পাতাগোনিয়ার ছোট শহর কুট্রাল কোর অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছে সদ্য নির্মিত ৮৫ ফুট উঁচু লিওনেল মেসির ভাস্কর্য। আর স্থানীয় সময় বুধবার সেই ভাস্কর্যের সামনে জড়ো হয়েছিল শত শত মানুষ। ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠায় তারা উল্লাসে মেতে ওঠেন।
যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় অনুষ্ঠিত সেমিফাইনালে পিছিয়ে থেকেও ম্যাচের শেষ দিকে দুটি গোল করে জয় নিশ্চিত করে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
শুধু কুট্রাল কো নয়, আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েনস আইরেসসহ সারা দেশেই বিজয় উদ্যাপনের ঢেউ ছড়িয়ে পড়ে। এখন শিরোপা ধরে রাখার পথে আর্জেন্টিনার সামনে শেষ বাধা স্পেন। আগামী ১৯ জুলাই ফাইনালে জিততে পারলে ১৯৬২ সালের পর প্রথম দল হিসেবে টানা দুইবার বিশ্বকাপ জয়ের ইতিহাস গড়বে তারা।
নিউকেন প্রদেশের প্রায় ৪০ হাজার মানুষের শহর কুট্রাল কোয় বিশাল পর্দায় খেলা দেখার জন্য মেসির ভাস্কর্যের পাশে প্রায় ৩০০ মানুষ জড়ো হয়েছিলেন। শেষ বাঁশি বাজতেই আনন্দধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। পরে সেখানে কয়েক হাজার সমর্থকের সমাগম ঘটে এবং আতশবাজির রঙে আলোকিত হয়ে ওঠে আকাশ।
স্থানীয় বাসিন্দা ৩২ বছর বয়সী লুকাস রোমেরো বলেন, এটি ছিল এক অসাধারণ জয়। মেসি দেশের জন্য যা করেছেন, এ ভাস্কর্য তারই যথাযথ স্বীকৃতি।
আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচটি শুধু ফুটবলের লড়াই ছিল না; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপ, ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড (আর্জেন্টিনার ভাষায় মালভিনাস) যুদ্ধ এবং ১৯৮৬ বিশ্বকাপে দিয়েগো ম্যারাডোনার বিখ্যাত ‘হ্যান্ড অব গড’ গোলের স্মৃতি।
এর আগে, গত জুনে স্থানীয় শিল্পী আলদো বেরোইসা নির্মিত বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু মেসি ভাস্কর্য উদ্বোধনের মাধ্যমে কুট্রাল কো আন্তর্জাতিকভাবে আলোচনায় আসে।
২০২২ সালের তুলনায় এবারের বিশ্বকাপের শুরুতে আর্জেন্টিনায় উন্মাদনা কিছুটা কম ছিল। অনেকের ধারণা ছিল, কাতারে শিরোপা জয়ের পর এবার চাপ কম থাকবে। তবে দল যতই নকআউট পর্বে এগিয়েছে, ততই সমর্থকদের আবেগ ও উদ্বেগ বেড়েছে। প্রতিটি জয়ের পর বুয়েনস আইরেসের রাস্তায় হাজারো মানুষ উদ্যাপনে নেমে আসে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মারিয়ানো গেসিক বলেন, আমি আবেগে আপ্লুত। এ দল বারবার ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি, লড়াইয়ের মানসিকতা এবং অদম্য ইচ্ছাশক্তির প্রমাণ দিয়েছে। বিশ্বকাপের ফাইনালে আমাদের জায়গা পুরোপুরি প্রাপ্য।