সিলেট টেস্ট শুরু আজ

বাংলাদেশের ২-০ করার সুযোগ, ঘুরে দাঁড়াতে চায় পাকিস্তান

মিরপুর টেস্ট জিতে সিরিজে দারুণ অবস্থান গড়ে নিয়েছে বাংলাদেশ। এগিয়ে থাকা বাংলাদেশের সামনে এবার পাকিস্তানকে ২-০-তে হারানোর হাতছানি।

সফরকারী দলও ঢাকায় হারের হতাশা ভুলে ঘুরে দাঁড়াতে চায় সিলেটে। এমনই সমীকরণ সামনে রেখে আজ সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হচ্ছে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট। খেলা শুরু হবে সকাল ১০টায়।

ঢাকায় প্রথম টেস্টে পাকিস্তানকে ১০৪ রানে হারিয়ে দেয় বাংলাদেশ। দলগত নৈপুণ্যে প্রতিপক্ষকে হারায় স্বাগতিকরা। নাজমুল হোসেন শান্তর সেঞ্চুরি, মেহেদী হাসান মিরাজ ও নাহিদ রানার ৫ উইকেট এবং মুমিনুল হক ও মুশফিকুর রহিমের ব্যাট হাতে অবদান দলকে দুর্দান্ত এক জয় এনে দেয়। এটা ছিল পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের টানা তৃতীয় জয় এবং ১৬ টেস্টের মধ্যে তৃতীয় জয়। টাইগারদের সামনে আজ সিরিজ জয়ের ও হেড টু হেড ১২-৪ করার সুযোগ।

যদিও পাকিস্তান সহজে ছাড় দেবে না। সফরকারী দলের কোচ সরফরাজ আহমেদ ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করে গতকাল সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘ঢাকার হারটি অবশ্যই হতাশাজনক। তবে যা ঘটেছে তা এখন অতীত। এটা নিয়ে আর আমরা ভাবতে চাই না, আমাদের পুরো মনোযোগ এখন পরের ম্যাচে। ইনশা আল্লাহ, একটি টিম হিসেবে খেলে আমরা ঘুরে দাঁড়াব।’ সাবেক অধিনায়ক বাবর আজম এ ম্যাচে খেলার জন্য ফিট বলে জানান পাকিস্তান কোচ।

পাকিস্তানিদের চেয়ে স্বাগতিক দলের খেলোয়াড়রা অনেকটা নির্ভার। সিরিজের প্রথম ম্যাচ জিতে স্বস্তিদায়ক অবস্থান গড়ে নেয়ায় ক্রিকেটাররাও রয়েছেন ফুরফুরে মেজাজে। এর পরও দলের সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিম গতকাল সংবাদ সম্মেলনে এসে সরাসরি জয়ের কথা বলেননি। তিনি বরং প্রশংসায় ভাসান ঢাকায় জয়ের অন্যতম নায়ক নাহিদ রানাকে। সেই সঙ্গে বর্তমান দলকে নিয়ে মূল্যায়নও করেছেন।

ঢাকা টেস্টে জয়ের নায়ক, আইসিসির এপ্রিলের সেরা খেলোয়াড়ের স্বীকৃতি পাওয়া নাহিদ রানাকে নিয়ে তিনি বলেন, ‘ওকে আমি প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেট থেকেই চিনি। গত দুই বছর সিলেটের হয়ে খেলেছি (জাতীয় লিগে), তবে রাজশাহীর হয়ে যখন সর্বশেষ খেলেছিলাম, চারটি চারদিনের ম্যাচ খেলেছিলাম, তখনই নাহিদ রানাকে কাছ থেকে দেখা এবং ওর সঙ্গে খেলা। তখন থেকে একটা ব্যাপার খুবই ভালো লেগেছিল। তখনই জানতাম যে ভবিষ্যতে ও জাতীয় দলে অবশ্যই খেলবে। তখন থেকেই ওর শেখার যে আগ্রহ বা নিজেকে উন্নত করার যে ইচ্ছাটা ছিল, এটা সাধারণত তরুণ ক্রিকেটারদের কম থাকে।’

স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ‘ও আমাকে জিজ্ঞেস করত, সবসময় জানতে চাইত যে আরেকটু কী করলে কী হয়, লাইফস্টাইল কেমন থাকা উচিত। একটা তরুণ ক্রিকেটারের মধ্যে যেটা দেখে আমি সত্যিই অবাক হয়েছিলাম এবং সত্যিই খুব খুশি হয়েছিলাম।’

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নাহিদ রানার সাড়া জাগানো বোলিং নিয়ে তিনি বলেন, ‘ওর যে অগ্রগতি হয়েছে, এটায় কখনো বিস্মিত হইনি, আগেই ওই সময়ে বুঝতে পেরেছিলাম, ওর এই ইচ্ছাটা আছে। এমনকি এখনো এত ভালো করার পর ও যেভাবে চিন্তা করে, নির্দিষ্ট ব্যাটসম্যানদের নিয়ে যেভাবে ভাবে বা ওর ওয়ার্ক এথিকস, খাওয়া-দাওয়া নিয়ে যেভাবে চিন্তা করে, এটা ভালো আভাস। যেকোনো তরুণ ক্রিকেটার যদি এ রকম হয়, তাহলে আসলে দলের আবহও ভিন্ন হয়ে যায়।’

শুধু দেশের মাটিতেই নয়, মুশফিকের আশা আগামী জুলাইয়ে অস্ট্রেলিয়ায় দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজেও ঝড় তুলবেন নাহিদ রানা। নিজেও প্রথমবার অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট খেলবেন বলে আশায় বুক বেঁধে আছেন। ৩৯ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান বলেন, ‘এটা তো অনেক বড় একটা স্বপ্ন, অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে গিয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট খেলা। নাহিদ রানার মতো এ রকম একজন স্পিড স্টার যদি থাকে। শুধু ও নয়, আমাদের তাসকিন বলেন, শরিফুল, আমাদের যে আট-দশজন মূল পেস বোলারের একটা গ্রুপ আছে, আশা করব তারা সুস্থ থাকবে এবং নিজেদের মেলে ধরবে।’

মুশফিক মনে করেন, ধারাবাহিকতা বিবেচনায় টেস্টে এখনই সেরা দল বাংলাদেশের। তার কথায়, ‘আগেও অনেক দারুণ ব্যক্তিগত পারফরমার ছিল। কিন্তু ধারাবাহিকতার দিক থেকে, অবশ্যই এখন যে টেস্ট দলটা খেলছে, সবসময়ের চেয়ে বেশি ধারাবাহিক। আগে আমরা এক বছরে গড়ে হয়তো সর্বোচ্চ তিনটা টেস্ট খেলতাম, এ রকম হলে ফল পাওয়া খুব কঠিন। এখন ৮-১০টা খেলি, আগের থেকে এটা ভালো। পারফরমারের সংখ্যাটাও এখন বেশি। পারফরমারের সংখ্যা যখন একটা দলে ৫ থেকে ৭-৮ জন হবে, সেই দলটা যেকোনো সংস্করণেই হোক তারা ভালো করবে।’

আরও