ফুটবলে ‘আরব বসন্ত’

২০২৬ বিশ্বকাপে খেলবে ৭ আরব দেশ

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ দেখতে যাচ্ছে আরব ফুটবলের উত্থান। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে সাতটি আরব দেশ সরাসরি খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ দেখতে যাচ্ছে আরব ফুটবলের উত্থান। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে সাতটি আরব দেশ সরাসরি খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’-এর ইতিহাসে এক আসরে এতগুলো আরব দেশ আগে কখনই খেলেনি। আফ্রিকা ও এশিয়ায় ঝাঁঝালো লড়াইয়ের পর এখন বিশ্বমঞ্চে নিজেদের প্রমাণের অপেক্ষায় আরব দেশগুলো।

এবারের বিশ্বকাপে অংশ নিতে চলা সাতটি আরব দেশের চারটি এসেছে আফ্রিকা থেকে—মরক্কো, তিউনিসিয়া, আলজেরিয়া ও মিসর। এশিয়া থেকে বিশ্বকাপের টিকিট কেটেছে সৌদি আরব, কাতার ও জর্ডান।

মরক্কো: ২০২৬ বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করা প্রথম আফ্রিকান দল মরক্কো। গত মাসে নাইজারকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে তারা এ যোগ্যতা অর্জন করে। টানা ১৬ জয়ের রেকর্ড নিয়ে আশরাফ হাকিমিদের মরক্কো এবার বিশ্বকাপে আসছে। ২০২২ সালে প্রথম আফ্রিকান দল হিসেবে সেমিফাইনালে পৌঁছে চতুর্থ স্থান অধিকার করে ইতিহাস গড়েছিল অ্যাটলাস লায়ন্স।

তিউনিসিয়া: ‘কার্থেজের ঈগল’ খ্যাত তিউনিসিয়া বাছাইপর্বে অপরাজিত থেকে এবং গ্রুপ পর্বে কোনো গোল হজম না করে বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করেছে। কৌশলগত শৃঙ্খলা ও শক্তিশালী রক্ষণভাগ নিয়ে তারা অতীতের চেয়েও ভালো ফল করার স্বপ্ন দেখছে। ১৯৭৮ সালে প্রথম আরব দল হিসেবে বিশ্বকাপ ম্যাচ জিতেছিল তিউনিসিয়া।

আলজেরিয়া: ২০২২ বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ার পর আরো শক্তিশালী হয়ে ফিরেছে আলজেরিয়া। ‘ডেজার্ট ওয়ারিয়র্স’দের এ প্রত্যাবর্তন মূলত এক নতুন প্রজন্মের ইউরোপভিত্তিক প্রতিভাবান ফুটবলারদের সাফল্যের প্রতিফলন। তাদের সঙ্গে অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের মিশেলে দলটির লক্ষ্য থাকবে তাদের পরিচিত রক্ষণাত্মক কৌশল ও কাউন্টার অ্যাটাকের কৌশল বজায় রাখা। ২০১৪ সালে তারা রাউন্ড অব ১৬-এ পৌঁছেছিল।

মিসর: ২০২২ বিশ্বকাপ মিস করার পর দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে মিসর। আফ্রিকার বাছাইপর্ব জুড়ে তারা দেখিয়েছে অনবদ্য পারফরম্যান্স—সামঞ্জস্যপূর্ণ দল, নব উদ্যম আর দৃঢ় সংকল্পের এক নিখুঁত সমন্বয়। এই যোগ্যতা অর্জন আবারো জ্বালিয়ে দিয়েছে লাখ লাখ সমর্থকের আবেগ, যারা বহুদিন ধরে অপেক্ষায় ছিলেন মিসরকে ফুটবলের মহাতারকাদের কাতারে ফিরে দেখতে।

অক্টোবর ২০২৫-এর গোড়ার দিকে জিবুতির বিরুদ্ধে বড় জয়ে গ্রুপের শীর্ষে থেকে বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন করেছে ‘ফারাও’রা। মোহামেদ সালাহর মতো সুপারস্টার খেলোয়াড় এবং বিপুল ঘরোয়া সমর্থনের ভিত্তিতে দলটি এবার গ্রুপ পর্বের বাধা পেরিয়ে ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন দেখছে। উল্লেখ্য, বিশ্বকাপ ইতিহাসে মিসর এখনো কোনো জয় পায়নি। এ অপূর্ণতা ঘোচাতে ‘ইজিপশিয়ান কিং’য়ের দিকেই হয়তো তাকিয়ে থাকবে মিসর।

সৌদি আরব: চলতি মাসে ইরাকের সঙ্গে স্নায়ুক্ষয়ী ড্র করে এশিয়ান গ্রুপে শীর্ষস্থান দখল করে সৌদি আরব। এর মধ্য দিয়ে সপ্তমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছে দেশটি। ১৯৯৪ সালে অভিষেক আসরে তারা রাউন্ড অব ১৬-এ পৌঁছেছিল। বিশ্বকাপে সেটাই তাদের সেরা ফল। কাতার বিশ্বকাপে শুরুর দিকে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে সর্বকালের অন্যতম বড় আপসেট জন্ম দেয়া সৌদি আরবের দিকে চোখ রাখবে দর্শক।

কাতার: ২০২২ বিশ্বকাপের স্বাগতিক কাতার এবার বাছাইপর্ব পেরিয়ে মূল আসরের যোগ্যতা অর্জন করেছে। এ মাসেই সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ২-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করে তারা। সাম্প্রতিক আসরগুলোয় চাপ সামলানোর অভিজ্ঞতা তাদের রক্ষণকে আরো জমাট করতে পারে।

জর্ডান: জর্ডানের জন্য এ বিশ্বকাপে সুযোগ পাওয়ার ঘটনা সম্পূর্ণ ঐতিহাসিক। ৪০ বছরের অপেক্ষা শেষে এ বছরের জুনে তারা তাদের প্রথম বিশ্বকাপ খেলার যোগ্যতা অর্জন করে। এ অর্জন আন্ডারডগের বাজিমাত করার এক অনন্য গল্পের প্রতিফলন। দলীয় দৃঢ়তা ও কখনোই হাল না ছাড়ার মানসিকতাই জর্ডানকে এনে দিয়েছে ফুটবল বিশ্বের নতুন সম্মান।

আরও