ঔপনিবেশিক বাংলার নিয়তি নির্ধারণে অভিজাতবাদী রাজনীতি

বিশ শতকের তৃতীয় ও চতুর্থ দশক। বাংলার জন্য ভাগ্য নির্ধারণের মৌসুম। বৈশ্বিক টানাপড়েনের মধ্যেই তখন উত্তপ্ত বাংলার জমিন। পেছনে অনেক কারণই খুঁজে পান ঐতিহাসিকরা।

বিশ শতকের তৃতীয় ও চতুর্থ দশক। বাংলার জন্য ভাগ্য নির্ধারণের মৌসুম। বৈশ্বিক টানাপড়েনের মধ্যেই তখন উত্তপ্ত বাংলার জমিন। পেছনে অনেক কারণই খুঁজে পান ঐতিহাসিকরা। তবে এখানকার রাজনৈতিক টানাপড়েন ও গতিমুখ নির্ধারণে সবচেয়ে বড় অনুঘটক হয়ে কাজ করেছে শিক্ষা ও কর্মসংস্থান। গোটা ঔপনিবেশিক আমলে এ দুটি বিষয়ে ভর করেই নির্ধারণ হয়েছে এ অঞ্চলের সামাজিক ও অর্থনৈতিক গতিশীলতা। শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের দিকে চোখ রেখেই ক্রমে প্রতিযোগিতায় নেমেছিল ভারতবর্ষের প্রধান দুই সম্প্রদায়—হিন্দু ও মুসলিম। এভাবে ব্রিটিশ নীতিমালার ছায়ায় দাঁড়িয়েই সাম্প্রদায়িক পরিচয়কে প্রাধান্য দিয়ে দানা বাঁধতে থাকে জাতিধারণা। একদিকে পর্যাপ্ত প্রতিষ্ঠানের অভাব, অন্যদিকে চাকরি সুবিধার সংকীর্ণতায় বড় হয়ে উঠতে থাকে হিন্দু ও মুসলিম পরিচয়। কংগ্রেস যেহেতু সে অর্থে কোনো ধর্মনিরপেক্ষ নীতি বাস্তবায়ন করতে পারেনি; ফলে ক্রমে জনপ্রিয়তা বেড়েছে মুসলিম লীগের। এমনকি বামপন্থী নেতারাও পারেনি ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা মোকাবেলা করতে। হিন্দু ও মুসলিম রাজনীতি তখন দুই সম্প্রদায়ের অভিজাতদের কাছেই বন্দি। ফলে হিন্দু ও মুসলিম অভিজাতদের মধ্যে যে রাজনৈতিক জাতিধারণা গড়ে উঠেছিল, সে জোরেই তারা সফলভাবে পরিচালনা করেছেন গ্রাম ও শহরের জনতাকে। তৈরি হয়েছে সাম্প্রদায়িক টানাপড়েন। এভাবে ঔপনিবেশিক আমলেই হিন্দু ও মুসলিম অভিজাতদের দ্বন্দ্ব এগিয়ে গেছে তিক্ত পরিণতির দিকে।

ত্রিশের দশকে বিশ্বজুড়ে চলা অর্থনৈতিক মন্দা ভারতকে ব্যাপকভাবে আঘাত করে। ফলে কমে যেতে থাকে রফতানি। বড় ধরনের ধাক্কা আসে ভারতের বুর্জোয়া গোষ্ঠী ও সরকারের ওপর। রাজনৈতিক পাটাতন হিসেবে কংগ্রেস বরাবরই ভারতীয় শিল্পপতি ও জমিদারদের নিরাপত্তার কথা বলেছে। কিন্তু মন্দার প্রাথমিক পরিণতি হিসেবে অনেকেই যখন বাধ্য হয় সন্তানের পড়ালেখা বন্ধ করে দিতে, তখন ক্রমে ভারি হতে থাকে সরকারের সমালোচনার পাল্লা। বঙ্গীয় আইন সভার হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে সরকারকে দোষারোপ করতে থাকে শিক্ষার ব্যাপারকে অবহেলা করা নিয়ে। অভিযোগকারীদের মধ্যে ছিলেন মৌলভী আবুল কাশেম ও মৌলভী আবদুল করিম। একই সময়ে নারী শিক্ষায় সরকারের অসহযোগিতা নিয়ে মুখ খোলেন বেগম হামিদা মোমিন। সরব হন পি ব্যানার্জি, শরৎ চন্দ্র মিত্র ও রায় বাহাদুর সত্যেন্দ্র কুমার দাসের মতো বুদ্ধিজীবীরাও। সে সময় শিক্ষা বিভাগের কর্মী সংখ্যা ছিল অন্য যেকোনো বিভাগের তুলনায় কম। ১৯৩৬ সালে প্রাথমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কমে যেতে দেখা যায়। কেবল প্রাথমিক শিক্ষার না; মাধ্যমিক শিক্ষার অবস্থাও ছিল তথৈবচ। মকতবের সংখ্যাও কমে যেতে থাকে উল্লেখযোগ্যভাবে। ক্রমে হিন্দু ও মুসলিম উভয় সম্প্রদায়েই বিশ্বাস দৃঢ় হতে থাকে, অবিলম্বে শিক্ষার নীতিমালাকে পর্যালোচনা না করতে হবে।

উনিশ শতকের শেষদিকে বুদ্ধিজীবী ও এলিটরা ইংরেজ সরকারকে যথেষ্ট সহযোগিতা করেছে। কিন্তু বঙ্গভঙ্গ ও বঙ্গভঙ্গ রদ উভয় সম্প্রদায়ের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করতে থাকে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর তাদের ভেতরে বাড়তে থাকে ক্রোধ। যেহেতু এ অভিজাতরাই দুই সম্প্রদায়ের নেতৃত্বের ভার নিয়ে রেখেছে; তারাই নির্ধারণ করেছে কর্ম ও পরিকল্পনা। এই সময়েই বাণীভবন, নারীশিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরোজ নলিনী দত্ত অ্যাসোসিয়েশন, বঙ্গীয় মুসলমান শিক্ষা সমিতি এবং আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম নিজ নিজ ভূমিকা নিয়ে সরব হয়। মুসলিম স্বাতন্ত্র্যের পক্ষে কাজ করতে থাকে ঢাকা সাহিত্য সমাজ। আঞ্জুমান থেকেও মুসলিমদের জন্য ওঠে পৃথক দেশের দাবি। ক্রমে মুসলিম নেতারা স্বাতন্ত্র্যের দিকে সরে যেতে থাকেন। ১৯৩২ সালের কমিউনাল অ্যাওয়ার্ড থেকেই স্পষ্ট হয়ে যায় বাংলায় মুসলিম আর হিন্দু জনগোষ্ঠীর লক্ষ্য এক নয়। স্থানীয়ভাবে হিন্দু ভদ্রলোকরা যে প্রভাবশালী হয়ে উঠেছিল, এ কথা সত্য। সনাতন অভিজাত শ্রেণী হিসেবে তাদের দাপট ছিল যথেষ্ট তীব্র। কিন্তু বিশেষ করে পূর্ব বাংলা তথা আজকের বাংলাদেশে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছিল মুসলিম অভিজাত ও নবগঠিত শিক্ষিত শ্রেণী। ফলে এখানকার রায়ত ও জমিদারের বিরোধেও দিন শেষে সম্প্রদায়গত পরিচয়েই বাড়তি মাত্রা যুক্ত করেছে।

সামগ্রিকভাবে পিছিয়ে থাকায় মুসলিম মধ্যবিত্ত শ্রেণী ঔপনিবেশিক শাসনকাঠামো থেকে কিছুটা সুবিধা আদায় করে নিতে সক্ষম হয় বিশ শতকের দ্বিতীয় দশকে। কিন্তু সেটা সাম্প্রদায়িক অবিশ্বাসকে আরো পোক্ত করে। হিন্দু অভিজাতদের মধ্যে আগে থেকে বিদ্যমান অবিশ্বাস ওঠে তুঙ্গে। হিন্দু আধিপত্যকে মোকাবেলা করার জন্য ঢাকার নওয়াব মুসলিম সংস্কৃতির প্রচারণায় প্রয়াসী হন। এতদিন যারা সাংস্কৃতিক সমন্বয়ের কথা বলছিলেন, তারাও এবার ‍পৃথক স্বতন্ত্র দেশের কথা বলতে থাকেন। ছাত্রদের মধ্যে সেভাবেই তৈরি হতে থাকে ধারণা। বিভাজন রেখা ক্রমে স্পষ্ট হয় হিন্দু ও মুসলমানের মধ্যে।

সত্যি বলতে কংগ্রেসে হিন্দু অভিজাতদের আধিপত্য দৃশ্যমান হয়েছে দ্রুতই। ১৯৩৭ সালে বাংলায় কংগ্রেস কিছু আসন লাভ করলেও সরকার গঠন করতে ব্যর্থ হয়; সরকার গঠন করে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের কৃষক প্রজা পার্টি (কেপিপি)। বাংলায় মূলত মুসলিম লীগ ও কেপিপির মধ্যেই প্রতিযোগিতা হয়েছে। যদিও নির্বাচনের পর কেপিপি বা মুসলিম লীগ, কেউ-ই সার্বিকভাবে মুসলিম স্বার্থ নিয়ে কাজ করতে পারেনি। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে ফজলুল হকের ব্যাপারে কোনো প্রকার ভবিষ্যদ্বাণী করা যেত না। জনগণ তাকে ভালোবাসত; তার প্রধান কারণ তিনি মানুষকে জমিদারদের হাত থেকে মুক্ত করার চেষ্টায় ছিলেন। জিন্নাহ নিজেও ফজলুল হকের সঙ্গে আপস করতে চেয়েছিলেন। সেক্ষেত্রেও ফজলুল হকের জমিদারি বিলোপ করার প্রতিজ্ঞাই ছিল প্রধান বাধা। কারণ মুসলিম লীগে আধিপত্য করেছে নওয়াব, জমিদার ও বণিকরা। তাদের বিলোপ মানে মুসলিম লীগের অভিজাতদের আধিপত্য বিলোপ। তবে সে সময়ে কেপিপির সঙ্গে কংগ্রেসের দূরত্বও ক্রমে বাড়তে থাকে। নির্বাচনের পর কংগ্রেস যাবতীয় প্রতিষ্ঠানে কংগ্রেসের পতাকা ওড়ানোর নির্দেশনা দেয়। মুসলিম স্কুলগুলোয়ও পাঠ্য করা হয় হিন্দি। কার্যত উর্দু পরিত্যক্ত হয়। বাংলায় স্কুলে থাকতে চাইলে বন্দে মাতরম পড়তে বাধ্য করা হয়। যেসব শিক্ষক মুসলিম লীগের প্রতি সহানুভূতি দেখাত, তাদের জবাবদিহিতা করতে হতো। উর্দু বই প্রিন্ট করাই বন্ধ করে দেয় কংগ্রেস। ঠিক এ সময়েই মুসলিম লীগের থেকে পাওয়া প্রস্তাবের ভিত্তিতে তাদের সঙ্গে জোট গঠন করেন ফজলুল হক। তার পরও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জন্য তিনি চেষ্টা করে গেলেও রাজনৈতিক মেরুকরণ ঘনীভূত হয়েছে দিনকে দিন।

১৯৩৭ সালের নির্বাচন বাংলায় মুসলিম রাজনীতির গতিপথে বড় আকারের পরিবর্তন আসে। ফজলুল হকের ভিত আরো শক্তিশালী হয় এ সময়। রাজনীতিক নেতারা মুসলিম শিক্ষার জন্য আরো তহবিল বাড়ানোর দাবি তুলতে থাকেন। তবে চল্লিশের দশকে গিয়ে সাংস্কৃতিক সচেতনতা রূপ নেয় সাম্প্রদায়িক সচেতনতায়। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বাংলার বিভিন্ন স্থানে ভ্রমণ করে এ সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে মুসলমানি বাংলা হিন্দু তরুণদের জাতীয়তাবোধ নষ্ট করে দিচ্ছে। অন্যদিকে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় প্রবাসী বাংলা সাহিত্য সম্মেলনে ঘোষণা করেন, বাঙালি হিন্দুর সংস্কৃতি রক্ষা করার জন্য হলেও বাংলাকে ভাগ করতে হবে। তৎকালীন লেখক, কবি ও সাহিত্যিকরা সোচ্চার হয়ে ওঠেন স্বতন্ত্র হিন্দু রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে। মুসলিম লীগও তাদের প্রচারণার জন্য মুসলিম ছাত্র ও আলেমদের সহযোগিতা চাইতে থাকে। শর্ষিনার মতো বিভিন্ন দরবারের পীর এ সময় মুসলিম লীগের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

১৯৪০-৪২ সালের মধ্যে মুসলিম রাজনীতিতে বড় কয়েকটা পরিবর্তন আসতে থাকে। জিন্নাহ নিজেকে ভারতীয় মুসলমানদের অবিসংবাদিত নেতা হিসেবে অনেকটাই প্রতিষ্ঠা করেন। তবে শেরে বাংলা মনে করতেন, তিনি বাংলার মুসলমানদের অবিসংবাদিত নেতা। লাহোর প্রস্তাবে আলাদা করে পাকিস্তানের কথা বলা হয়নি সত্য, কিন্তু মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলের স্বাতন্ত্র্যের দাবি তোলা হয়েছে। ফজলুল হক বাঙালি মুসলিম নিয়েই ব্যস্ত ছিলেন, ফলে তিনি পাকিস্তান আন্দোলনের জন্য আলাদা করে কিছু বলেননি। বাংলার স্বার্থই তার রাজনৈতিক গন্তব্য। তিনি যে পাকিস্তান সমর্থন করেছিলেন; তারও মূল ভিত্তি ছিল পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা বাঙালি মুসলিমের জন্য দিন শেষে লাভবান হবে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ভারত নিয়ে ব্রিটিশদের নীতি বদলে যায়। এর আগে পাকিস্তান প্রস্তাবের বিষয়টি উপেক্ষা করে গেলেও ১৯৪৫-৪৬ সালের নির্বাচনের ফলাফলে ব্রিটিশরা বুঝতে পারে বাস্তবতা। হিন্দু প্রতিনিধিত্ব হিসেবে কংগ্রেস ভালো করেছিল ভারতজুড়েই, কিন্তু তারা মুসলমানদের প্রতিনিধিত্ব করতে পারেনি। বাংলায় ১৯৪৫-৪৬ সালে মুসলিম লীগ ফের ক্ষমতায় আসে। মন্ত্রিসভা গঠন করেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী। তিনি ডিরেক্ট অ্যাকশন ডে দিনটিকে ছুটি ঘোষণা করেন। পাকিস্তান আদর্শ লাভ করে বাঙালি মুসলমানের এক দফা। অনিবার্য হয়ে পড়ে বাংলাকে ভাগ করা। কার্যত বাংলায় দুই সম্প্রদায়ের অভিজাতরাই ভাগের বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছে গেছেন এ সময়।

জয়া চ্যাটার্জি মনে করেন, হিন্দু অভিজাত রাজনীতিকদের সাম্প্রদায়িক নীতি সার্বিকভাবে হিন্দু জনতাকে মুসলমানদের বিরুদ্ধে উসকে দিয়েছে। ভদ্রলোক শ্রেণীর হিন্দুরা চাইতেন, ব্রিটিশদের চলে যাওয়ার পর যেন মুসলমানরা নতুন করে ক্ষমতায় না আসে। ফলে তারা তাদের গোটা সম্প্রদায়কে পথ দেখিয়েছেন মুসলমানদের বিরুদ্ধে। ঔপনিবেশিক শিক্ষার মধ্য দিয়ে জ্ঞানীয় পরিসরের পাশাপাশি বেড়েছে সাম্প্রদায়িক সচেতনা। দুই সম্প্রদায়ের অভিজাতরাই নিজ সম্প্রদায়ের দুরবস্থা, সংকট, সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত ছিল। এভাবে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে গড়ে ওঠা অভিজাত শ্রেণীর আত্মপরিচয়ের যাত্রা পরিণত হয়েছে বিভাজনে।

ফজলুর রহমানের মতো প্রথিতযশা পণ্ডিতরা মনে করতেন পাকিস্তান প্রতিষ্ঠা মুসলমানদের সংস্কৃতি ও শিক্ষার জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। পূর্ব পাকিস্তান রেনেসাঁ সোসাইটি ও পূর্ব পাকিস্তান সাহিত্য সমিতিও এ কথাটিই প্রচার করেছে। কেবল কলকাতার ইসলামিয়া কলেজ না; ঢাকায়ও রাজনৈতিক সচেতনতা বেড়েছে সে সময়ে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক ও সলিমুল্লাহ মুসলিম হলকে ব্যবহার করা হয়েছে বিপ্লবী ছাত্রদের অভয়ারণ্য হিসেবে। এভাবে ঔপনিবেশিক শাসনের পরিসমাপ্তির রাজনীতি পর্যবসিত হয় দেশভাগের রাজনীতিতে। গ্রাম ও শহরের মধ্যবিত্ত শ্রেণী ছিল আন্দোলনের প্রথম সারিতে। রাজনৈতিক মাঠ উত্তপ্ত হওয়ার পাশাপাশি তা মুখোমুখি অবস্থায় চলে যায়। দেখা দেয়া দাঙ্গা ও সংঘাত। সাম্প্রদায়িক সহিংসতার কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র ভর্তির হারও কমে যায়। মুসলমানদের দৃঢ় বিশ্বাস ছিল কেবল পাকিস্তান প্রতিষ্ঠাই তাদের সমস্যার সমাধান করে দিতে পারে।

বিশ শতকের শুরুর দিকে হিন্দু ও মুসলমানদের জন্য পৃথক শিক্ষার দাবি উঠেছিল। সেটা ছিল সাম্প্রদায়িক বিভাজনের একটা অধ্যায় মাত্র। সে ফারাকটা শেষ পর্যন্ত দুটি পৃথক আদর্শের দ্বন্দ্ব ও স্বতন্ত্র দেশ তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে। গোটা প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে ভূমিকা রেখেছে দুই সম্প্রদায়ের সনাতন ও নবগঠিত অভিজাত শ্রেণী।

আহমেদ দীন রুমি: সহসম্পাদক, বণিক বার্তা

আরও