমে নেইমারের খেলার সম্ভাবনা ক্ষীণ বলেই তাকে বাদ দিয়েই সম্প্রতি স্কোয়াড ঘোষণা করে আল হিলাল। এর পরই গুজব ওঠে, ব্রাজিলিয়ান তারকার সঙ্গে চুক্তি বাতিল করেছে আল হিলাল! সৌদি আরব ও বিদেশের অনেক সংবাদমাধ্যম এ নিয়ে সংবাদও ছেপেছে। যদিও পরে জানা যায়, সেসব ছিল ভুয়া খবর।
ফুটবলবিষয়ক সংবাদমাধ্যম গোল ডট কমের সৌদি প্রতিনিধি সাইফ আল সাইফ নিশ্চিত করেছেন, আল হিলালের স্কোয়াডে রাখা না হলেও ক্লাবটির সঙ্গে ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত চুক্তিবদ্ধ আছেন নেইমার। তাকে কেন এ মৌসুমের দল থেকে বাদ দেয়া হয়েছে, সেই ব্যাখ্যাও দেয়া হয়েছে গোল ডট কমের এক প্রতিবেদনে।
সৌদি পেশাদার ফুটবল লিগের নিয়ম মানতেই নেইমারকে স্কোয়াড থেকে বাদ দিতে হয় আল হিলালকে। একটি ক্লাব তাদের স্কোয়াডে আটজনের বেশি বিদেশী খেলোয়াড় রাখতে পারবে না। নেইমার চোটে পড়ে ছিটকে যাওয়ায় সাত বিদেশী খেলোয়াড় নিয়ে খেলতে হচ্ছিল আল হিলালকে। তবু নেইমারের জায়গায় অন্য কোনো বিদেশী খেলোয়াড়কে দলে নেয়ার সুযোগ ছিল না। নতুন কাউকে অন্তর্ভুক্ত করতে হলে নেইমারকে স্কোয়াড থেকে বাদ দিতে হতো। সেটাই করেছে আল হিলাল।
বিদেশী কোটা পূরণেই নেইমারকে স্কোয়াড থেকে বাদ দিয়ে আরেক ব্রাজিলিয়ান রেনান লোদিকে দলে ভিড়িয়েছে আল হিলাল। ফরাসি ক্লাব অলিম্পিক মার্সেই ছেড়ে লোদি আল হিলালে নাম লেখান। ফলে নেইমার মৌসুমের বাকিটা সময় আল হিলালের অনিবন্ধিত খেলোয়াড় হিসেবে বিবেচিত হবেন।
বিশ্বকাপ বাছাই ম্যাচে চোটে পড়ার পর ব্রাজিল জাতীয় দলের চিকিৎসক রদ্রিগো লাসমার জানিয়েছেন, নেইমারের পুরোপুরি সেরে উঠতে প্রায় ৯ মাস লাগবে। সে হিসেবে এ বছরের জুলাইয়ের আগে তার মাঠে ফেরার সম্ভাবনা নেই। এদিকে প্রো লিগসহ সৌদির সব ঘরোয়া টুর্নামেন্ট শেষ হবে মে মাসে। তবে এখন অনেকটা আগেই সেরে উঠলেও আল হিলালের হয়ে সৌদি আরবের ঘরোয়া প্রতিযোগিতাগুলোয় খেলতে পারবেন না ৩১ বছর বয়সী নেইমার। কারণ, এখন তিনি ক্লাবটির অনিবন্ধিত খেলোয়াড়। এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগসহ অন্য আন্তর্জাতিক ক্লাব ফুটবলে অবশ্য খেলতে বাধা নেই তার।
শুধু তা-ই নয়, সৌদি আরবের ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় আগামী মৌসুমে খেলতে হলে নেইমারকে আবার নতুন করে নিবন্ধন করাতে হবে আল হিলালকে। তিনি আল হিলালের স্কোয়াডে যুক্ত হলে বিদেশী খেলোয়াড়ের সংখ্যা বেড়ে হবে ৯। সেক্ষেত্রে আল হিলালকে হয় একজন বিদেশীকে ছেড়ে দিতে হবে, নয়তো ধারে অন্য ক্লাবে পাঠাতে হবে। তারা কী করবে, সেটি সময়ের হাতেই তোলা থাক। আপাতত কয়েক মাস ব্রাজিল কিংবা আল হিলাল—কোনো দলের জার্সিতেই দেখা যাবে না নেইমারকে।
তবে সহসাই তার চুক্তিটা বাতিল করবে না আল হিলাল। কেননা ফিট হয়ে উঠলে হয়তো আগামী মৌসুমে তিনি আবার সৌদি আরবের পেশাদার লিগে ঝলক দেখাবেন। সেই অপেক্ষায় থাকতেই পারেন সৌদি আরবের ফুটবল অনুরাগীরা।
পিএসজিকে ৯০ মিলিয়ন ইউরো ফি দিয়ে নেইমারকে দলভুক্ত করেছে আল হিলাল। ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত আল হিলালের সঙ্গে চুক্তি নেইমারের। পিএসজিতে বছরে ২৫ মিলিয়ন ইউরো বেতন পেতেন নেইমার। আল-হিলালে দুই বছরে পাবেন ১৬০ মিলিয়ন ইউরো। এছাড়া তার জন্য অভিজাত এলাকায় বাড়ি, একাধিক গাড়ি ও প্রাইভেট বিমানের ব্যবস্থাও রেখেছে সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ক্লাবটি। যদিও তিনি চোটের কারণে মাঠের বাইরে ছিটকে পড়ায় চুক্তির শর্ত অনুযায়ী বেতন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার কতটা পাবেন, তা এখন অনিশ্চিত।
এদিকে চোটে পড়ায় আগামী জুন-জুলাইয়ে অনুষ্ঠেয় কোপা আমেরিকা টুর্নামেন্টেও খেলা হবে না নেইমারের। এবার যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে শিরোপা জিততে মরিয়া হবে নেইমারের দেশ, যা তারা সর্বশেষ জিতেছিল ২০১৯ সালে। মারাকানায় ২০২১ সালের ফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে হেরেছে ব্রাজিল।
নেইমারকে ঘিরে নেতিবাচক খবর আরো আছে। ২০১৭ সালে ২২২ মিলিয়ন ইউরোয় তাকে বার্সেলোনার কাছ থেকে কিনেছিল পিএসজি। সেই চুক্তিতে ফ্রান্স সরকারকে কত টাকা কর ফাঁকি দেয়া হয়েছে, সেটি তদন্তে নেমেছে বিচার বিভাগ। এ কাজে যুক্ত থাকার সন্দেহে পিএসজির যোগাযোগ পরিচালক জঁ-মার্শাল রিবেস ও ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁর দলের ডেপুটি হিউজ রেনসনকে জিজ্ঞাসাবাদও করেছে পুলিশ। ২০১৩ সালে তাকে যখন শৈশবের ক্লাব স্যান্টোস থেকে কিনে নেয় বার্সেলোনা, সেই চুক্তিতেও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। গোল ডটকম ও ফোর্বস