নারী কর্মীর সঙ্গে ইনফান্তিনোর সম্পর্ক, খবর প্রকাশের পর গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ফিফার

মূলত ফিফার সাবেক এক নারী কর্মীর সঙ্গে ইনফান্তিনোর সম্পর্কের খবর ঘিরে এ উত্তেজনা। ইনফান্তিনো যখন ফিফার মহাসচিব ছিলেন, তখন তখন ওই কর্মীর সঙ্গে সম্পর্ক ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। ওই নারী পরে চাকরি ছাড়ার সময় উয়েফার কাছ থেকে একটি বড় অঙ্কের অর্থ পেয়েছিলেন। ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি বিষয়টি নিশ্চিত করেছে গতকাল

জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে চাপে ফেলতে গণমাধ্যমের কিছু অংশ কাজ করছে, এ অভিযোগে সরব হয়েছে ফিফা। সংস্থাটি বলছেন, ‘কিছু ব্যক্তি ফিফা ও এর প্রেসিডেন্টকে হেয় করতে সমন্বিত ও চলমান প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।’ খবর দ্য গার্ডিয়ান।

মূলত ফিফার সাবেক এক নারী কর্মীর সঙ্গে ইনফান্তিনোর সম্পর্কের খবর ঘিরে এ উত্তেজনা। ইনফান্তিনো যখন ফিফার মহাসচিব ছিলেন, তখন তখন ওই কর্মীর সঙ্গে সম্পর্ক ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। ওই নারী পরে চাকরি ছাড়ার সময় উয়েফার কাছ থেকে একটি বড় অঙ্কের অর্থ পেয়েছিলেন। ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি বিষয়টি নিশ্চিত করেছে গতকাল। তবে ইনফান্তিনোর সঙ্গে সাবেক কর্মীর সম্পর্কের অভিযোগ ফিফা পুরোপুরি অস্বীকার করেছে।

এর আগের দিন দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ জানায়, ইনফান্তিনোর সঙ্গে ওই নারীর কথিত সম্পর্কের পর তাকে ছয় অঙ্কের অর্থ দেয়া হয়েছিল। অর্থাৎ, অর্থের পরিমাণ এক লাখের বেশি। এক বিবৃতিতে উয়েফা নিশ্চিত করেছে, ওই কর্মীকে একটি অর্থ দেয়া হয়েছিল এবং তার এমবিএ কোর্সের খরচও বহন করা হয়েছিল। উয়েফার দাবি, সে সময়কার নিয়ম অনুযায়ী এসব করা হয়েছিল।

দ্য টেলিগ্রাফ-কে ফিফা জানিয়েছে, ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে ‘নিয়মবহির্ভূত আচরণ বা কোনো বিধি-নিয়ম লঙ্ঘনের ইঙ্গিত দেয়া মানহানিকর’।

এরপর শনিবার রাতে ফিফা আরো বিস্তৃত বিবৃতি দেয়। এতে ইনফান্তিনোর সমালোচকদের কঠোরভাবে আক্রমণ করা হয়।

ফিফার এক মুখপাত্র বলেন, ‘ফিফার সদস্য অ্যাসোসিয়েশনগুলো গণতান্ত্রিকভাবে ফিফার প্রেসিডেন্টকে নির্বাচিত করেছে এবং তিনি তাদের দেয়া ম্যান্ডেট অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। এখন ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে, কিছু ব্যক্তি ফিফা ও সংস্থার প্রেসিডেন্টকে হেয় করতে সমন্বিত ও চলমান প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।’

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ‘যাদের ফিফার সদস্য অ্যাসোসিয়েশনগুলোর সমর্থন নেই, তারা ফিফার প্রতিষ্ঠিত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় যা অর্জন করতে পারেননি, তা অভিযোগ, ইঙ্গিত বা ভুল তথ্য ছড়িয়ে অর্জনের চেষ্টা করা উচিত নয়। সাম্প্রতিক কিছু প্রতিবেদনে ফিফা ও সংস্থার প্রেসিডেন্ট সম্পর্কে এমন কিছু দাবি করা হয়েছে, যেগুলোর কোনো ভিত্তি নেই এবং কিছু দাবি স্পষ্টতই মিথ্যা। অনুমান ও ইঙ্গিতকে তথ্য হিসেবে উপস্থাপন করা উচিত নয়। একই অভিযোগ বারবার করা হলেও তা সত্য হয়ে যায় না।’

ইনফান্তিনোকে ফিফা এমন একজন নেতা হিসেবে তুলে ধরে, যিনি ‘ইউরোপ ও বিশ্ব ফুটবলের জন্য তার পেশাগত জীবনের ৩০ বছরেরও বেশি সময় উৎসর্গ করেছেন’।

বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি বলেছে, ‘ফিফা বৈধ ও যৌক্তিক যাচাই-বাছাইকে স্বাগত জানায়। তবে যাচাই-বাছাইয়ের নামে তথ্য বিকৃত করা, ভিত্তিহীন অভিযোগকে বড় করে তোলা কিংবা ফিফার অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করা গ্রহণযোগ্য নয়।’

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ‘কোনো প্রতিবেদন ভুল বা বিভ্রান্তিকর হলে ফিফা সরাসরি এবং কঠোরভাবে তার প্রতিবাদ করবে। ফিফার দায়িত্ব ২১১টি সদস্য অ্যাসোসিয়েশন এবং বিশ্বের ফুটবলের প্রতি। আমরা সংগঠনকে আরো শক্তিশালী করা, সদস্য অ্যাসোসিয়েশনগুলোর জন্য কাজ করা এবং ফুটবলকে সত্যিকার অর্থে বৈশ্বিক খেলায় পরিণত করার কাজ থেকে কোনোভাবেই বিচ্যুত হব না।’

ফিফার প্রতিযোগিতাগুলো পরিচালনার জন্য একটি নতুন কোম্পানি গঠন করে সেখানে বেসরকারি বিনিয়োগ নেয়ার ইনফান্তিনোর পরিকল্পনা প্রকাশ্যে আসার পর এবং পরে সেটি ভেস্তে যাওয়ার পর তার ওপর চাপ আরো বেড়েছে। ওই কোম্পানির অধীনে পুরুষ ও নারী বিশ্বকাপসহ ফিফার বিভিন্ন প্রতিযোগিতা পরিচালনার পরিকল্পনা ছিল।

ফিফা জানিয়েছে, আগামী মার্চের নির্বাচন পর্যন্ত ইনফান্তিনোর পদ নিয়ে কোনো চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করা হবে না।

এদিকে উয়েফার ৫৫টি সদস্য দেশ ফিফার প্রতিযোগিতা বয়কট করতে পারে—এমন হুমকি এখনো বহাল রয়েছে। ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, প্রস্তাবিত ওই বেসরকারি বিনিয়োগ পরিকল্পনা প্রত্যাহার করে নেয়া হলেও তাদের অবস্থানের ‘কোনো পরিবর্তন হয়নি’।

আরও