সংগীতের সুবর্ণ সময় মোগল যুগ

দক্ষিণ এশিয়ায় মোগল সাম্রাজ্যের সূচনা ১৫২৬ সালে। পানিপথের প্রথম যুদ্ধে জহিরুদ্দিন মুহাম্মদ বাবরের বিজয়ের মধ্য দিয়ে মোগল সাম্রাজ্যের ভিত্তি স্থাপিত এবং ১৮৫৭ সালে ভারতীয় বিদ্রোহ দমন করে ব্রিটিশরাজ প্রতিষ্ঠার মধ্যে দিয়ে মোগল শাসনের সমাপ্তি। সাম্রাজ্য শেষ দিকে দুর্বল হয়ে পড়লেও মোগলদের শাসনকাল ৩৩১

দক্ষিণ এশিয়ায় মোগল সাম্রাজ্যের সূচনা ১৫২৬ সালে। পানিপথের প্রথম যুদ্ধে জহিরুদ্দিন মুহাম্মদ বাবরের বিজয়ের মধ্য দিয়ে মোগল সাম্রাজ্যের ভিত্তি স্থাপিত এবং ১৮৫৭ সালে ভারতীয় বিদ্রোহ দমন করে ব্রিটিশরাজ প্রতিষ্ঠার মধ্যে দিয়ে মোগল শাসনের সমাপ্তি। সাম্রাজ্য শেষ দিকে দুর্বল হয়ে পড়লেও মোগলদের শাসনকাল ৩৩১ বছরের। ১৬৯০ সালের ৪০ লাখ বর্গকিলোমিটার ভূমিজুড়ে মোগলদের ভারতবর্ষ বিস্তৃত ছিল। তখন লোকসংখ্যা ছিল ১৫ কোটি ৮৪ লাখ। দাপ্তরিক ভাষা ছিল ফার্সি।

বাবর থেকে বাহাদুর শাহ জাফরসংগীতভক্ত ছিলেন সব মোগল সম্রাট। রটনা আছে আওরঙ্গজেব সংগীত নিষিদ্ধ করেছিলেন এটি পুরো সত্য নয়। ধ্রুপদী সংগীতের ওপর আওরঙ্গজেবের আগ্রহের কথাও শোনা যায়। সম্রাট শাহজাহান উঁচু দরের সংগীতশিল্পী ছিলেন। তার সুরেলা কণ্ঠ বহুল প্রশংসিত। আর সম্রাট আকবরের সভার অন্যতম জ্যোতিষ্ক ছিলেন মিয়া তানসেন।

রচনাটি কয়েকটি ইংরেজি রচনার নির্বাচিত অংশের অনুসৃতি। রচনাগুলোর মধ্যে রয়েছে মোগল ইনফ্লুয়েন্স অন ইন্ডিয়ান মিউজিক। জাগরান ঘোষের মিউজিক ইন মেডিয়েভাল পিরিয়ড, প্রগতি সেনের দ্য কন্ট্রিবিউশন অব মোগলস ইন দ্য ফিল্ড অব মিউজিক, অজিত আগরওয়ালের তানসেন বিষয়ক একাধিক রচনা, কুলদীপ কুমারের সিনক্রেটিক মিউজিক : দ্য রিচ হিস্ট্রি অব মুসলিম ইন ইন্ডিয়ান মিউজিক। প্রভাত কুমার গোস্বামী, দিলীপ কুমার মুখোপাধ্যায় কুমারপ্রাসাদ মুখোপাধ্যায়ের গ্রন্থের সহায়তাও নেয়া হয়েছে।

ভারতীয় সংগীতে মোগলদের অবদান অবিস্মরণীয়। শাসক সমাজে সংগীত শিল্পের এমন সমঝদার পৃষ্ঠপোষক দুর্লভ। মোগল শাসনামলে ভারতীয় ক্ল্যাসিক্যাল মিউজিক দুটি ভিন্ন ধারায় বিকশিত হয়, মূলত ইসলামী সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রভাবে একটি উত্তর ভারতীয় হিন্দুস্তানি ধারা, অন্যটি দক্ষিণ ভারতীয় কর্ণাটকি। ঐতিহ্যগত ভারতীয় সংগীত এবং পারস্য প্রভাবে হিন্দুস্তানি ধারাটি গড়ে ওঠে। এখন থেকে উঠে আসে খেয়াল গজল।

দিল্লি সালতানাত প্রতিষ্ঠা মুসলমান শাসকদের হাতেই। তার পর পরই মোগল শাসনের মাধ্যমে মূলত ফার্সি ভাষা পারস্য সংস্কৃতির প্রভাব ভারতীয় সংগীতে একটি নতুনকালের সূচনা করেআর তা ভারতীয় সনাতন সংগীতকে উপেক্ষা করে নয়, নতুন প্রভাবকে স্বাগত জানিয়ে আত্তীকরণ করে।

সংগীতবিরোধী হিসেবে চিত্রিত হয়ে আছেন সম্রাট আওরঙ্গজেব। গোলকোন্ডার সুলতান আবুল হাসান আওরঙ্গজেবের হাতে দাক্ষিণাত্যের দৌলতাবাদে কারাবন্দি জীবনযাপন করছিলেন। কুমারপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় লিখেছেন, কোনো এক গায়কের গান শুনে মুগ্ধ হয়ে সুলতান হাসান বলেছিলেন আজ যদি আমার রাজ্য থাকত, আমি গায়ককে লাখ টাকা পুরস্কার দিতাম। সে সময় আওরঙ্গজেব দাক্ষিণাত্যেই ছিলেন। সুলতানের কথাটা তার কানে আসে। তিনি তখনই হাসানের হাতে লাখ টাকা পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা করেন।

সম্রাট আকবরের রাজত্বকালে ভারতীয় সংগীতের বিকাশ এককভাবে বিস্তারিত আলোচনার দাবি রাখে। সম্রাট জাহাঙ্গীরের রাজত্বকাল ১৬০৫-১৭। সময় তার পিতা আকবরের দরবারের কয়েকজন সংগীতজ্ঞ জাহাঙ্গীরের দরবারেও নিয়োজিত ছিলেন, তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য রঙ্গ খাঁ দ্বৈরথ খাঁ। সময়ের উল্লেখযোগ্য একজন শিল্পী বিলাস খাঁ। তার জামাতা লাল খাঁও জাহাঙ্গীরের দরবারের শিল্পী হিসেবে সুনামের অধিকারী হয়েছেন। লাল খাঁর পুত্রদের মধ্যে ধ্রুপদ ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন খুশাল খাঁ বিশ্রাম খাঁ। দরবারে আরো ছিলেন গুন সেন সুরৎ সেন। একালের রাজভক্ত অমিত বিশেষণ ব্যবহারকারী চাটুকার কবিদের মতো রাজদরবারের শিল্পীরাও কেউ কেউ রাজাবাদশাহর জন্য গান বাঁধতেনএটা সম্রাট আকবরের দরবারেই লক্ষ করা গিয়েছে। গুন সেন সুরৎ সেন ধারায় জাহাঙ্গীর বন্দনা করেছেন। প্রভাতকুমার গোস্বামী লিখেছেন, এমনকি খুশাল খাঁর গানেও একই ভণিতায় সংগীতবিরোধী আওরঙ্গজেবের গুণগান করা হয়েছে। সম্রাট শাহজাহানের রাজত্বকাল ১৬২৭-৫৮। জাহাঙ্গীর শাহজাহানের সময় চমক লাগানো স্থাপত্যকলার সৌধ নির্মাণ হতে থাকে। সংগীতের পুরনো ধারাটি অব্যাহত থাকলেও সংগীতের প্রসারে বড় কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। শাহজাহানের দরবারের গুরুত্বপূর্ণ শিল্পীরা হচ্ছেন লাখ খাঁ, খুশাল খাঁ, বিশ্রাম খাঁ, রঙ্গ খাঁ, জগনাথ কবি রায়, গুন সেন, শেখ মহম্মদ, শেখ বাহাউদ্দিন, শেখ মহম্মদ মিয়া, ডালু ঢাঢ়ী, নবাৎ খাঁ ঢারী। অনেকেই এসেছেন সরাসরি শাহজাহানের পিতা জাহাঙ্গীরের দরবার থেকে।

১৬৫৮-১৭০৭ সম্রাট আওরঙ্গজেবের শাসনামলে রাজদরবারে সংগীত না থাকলেও সংগীতের ওপর শ্রেষ্ঠ কয়েকটি গ্রন্থ সময়ই রচিত। সম্রাট সংগীতজ্ঞদের প্রতি খড়্গহস্ত ছিলেন বলে যে প্রচারণা রয়েছে তা সঠিক নয়। সংগীতজ্ঞ গ্রন্থকার ফকিরুল্লাহ তার রচিত একটি সংগীত শাস্ত্রীয় গ্রন্থ আওরঙ্গজেবের নামেই উৎসর্গ করেছিলেন।

কালের বিচারে অন্যতম শ্রেষ্ঠ সংগীতজ্ঞ মীরা বাই, কবীর তুলসী দাস মোগল শাসনের প্রথম দিককার শ্রেষ্ঠ প্রতিভা।

সংগীত বিশ্লেষক সংগীতের ইতিহাস প্রণেতারা ভারতীয় সংগীতের উদ্ভব বিকাশ পাঁচটি কালানুক্রমিক পর্বে বিভক্ত করেছেন:

. সিন্ধু সভ্যতা যুগ: খ্রিস্টপূর্ব ৩০০০-২০০০

. বৈদিক যুগ : খ্রিস্টপূর্ব ২০০০-১০০০

. বৈদিকোত্তর যুগ: খ্রিস্টপূর্ব ১০০০-১২০৬ খ্রিস্টাব্দ

. মধ্যযুগ: ১২০৭-১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দ

. আধুনিক যুগ: ১৭৫৭ পরবর্তী সময় চলমান

মোগল আমল মানে মধ্যযুগের শেষোর্ধ্ব, ১৫২৬- বাবরের ভারতবর্ষের সিংহাসন আরোহণের মধ্য দিয়ে শুরু এবং ১৭৫৭-তে ইংরেজদের অধিগ্রহণ পর্যন্ত বিস্তৃত। প্রভাতকুমার গোস্বামী লিখিছেন: মোগল সম্রাটের শাসনকালে বিশেষ করে সম্রাট আকবরের রাজত্বকাল (১৫৬৬-১৬০৫) ভারতীয় সংগীতের এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। নব নব সংগীত ধারা জন্ম হয় যুগে। হিন্দু মুসলমান সংগীতের মিশ্রণও হয় যুগে।

আকবরনামা

ভারত সম্রাট আকবরের নবরত্ন সভা বিশ্বখ্যাত। আকবরের শাসনকাল ১৫৫৬-১৬০৫ খ্রিস্টাব্দ। তার নবরত্ন সভার সদস্যরা হচ্ছেন:

. আবুল ফজল ইবনে মুবারক, প্রধান উজির বা মন্ত্রী

. রাজা টোডর মাল, অর্থ বাণিজ্যমন্ত্রী

. আবদুর রহিম খান--খানান, প্রতিরক্ষামন্ত্রী

. রাজা বীরবল, পররাষ্ট্রমন্ত্রী

. ফৈজি, শিক্ষামন্ত্রী

. মুল্লা দোপেয়াজা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

. ফকির আজিওদ্দিন, ধর্মমন্ত্রী

. মিয়া তানসেন, সংস্কৃতিমন্ত্রী গায়ক

. রাজা মানসিংহ, মোগল সেনাপ্রধান

নয়জনের প্রত্যেকেই নিজ নিজ ক্ষেত্রে বিশেষ কৃতিত্বের অধিকারী। তাদের মধ্যে যার ব্যক্তি প্রতিভা অর্ধসহস্র বছর পরও প্রবল উপস্থিতি ঘোষণা করে এবং আরো অর্ধসহস্র বছর তার প্রভাব বলয় থেকে বের হওয়া প্রায় অসম্ভব বলে মনে করা হয় তিনিই মিয়া তানসেন।

আকবরকে অনুসরণ করে বাংলার শাসক রাজা কৃষ্ণচন্দ্র (শাসনকাল ১৭২৭-৭২) একজন সংগীত স্রষ্টাকে অন্তর্ভুক্ত করে নিজের নবরত্ন সভা গঠন করেন। বাংলার সেই নয় সভাসদ হচ্ছেন গোপাল ভাঁড়, ভরতচন্দ্র রায়গুণাকর, রাজপ্রসাদ সেন, বানেশ্বর বিদ্যালমার, কৃষ্ণচন্দ্র বাচস্পতি, রামমোহন গোস্বামী, মধুসূদন ন্যায়ালঙ্কার, জগন্নাথ তর্কপঞ্চানন হরিরাম তর্কসিদ্ধান্ত।

সম্রাট আকবর পড়তে লিখতে শেখেননি, তার জীবনীকাররা এটাকে সত্য বলেই মেনে নিয়েছেন। কিন্তু বিদ্যাবুদ্ধি, সামরিক, প্রশাসনিক, সংস্কৃতি জ্ঞানে তার সমকক্ষ কেউ যে ছিলেন না এটাও তাদের স্বীকার করতে হয়েছে। তিনি যাদের তার রাজসভায় গ্রহণ করেছেন, যাদের সান্নিধ্য তিনি কামনা করেছেন, তারা ছিলেন বিদগ্ধ পণ্ডিত। নবরত্নের অন্যতম মিয়া তানসেনের অধীনে রাজসভায় যে ৩৬ জন প্রধান সংগীতজ্ঞ ছিলেন, আবুল ফজল আইন- আকবরীতে তাদের সবার নাম উল্লেখ করেছেন। তাদের বাইরেও একটি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সংগীতজ্ঞ ভারতীয় সংগীতকে সমৃদ্ধ করেছেন বলে আবুল ফজল উল্লেখ করেছেন। প্রভাতকুমার গোস্বামীর ভারতীয় সংগীতের কথা গ্রন্থ থেকে আবুল ফজল উদ্ধৃত শিল্পীদের একটি তালিকা উপস্থাপন করা হচ্ছে।

রাজসভার ৩৬ সংগীত পণ্ডিত হচ্ছেন তানসেন, বাবা রামদাস, সুভান খাঁ, শ্রীজ্ঞান খা, মিয়া চাঁদ, বিচিত্র খাঁ, মহম্মদ খাঁ ঢাঢ়ী, বীরমন্ডল খাঁ, রাজা বাহাদুর, শীহাব খাঁ, দাউদ ঢাঢ়ী, সরোদ খাঁ, সুরদাস (বাবা রামদাসের পুত্র), মিয়া লাল, তানতরঙ্গ খাঁ, মুন্না ইশাক ঢাঢ়ী, উস্তা দোস্ত, নানক জারজু, পুরবীণ খাঁ, চাঁদ খাঁ, রঙ্গ সেন, শেখ দেওয়ান ঢাঢ়ী, রহমতুল্লাহ, মীর সাজ্জীদ আলী, উস্তা ইউসুফ, কাসীম, তাশ বেগা, সুলতান হাফিস হোসেন, বহরম কুল, সুলতান হাসিম (মশাদ), উস্তা শা মহম্মদ, উস্তা মহম্মদ আমিন, হাফিজ খাজা আলী, মীর আবদুল্লাহ, পীর জাদা, উস্তা মহম্মদ হোসেন।

নাম দেখেই প্রাথমিকভাবে মুসলমান শনাক্ত করা সম্ভব, তবে ভারতীয় নামধারী আপাত শ্রুতিতে অমুসলিম মনে হলেও অন্যদের মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সংগীতজ্ঞ মুসলমান। তালিকার ১৫ জন ছিলেন খ্যাতনামা বাদ্যযন্ত্রী। দেশীয় হিন্দু মুসলমান তো ছিলেনই, ইরান-তুরান থেকেও শিল্পীরা এসে যোগ দিয়েছেন। বিশিষ্ট শিল্পীদের মধ্যে কয়েকজন নারীও ছিলেন। সম্রাট আকবরকে কেবল সংগীতের সমঝদার প্যাট্রন বলে তার কীর্তিকে সীমিত করা হয়। আসলে তিনি নিজে সংগীতজ্ঞ ছিলেন, লাল কালাওয়ান্ত ছিলেন তার শিক্ষক। মোগল যুগের শিল্পীরা দিল্লি সালতানাতের আমির খুসরোর (১২৫৩-১৩২৫) প্রভাব অকপটে স্বীকার করেছেন। ফার্সি, তুর্কি, আরবি ব্রজভাষায় তিনি সংগীত রচনা যোজনা করেছেন।

মোগল আমলে উদ্ভূত ঘরানা

ঘরানা হচ্ছে সুনির্দিষ্ট ঢঙের গায়ন কিংবা বাদ্যরীতি, যা ধারাবাহিকভাবে বা বংশানুক্রমে অনুসৃত হয়, তাতে প্রবর্তনকারীর স্মরণীয় ভূমিকা থাকে, শিষ্যরাও তার স্বাতন্ত্র ধরে রাখেন। বিশেষ করে ভারতীয় সংগীত ঘরানাভিত্তিক এবং অধিকাংশ ঘরানাই মোগল শাসনামলে উত্তর বা দক্ষিণ ভারতের কোথাও না কোথাও সৃষ্ট। দিলীপ কুমার মুখোপাধ্যায়ের ভারতীয় সংগীতে ঘরানার ইতিহাস থেকে কিছু তথ্য উপস্থাপন করছি।

যেমন তানসেনের ঘরানাসনিয়া (তান মানে সংগীত, সেন মানে যা অন্তরকে দ্রবীভূত করে, সেন থেকে সেনিয়া) ঘরানার সৃষ্টি প্রায় ৪৫০ বছর আগে, কিন্তু সেনিয়া কোনো অর্থোডক্স ধারা নয়, তা বহমান সৃজনশীল। তানসেনের পুত্র দৌহিত্রও পিতৃপুরুষের সৃষ্টির সঙ্গে সংযোজন-বিয়োজন করে নিজস্ব ঘরানা তৈরি করেছেন, এগুলো শাখা ঘরানা।

গোয়ালিয়র ঘরানা মোগল শাসন শুরুর আগেই রাজা মানসিংহ তোমরের সভায় উদ্ভূত। পীর বকশ ঘরানার আদি পুরুষ। মোগল দরবারে ঘরানার খেয়াল শিল্পী ছিলেন। লক্ষেৗর তবলা ঘরানার একাধিক ধারা এখনো ভারতীয় সংগীতে আদৃত। শাজাহানপুর, বিষ্ণুপুর ঘরানা উদ্ভূত মোগল শাসনের শেষের দিকে। তানসেন সৃষ্ট সেনিয়া ঘরানার উত্তরসূরি রাজপুর ঘরানার জোয়ার বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়ও ঢেউ তুলেছে।

পাদটীকা: মোগল আমলে সংগীত জীবন বাঁচিয়েছে। সম্রাট হুমায়ুন ১৫৩৫ সালে বর্তমান মধ্যপ্রদেশের মান্ডু শহর দখল করার পর কারাবন্দিদের হত্যা করা হচ্ছে, এমন সংবাদ সম্রাটের কাছে পৌঁছে। হুমায়ুন জানতে পারেন বন্দিদের একজনের নাম বাচ্চুতিনি একজন সংগীতশিল্পী। হুমায়ুন তাকে কেবল উদ্ধারই করেননি, দরবারের সংগীতজ্ঞ হিসেবে নিয়োগও প্রদান করেছেন। প্রতি সোম বুধবার হুমায়ুন দরবারে সংগীত উপভোগ করতেন।

 

এমএ মোমেন: সাবেক সরকারি কর্মকর্তা

আরও