মেসির বিদায়ী ম্যাচ ঘিরে আলোচনায় ‘নাম্বার টেন’

গত ৩১ আগস্ট আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় মেসি।

জাতীয় দলের হয়ে নিজের বিদায়ী ম্যাচ খেলতে শুক্রবার প্রাইভেট জেটে জন্মভূমি আর্জেন্টিনায় পৌঁছেছেন লিওনেল মেসি। ২০২২ সালে যে দলটিকে বিশ্বকাপ শিরোপা জিতিয়েছিলেন সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে, বাংলাদেশ সময় বুধবার ভোরে সেই দলের হয়ে নিজের শেষ ম্যাচে বেনিনের বিপক্ষে মাঠে নামবেন মেসি। আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) জানিয়েছে, এ ম্যাচের উদ্দেশ্য হলো বিশ্বের সেরা খেলোয়াড় যেন ঘরের মাঠে তার প্রাপ্য বিদায়ী সংবর্ধনা পান, তা নিশ্চিত করা। এ ম্যাচের আগে আলোচনায় মেসির বিখ্যাত ১০ নম্বর জার্সি। কিংবদন্তি এ ফুটবলারের বিদায়ের পর আর্জেন্টিনার ১০ নম্বর জার্সি কে পরবেন, তা নিয়ে গুঞ্জন চরমে।

গত ৩১ আগস্ট আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় মেসি। এরপর এএফএ তাকে সংবর্ধনা দেয়ার পরিকল্পনা হাতে নেয়। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাত ৮টায় আফ্রিকার দল বেনিনের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ খেলবে আর্জেন্টিনা, যেটি হবে আলবিসেলেস্তেদের জার্সিতে মেসির শেষ ম্যাচ। ম্যাচটি খেলতে তিনি সপরিবারে প্রাইভেট জেটে করে মায়ামি থেকে আর্জেন্টিনায় নিজ শহর রোজারিওতে পৌঁছেন।

আর্জেন্টিনায় এখন উৎসবের আমেজ। বুয়েন্স আয়ার্স বিশ্ববিদ্যালয় তাকে এ সুযোগে ‘ডক্টরেট’ ডিগ্রির সনদ তুলে দেবে। ২০২২ সালের বিশ্বকাপজয়ী বেশ কয়েকজন সতীর্থও মেসির বিদায়ী ম্যাচের এ উদযাপনে যোগ দেবেন। তবে ইতালির ক্লাব এএস রোমা ছাড়পত্র দিতে অস্বীকৃতি জানানোর কারণে পাওলো দিবালা ও নাহুয়েল মলিনা এ ম্যাচে উপস্থিত থাকতে পারছেন না।

আলবিসেলেস্তে জার্সিতে মেসির ২১ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সমাপ্তি ঘটছে। এ দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি রেকর্ড ১২৫টি গোল এবং আরো দুটি বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলার কীর্তি রেখে যাচ্ছেন। এ বছর স্পেনের কাছে এবং ২০১৪ সালে জার্মানির কাছে হেরেছিল আর্জেন্টিনা। ওই দুটিতে না হারলে শোকেসে আরো বিশ্বকাপ শিরোপা জমা পড়তে পারত তার।

বিদায় নিয়েছেন বলে চলতি আন্তর্জাতিক উইন্ডোতে আর্জেন্টিনার অন্য কোনো ম্যাচে খেলছেন না মেসি। এরই মধ্যে তাকে ছাড়া বলিভিয়াকে ৪-০ গোলে হারিয়েছে আর্জেন্টিনা এবং শনিবার (বাংলাদেশ সময় আজ ভোরে) বুরকিনা ফাসোর বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচ খেলার কথা রয়েছে লিওনেল স্কালোনির দলের। যদিও আফ্রিকান দলটির ভ্রমণ-সংক্রান্ত সমস্যার কারণে অনিশ্চয়তার মুখে ছিল ম্যাচটি।

মেসির বিদায়ের পর একটি রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা। কে পরবেন তার বিখ্যাত ১০ নম্বর জার্সি, তা নিয়ে জোর আলোচনা। নিকো পাজ, ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুওনো, থিয়াগো আলমাদা নাকি অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার—এ প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। ১৭ বছর ধরে ১০ নম্বর জার্সি নিয়ে কোচ কিংবা এএফএকে ভাবতে হয়নি। এবার তারা পড়েছেন কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে। কোচ স্কালোনি বলেছেন, ‘বলিভিয়া, বুরকিনা ফাসো ও বেনিন ম্যাচে কেউই ১০ নম্বর জার্সি পরবে না। মেসির বিদায়ী ম্যাচের পর সিদ্ধান্ত হবে। এসব ম্যাচে কেউই ১০ নম্বর জার্সি পাবে না। আমরা কাউকেই এটা দিচ্ছি না। আমরা লিওর ম্যাচ পর্যন্ত অপেক্ষা করব, এরপর দেখি কী হয়।’

আর্জেন্টিনার ফুটবলে ১০ নম্বর জার্সির রয়েছে বিশেষ স্থান। আলবিসেলেস্তেদের তিনটি বিশ্বকাপ জয়ের সঙ্গেই ১০ নম্বর জার্সির এক অমর সম্পর্ক বিদ্যমান: ১৯৭৮ সালে মারিও কেম্পেস, ১৯৮৬ সালে দিয়েগো ম্যারাডোনা ও ২০২২ সালে লিওনেল মেসি।

এ জার্সির মহিমা নিজেই তুলে ধরলেন মেসি, ‘আমরা সবাই জানি কিংবা ভাবি যে খেলোয়াড় হিসেবে আমরা ভিন্ন ছিলাম। যে যা-ই হোক না কেন, আমরা প্রত্যেকেই তরুণ বয়স থেকে ১০ নম্বর জার্সি পরতে চেয়েছি। অবশ্যই এটা সব সময় বিশেষ এক জার্সি ছিল আমাদের জন্য।’

লিওনেল স্কালোনি জানিয়েছেন, মেসির জায়গায় আর্জেন্টিনার নেতৃত্ব পাচ্ছেন ক্রিস্টিয়ান রোমেরো। বিবেচনায় আছেন এমিলিয়ানো মার্তিনেজও। তবে ১০ নম্বর জার্সির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি।

ম্যারাডোনার বিদায়ের পর অ্যারিয়েল ওর্তেগা পরেছেন ১০ নম্বর জার্সিটা। ২০০৯ সালে মেসি গায়ে তোলার পর এ জার্সি নিয়ে আর কোনো কথা হয়নি। তবে এখন রূপান্তর আসন্ন, মেসির বিদায়ে অন্য কাউকে জার্সিটা দিতেই হচ্ছে।

১০ নম্বর জার্সি ঘিরে আর্জেন্টিনার ড্রেসিংরুম ও মাঠে বিশেষ সংস্কৃতি ও উত্তরাধিকার গড়ে তুলেছেন কেম্পেস, ম্যারাডোনা ও মেসি। তিনজনই ছিলেন বাম পায়ের কুশলী খেলোয়াড়। ড্রিবলিং, বলের ওপর অবিশ্বাস্য নিয়ন্ত্রণ, কল্পনাশক্তি আর গোল স্কোরিং দক্ষতা নিয়ে তারা নিজেদের অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন এবং দেশের জন্য বয়ে এনেছেন সাফল্য। তাদের কীর্তিই ১০ নম্বর জার্সিকে এনে দিয়েছে বিশেষ মর্যাদা।

আরও