দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরিতে ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় দিনের নায়ক তানজিদ হাসান তামিম। ১৯৭ বল খেলে ১০১ রান করেছেন ৮ বাউন্ডারি ও ১ ছক্কায়। এটা তার ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি এবং অস্ট্রেলিয়ায় নিজের প্রথম টেস্টে সেঞ্চুরি করা প্রথম বাংলাদেশি ও এশিয়ার মাত্র দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান তিনি। আজ ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে বামহাতি এ ব্যাটার জানিয়েছেন, সেঞ্চুরিটা তিনি বাবা-মাকে উৎসর্গ করছেন।
এক প্রশ্নের জবাবে তানজিদ বলেন, ‘দ্বিতীয় টেস্টে আমার এটা প্রথম সেঞ্চুরি, সত্যিই অনেক ভালো লাগার মুহূর্ত। সেঞ্চুরিটা যেহেতু স্পেশাল এটি আমি বাবা-মাকে উৎসর্গ করলাম।’
তিনি বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, খুব ভালো একটা দিন পার করেছি আমরা। আমাদের প্ল্যানিং এরকম ছিল যে, প্রথম সেশনটা কীভাবে পার করতে পারি। ওরাও ভালো বোলিং করেছে। তবে আমাদের চেষ্টা ছিল, আমরা বাড়তি কিছু করব না।’
কমফোর্ট ফিল করেছেন কিনা, টাফ টাইম গেছে কিনা, অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের মধ্যে কার বলটা খেলা কঠিন ছিল? এ প্রশ্নের উত্তরে তানজিদ, ‘যেহেতু ওরা নাম্বার ওয়ান টিম, টাফ টাইম তো দিবেই। তবে আমার কাছে মনে হয়েছে, ওদের বিপক্ষে নতুন বলে খেলাটা একটু কঠিন ছিল। আমরা চেষ্টা করেছি কীভাবে শট মিনিমাইজ করে স্ট্রাইক রোটেট করা যায় এবং চেষ্টা করেছি উইকেটে থেকে বাজে শট না খেলে পার্টনারশিপ গড়া যায়। আপনি দেখবেন, আমার ও মুমিনুল ভাইয়ের আমার ও শান্ত ভাইয়ের এবং শান্ত ভাই ও মুশফিক ভাইয়ের পার্টনারশিপ অনেক ভালো ছিল; যা ভালো রান করতে হেল্প করছে।
আর যেটা বললেন, আমি আসলে কোনো বোলার দেখে খেলিনি, আমি বলের মেরিট বিচার করে ব্যাটিং করার।’
অজিদের পেস বোলাররা বাউন্সার, ইয়র্কার ছাড়াও স্লেজিং করেন। এ নিয়ে তানজিদ বলেন, ‘আমি এজন্য রেডি ছিলাম। জানতাম, উইকেট না পেলে ওরা অনেক হার্ড টাইম দেবে। বোলিং করে হোক কিংবা মুখেও। ওরা করেছে কিছুটা, তবে আমি যেহেতু আগে রেডি ছিলাম, খুব বেশি গুরুত্ব দেই নাই।’
উইকেট নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি যতক্ষণ ব্যাটিং করেছি উইকেট ততক্ষণ ভালো ছিল। শেষের দিকে হাসান ও মিরাজ ভাইয়ের ব্যাটিং করার সময়ও ভালোই মনে হয়েছে। তবে ওরা অনেক শক্ত বোলিং করেছে। আমার মনে হয়েছে, যতক্ষণ বেশি ব্যাটিং করতে পারব আমাদের জন্য ততই ভালো।’
কত রান করতে পারলে কাজটা সহজ হবে? এ প্রশ্নের উত্তরে তানজিদ বলেন, ‘যেহেতু আমাদের সামনে তিনদিন বাকি আছে কাজেই আমরা চেষ্টা করব যতটা বেশি সময় ব্যাটিং করা যায়, তত ভালো। যত বেশি রান দেয়া যায় আমাদের বোলারদের জন্য কাজটা তত ইজি হবে।’
ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি দলে নিয়মিত মুখ তানজিদ। গত মে মাসে সিলেটে পাকিস্তানের বিপক্ষে অভিষেক ঘটে তার। টেস্টের মাইন্ডসেট নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি নরমালি যেভাবে ওয়ানডেতে ব্যাটিং করি, আমি একই মাইন্ডসেট নিয়েই এখানে আসছি। যেহেতু তারা আমাকে অতটা বাজে বল করে নাই কিংবা রুম দেয় নাই, টাইট লাইনে বল করেছে তাই আমি চেষ্টা করেছি যতটা ধৈর্য্য নিয়ে খেলা যায়।’
সবশেষে অ্যাডাম গিলক্রিস্টের কাছ থেকে প্রশংসা পাওয়া নিয়ে তিনি বলেন, ‘ছোটবেলায় অ্যাডাম গিলক্রিস্টের খেলা দেখেছি। উনি আমার ইন্টারভিউ করার সময় বলছিলেন যে, আমার ব্যাটিংটা বেশ উপভোগ করেছেন। কাজেই এটা বেশ ভালো লেগেছে। এটা আমার জন্য বড় অনুপ্রেরণার।’