কেন সুজাউদ্দিনকে ‘উদ্ধত ও শক্তিশালী’ বলত ইংরেজরা?

ইংরেজ নথিপত্রে সুজাউদ্দিন মোহাম্মদ খান পরিচিত ছিলেন এক ‘উদ্ধত ও শক্তিশালী সুবা’ হিসেবে। তাই নবাবের সঙ্গে প্রকাশ্য সংঘাতে জড়ানোর ঝুঁকি নিতে চাইত না কলকাতার ইংরেজ কাউন্সিল।

আঠারো শতকের প্রথমার্ধে বাংলা ছিল ইউরোপীয় বাণিজ্যিক কোম্পানিগুলোর কাছে অন্যতম আকাঙ্ক্ষিত অঞ্চল। বাংলার মসলিন, রেশম, সুতি কাপড়সহ নানা ধরনের পণ্যের চাহিদা ছিল ইউরোপের বাজারে। এ বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে ইংরেজ, ফরাসি ও ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা বিরাজমান ছিল। পাশাপাশি পর্তুগিজ, ড্যানিশ ও অন্যান্য ইউরোপীয় বণিকও বাংলার বাণিজ্যে নিজেদের অবস্থান প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছিল। বাংলার মসনদে তখন আসীন সুজাউদ্দিন মোহাম্মদ খান। তার শাসনামলে একদিকে বাংলার সমৃদ্ধ বাণিজ্য ইউরোপীয় কোম্পানিগুলোকে আকৃষ্ট করছিল, অন্যদিকে সে বাণিজ্যের নিয়ন্ত্রণ ও রাজস্ব আহরণ নিয়ে নবাবি সরকারের সঙ্গে তাদের টানাপড়েনও ক্রমে স্পষ্ট হয়ে উঠছিল। ইউরোপীয় কোম্পানিগুলো বাংলার সম্পদ ও বাজারে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে চাইলেও নবাবের সরকার তাদের বাণিজ্যিক সুবিধাকে অবাধ ক্ষমতা হিসেবে মেনে নিতে প্রস্তুত ছিল না।

সুজাউদ্দিনের শাসনামলে (১৭২৭-৩৯) বাংলায় ইউরোপীয় কোম্পানিগুলোর বাণিজ্য যথেষ্ট সমৃদ্ধ ছিল। এ সময় ইংরেজ ও ডাচদের পাশাপাশি ফরাসিরাও বাণিজ্য সম্প্রসারণে সক্রিয় হয়ে ওঠে। ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কলকাতা কাউন্সিলের চিঠিপত্রে দেখা যায়, ফরাসিদের ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য নিয়ে ইংরেজরা উদ্বিগ্ন ছিল। ফরাসি কোম্পানি ইউরোপমুখী জাহাজের সংখ্যা বাড়াচ্ছিল, একই সঙ্গে বাংলার স্থানীয় বণিকদের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করছিল। ডাচরাও ইংরেজদের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে সচেষ্ট ছিল। ফলে বাংলার বাজারে আধিপত্য বিস্তারের লড়াই শুধু ইউরোপীয় কোম্পানিগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি; এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল স্থানীয় বণিক, নবাবি প্রশাসন ও রাজস্ব আহরণের প্রশ্ন। এ প্রতিযোগিতার মধ্যে নবাবের সরকারের অবস্থান ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইউরোপীয় কোম্পানিগুলোর হাতে নিজস্ব বসতি, গুদাম ও বাণিজ্য কেন্দ্র থাকলেও সেগুলো বাংলার রাজনৈতিক কর্তৃত্বের বাইরে ছিল না। কোম্পানিগুলো নিজেদের সনদ ও বিশেষ বাণিজ্যিক সুবিধার ভিত্তিতে শুল্কের বোঝা কমাতে চাইত। অন্যদিকে নবাবি প্রশাসনের কাছে বাণিজ্য থেকে রাজস্ব আদায় ছিল রাষ্ট্রীয় আয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস। কোম্পানিগুলোর বিশেষাধিকার যদি শুল্ক আদায়ের ব্যবস্থাকে দুর্বল করে, তবে তার প্রভাব পড়ত সরকারের আয় ও কর্তৃত্ব উভয় ক্ষেত্রেই। ফলে বাণিজ্যিক সুবিধা নিয়ে বিরোধ দেখা দিলে নবাবি প্রশাসন যে কঠোর অবস্থান নিত, তার পেছনে কেবল ব্যক্তিগত অসন্তোষ নয়, রাজস্ব ও শাসন ব্যবস্থার প্রশ্নও কাজ করত।

ইংরেজ নথিপত্রে সুজাউদ্দিন মোহাম্মদ খান পরিচিত ছিলেন এক ‘উদ্ধত ও শক্তিশালী সুবা’ হিসেবে। তাই নবাবের সঙ্গে প্রকাশ্য সংঘাতে জড়ানোর ঝুঁকি নিতে চাইত না কলকাতার ইংরেজ কাউন্সিল। কারণ এমন বিরোধের সুযোগ কাজে লাগাতে প্রস্তুত ছিল তাদের প্রধান দুই ইউরোপীয় প্রতিদ্বন্দ্বী—ডাচ ও ফরাসি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি। ইংরেজদের আশঙ্কা ছিল, নবাবের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটলে প্রতিদ্বন্দ্বী কোম্পানিগুলো বাংলায় নিজেদের বাণিজ্য আরো সম্প্রসারণ করবে। এমনকি ইংরেজদের অবস্থান দুর্বল করে তাদের জায়গা দখলে নবাবি সরকারকেও নিজেদের পক্ষে টানার চেষ্টা করতে পারে। ফলে সুজাউদ্দিনের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়া মানে শুধু নবাবের বিরাগভাজন হওয়া নয়, বাংলার বাণিজ্যে নিজেদের প্রতিদ্বন্দ্বীদের জন্যও নতুন সুযোগ তৈরি করে দেয়া। নবাবের সঙ্গে সম্পর্কের এ সমীকরণ ইংরেজদের প্রায়ই বিপুল অর্থ ব্যয় করতে বাধ্য করত। বাণিজ্য সচল রাখা, প্রশাসনিক বাধা এড়ানো এবং নিজেদের বিশেষাধিকার অক্ষুণ্ন রাখতে বিভিন্ন সময়ে তাদের নজরানা ও অন্যান্য অর্থ দিতে হতো। ইংরেজ কোম্পানির নথিপত্রে নবাবি সরকারের এ অর্থ আদায়ের প্রবণতাকে ‘লোভী স্বভাব’ বলে অভিহিত করা হয়েছিল।

তবে ইংরেজদের এমন অভিযোগের পেছনে ছিল তাদের নিজস্ব বাণিজ্যিক স্বার্থ। আর তার অনেকাংশই ছিল ‘দস্তক’-কে কেন্দ্র করে। দস্তক ছিল নির্দিষ্ট শর্তে শুল্কমুক্ত বা বিশেষ সুবিধায় পণ্য পরিবহনের অনুমতিপত্র। কোম্পানির অনুমোদিত বাণিজ্যে এর ব্যবহার থাকলেও সময়ের সঙ্গে কোম্পানির কর্মচারীদের ব্যক্তিগত ব্যবসায়ও এর অপব্যবহার বাড়তে থাকে। ব্যক্তিগত বাণিজ্যের পণ্যকে কোম্পানির পণ্য হিসেবে দেখিয়ে শুল্ক এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছিল। এতে একদিকে বাংলার সরকার রাজস্ব হারাচ্ছিল, অন্যদিকে স্থানীয় বণিকেরা অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়ছিলেন। কোম্পানির অভ্যন্তরীণ চিঠিপত্রেও দস্তকের অপব্যবহার নিয়ে সতর্কতার উল্লেখ পাওয়া যায়। ইংরেজ কর্তৃপক্ষ কখনো কখনো নিজেদের কর্মচারী ও দালালদের নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও ব্যক্তিগত বাণিজ্য বন্ধ করার বিষয়ে তাদের আগ্রহ ছিল সীমিত। কারণ কোম্পানির কর্মচারীদের ব্যক্তিগত বাণিজ্য তাদের আয়েরও একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস ছিল।

এ দ্বৈত অবস্থানই নবাবি সরকারের সঙ্গে ইংরেজদের বিরোধকে জটিল করে তোলে। কোম্পানি একদিকে দস্তকের অপব্যবহার নিয়ন্ত্রণের কথা বলত, অন্যদিকে ব্যক্তিগত বাণিজ্য পুরোপুরি বন্ধ করতে চাইত না। কলকাতা কাউন্সিলের চিঠিপত্রে এমন উদ্বেগের প্রকাশ রয়েছে যে ব্যক্তিগত বাণিজ্য বন্ধ হলে তাদের কর্মচারীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কিন্তু বাংলার সরকারের দৃষ্টিতে কোম্পানির কর্মচারীদের ব্যক্তিগত লাভের চেয়ে রাজস্ব আদায়ের প্রশ্নটি ছিল বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কোম্পানির বিশেষাধিকার ব্যবহার করে যদি বিপুল পরিমাণ পণ্য শুল্কের আওতার বাইরে চলে যায়, তবে সে সুবিধা আর কেবল বাণিজ্যিক অধিকার থাকে না; তা হয়ে ওঠে সরকারের রাজস্ব ও কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করা।

ইউরোপীয় বণিকদের প্রতি নবাবি প্রশাসনের কঠোরতার একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত পাওয়া যায় হুগলির ফৌজদার সুজা কুলি খানের সঙ্গে ইংরেজদের বিরোধে। সুজা কুলি খান ছিলেন নবাব সুজাউদ্দিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। এক পর্যায়ে তিনি ইংরেজ, ডাচ ও ফরাসি বণিকদের কাছে উচ্চ হারে শুল্ক দাবি করেন। ইউরোপীয় বণিকেরা সে দাবি প্রত্যাখ্যান করলে তাদের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়। এর জেরে সুজা কুলি খান ইংরেজদের কিছু কাঁচা রেশম ও কাপড়ের গাঁট বাজেয়াপ্ত করেন। পরে কলকাতা থেকে পাঠানো একদল সৈন্য সেগুলো উদ্ধার করলেও বিরোধের নিষ্পত্তি হয়নি; বরং তা গড়ায় নবাবের দরবার পর্যন্ত।

সুজা কুলি খান নবাবকে ইংরেজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে রাজি করান। অতঃপর নবাবি সৈন্যের সহায়তায় কলকাতা ও কাসিমবাজারে ইংরেজ বসতিগুলোয় সরবরাহ বন্ধ করে দেয়া হয়। আর সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাণিজ্য সচল রাখাই ইংরেজদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি সামাল দিতে কাসিমবাজারের ইংরেজ ফ্যাক্টরির প্রধান নবাবকে ৩ লাখ টাকা নজরানা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। ঘটনাটি ইউরোপীয়রা উপলব্ধি করতে পারে যে বাংলায় বাণিজ্যিক অবস্থান ধরে রাখতে পুঁজি ও পণ্যের পাশাপাশি নবাবি সরকারের আনুকূল্যও জরুরি ছিল।

বাংলায় ব্যবসা করতে এসে ইংরেজদের শুধু শুল্ক ও প্রশাসনিক বাধার মুখেই পড়তে হতো না, লেনদেনের জন্য কোন মুদ্রা ব্যবহার করা হবে, তা নিয়েও নবাবের সরকারের সিদ্ধান্ত মেনে চলতে হতো। মাদ্রাজ ও আর্কটের রুপি ব্যবহারের ক্ষেত্রে ইংরেজদের আগ্রহ থাকলেও নবাবি সরকার সবসময় তাতে সম্মতি দেয়নি। কখনো এসব মুদ্রার প্রচলন নিষিদ্ধ করা হতো, কখনো উচ্চ হারে বাট্টা দিয়ে সেগুলো ব্যবহারের অনুমতি মিলত। এতে পণ্য কেনাবেচা ও আর্থিক লেনদেনের হিসাব জটিল হয়ে উঠত এবং কোম্পানির লেনদেনের ব্যয় বেড়ে যেত।

১৭৩৮ সালের ২০ জানুয়ারি কলকাতার কাউন্সিল ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির পরিচালক পর্ষদকে জানায়, বাংলায় মাদ্রাজি রুপির প্রচলনের জন্য জোরালো অনুরোধ জানিয়েও তারা অনুমতি পায়নি। বিদেশী মুদ্রার ওপর শুল্ক আরোপের ব্যবস্থাও কোম্পানির জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করেছিল। কোম্পানিগুলো নিজেদের সুবিধামতো মুদ্রা ব্যবহার করতে চাইত; অন্যদিকে নবাবি প্রশাসন স্থানীয় মুদ্রা ব্যবস্থার ওপর কর্তৃত্ব বজায় রাখতে আগ্রহী ছিল। এ পরিস্থিতিতে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কৌশল ছিল দ্বিমুখী। একদিকে তারা দিল্লির দরবার থেকে নিজেদের বাণিজ্যিক সুবিধার পক্ষে ফরমান আদায়ের চেষ্টা করত; অন্যদিকে বাংলার নবাবের সঙ্গে সরাসরি সংঘাত এড়িয়ে চলতে চাইত। দিল্লি থেকে পাওয়া কোনো আদেশ বাংলায় কার্যকর হবে কিনা, তা অনেকাংশে নির্ভর করত নবাবের সম্মতির ওপর। ফলে কোম্পানির কাছে সম্রাটের ফরমান গুরুত্বপূর্ণ হলেও সেটিই বাংলার প্রশাসনিক বাস্তবতায় চূড়ান্ত নিশ্চয়তা ছিল না। স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে বিরোধ দেখা দিলে উপহার, নজরানা কিংবা অর্থ প্রদানের মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেয়ার পথও তারা বেছে নিত। এ আচরণ থেকে বোঝা যায়, তখনো বাংলার নবাবের কর্তৃত্ব ইউরোপীয় বাণিজ্যিক শক্তিগুলোর হিসাবনিকাশে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হিসেবে কাজ করছিল।

সুজাউদ্দিনের শাসনামলে ইউরোপীয় কোম্পানিগুলোর মধ্যকার অভ্যন্তরীণ প্রতিযোগিতাও নবাবি সরকারের অবস্থানকে প্রভাবিত করেছিল। ইংরেজ, ডাচ ও ফরাসিরা একে অন্যের বাণিজ্যিক প্রসারে বাধা দেয়ার চেষ্টা করত। কিন্তু কোনো নতুন শক্তির উত্থান রুখতে তারা একসঙ্গে কাজ করত, আবার বাজার দখলের প্রশ্নে পরস্পরের বিরুদ্ধে অবস্থান নিত। অস্টেন্ড কোম্পানির বাংলায় বাণিজ্য সম্প্রসারণের প্রচেষ্টা এ প্রতিযোগিতার একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত। কলকাতার নিকটবর্তী বাঙ্কিবাজারে তাদের বাণিজ্য কেন্দ্র স্থাপনের পর ইংরেজ ও ডাচরা তাদের ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠে। অস্টেন্ড কোম্পানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তারা নবাবি প্রশাসনের কর্মকর্তাদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করে এবং হুগলি নদীতে তাদের জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত করার উদ্যোগ নেয়।

এ ঘটনা ইউরোপীয় কোম্পানিগুলোর একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে: নিজেদের বাণিজ্যিক স্বার্থে তারা কখনো নবাবি সরকারের কর্তৃত্বকে স্বীকার করত, আবার কখনো সেই প্রশাসনিক কাঠামোকেই ব্যবহার করত প্রতিদ্বন্দ্বীকে দুর্বল করার লক্ষ্যে।

সুজাউদ্দিন খানের শাসনামলে ইউরোপীয় কোম্পানিগুলোর সঙ্গে বাংলার সরকারের সম্পর্কের কেন্দ্রে ছিল বাণিজ্যিক সুবিধা ও শাসনক্ষমতার সীমা নির্ধারণের প্রশ্ন। ইংরেজরা নিজেদের বিশেষাধিকার সম্প্রসারণ করতে চাইছিল, সে সুবিধা যেন রাজস্ব আদায় ও প্রশাসনিক কর্তৃত্বের বিকল্প হয়ে উঠতে না পারে নবাবি সরকার তার চেষ্টা করছিল। এ সময়ের বিরোধগুলো দেখায়, আঠারো শতকের বাংলায় ইউরোপীয় বাণিজ্যিক শক্তিগুলো ক্রমে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করলেও নবাবি সরকার তখনো তাদের কার্যক্রমে শর্ত নির্ধারণ করে তাদের প্রতিহত করছিল।

পরিশেষে বলা যায়, ইউরোপীয় বণিকদের এ নাজেহাল ও কোণঠাসা অবস্থা স্পষ্টতই প্রমাণ করে অষ্টাদশ শতাব্দীতে বাংলার মসনদে আসীন নবাব সুজাউদ্দিন খান কতটা দূরদর্শী ও সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন। তার দৃঢ় শাসনের অধীনে ইউরোপীয় শক্তিগুলোর রাজনৈতিক কিংবা অর্থনৈতিক প্রভাব বিস্তারের কোনো সুযোগ ছিল না। বিদেশী বাণিজ্যের চাকা সচল রেখেও যেভাবে নবাব সুজাউদ্দিন ও তার প্রশাসন দেশীয় অর্থনীতি, রাজকীয় টাঁকশাল এবং মুদ্রাবাজারের ওপর নিরঙ্কুশ নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছিলেন, তা তৎকালীন নবাব সরকারের শক্তিশালী ও স্বাধীন প্রশাসনিক দক্ষতারই এক অনন্য ঐতিহাসিক দলিল বহন করে।

ডেইজি আক্তার: সহসম্পাদক, বণিক বার্তা

আরও