২৬০ বছর আগে
১৭৬১-এর
জানুয়ারির ১৪
তারিখের আগে
কোনো একদিন।
প্রলয়ংকরী যুদ্ধ
হবে। প্রস্তুতি
কোনো শিবিরে
কম নয়।
একদিকটাতে অর্থাৎ
বাগপথে মুসলমানদের
শিবিরে আলোচনা
এবার মরণকামড়
দিতে হবে।
অন্যদিকে কুঞ্জপুর
দুর্গে মারাঠাদের
উচ্ছ্বাসও কম
নয়। ইব্রাহমি
কার্দির মতো
মুসলমান সেনাপতিকে
দিয়েই তারা
কুঞ্জপুর দুর্গ
জয় করেছে।
এবার আহমদ
শাহ আবদালীর
রেহাই নেই।
মুনীর চৌধুরীর
নাটক রক্তাক্ত প্রান্তর (১৯৫৯
সালে প্রকাশিত)
যাদের কলেজপাঠ্য
ছিল তারা
অবশ্যই স্মরণ
করবেন মুসলমান
শিবিরের প্রহরীর
ক্রোধান্ধ বক্তব্য:
বেঈমান। মুসলমান
হয়ে গোলামি
করছে দস্যু
পেশবার। কুঞ্জপুর
দুর্গ ওরা
জয় করেছে
ইব্রাহিম কার্দির
রণকৌশলের জোরে।
মারাঠা সৈন্যদের
কামান বন্দুক
চালাতে শিখিয়েছে
ইব্রাহিম কার্দি।
আমার সোনা
ভাইয়ের জীবনের
খোয়াব তোপ
দেগে উড়িয়ে
দিয়েছে কার্দি।
যদি সুযোগ
পাই এই
নাঙ্গা হাত
দিয়ে ওর
বুকের পাজর
উপড়ে ফেলব।
চুমুক দিয়ে
ওর বুকের
রক্ত পান
করব। তারপর
শান্ত হব।
তারপর ঘুমোতে
যাব।
নাটকের ভাষ্য
ইতিহাস নয়,
সত্যি কিন্তু
যে প্রেক্ষাপটে
নাটকটি সৃষ্টি
হয়েছে নাট্যকার
সেই ইতিহাসকেও
নাটকের প্রাককথনে
নিয়ে এসেছেন—হিন্দু
ও মুসলিম
পরস্পরকে নিশ্চিহ্ন
করে দেয়ার
ব্রত নিয়ে
পানিপথের তৃতীয়
যুদ্ধে নামে।
মারাঠা শক্তির
পরাজয় ঘটে
এবং মুসলিম
শক্তি অনেক
ক্ষতিগ্রস্ত হলেও
বিজয়ী হয়।
ভারতবর্ষের ইতিহাসে
কোনো যুদ্ধে
এত বিপুলসংখ্যক
হিন্দু ও
মুসলমানকে প্রাণ
দিতে হয়নি—অল্পকালের
মধ্যেই বিপর্যন্ত
ও হতবল
মুসলিম শাসকবর্গকে
পদানত করে
ব্রিটিশ রাজশক্তি
ভারতে তার
শাসন ব্যবস্থা
কায়েম করতে
উদ্যোগী হয়।
ওদিকে বাংলা
দিয়ে শুরু
হলেও অচিরেই
গোটা ভারতবর্ষ
চলে যায়
ইস্ট ইন্ডিয়া
কোম্পানির হাতে।
কিন্তু যদি
তাত্ত্বিকভাবে ধরে
নেয়া যায়
ভারতে ব্রিটিশ
বা অন্য
কোনো ইউরোপীয়
শক্তির আগমন
ঘটেনি তাহলে
পরিস্থিতি কী
দাঁড়াত?
বর্গির কথা
স্মরণ আছে?
ছেলে ঘুমাল
পাড়া জুড়াল
বর্গি এল
দেশে—এই
বর্গি আর
কেউ নয়,
লুটেরা মারাঠারাই
এই বর্গি।
তাত্ত্বিকভাবে যদি
আরো মনে
করা যায়
পানিপথের তৃতীয়
যুদ্ধে মারাঠারা
বিজয়ী হয়েছে
তাহলে গোটা
ভারতবর্ষ হতো
মারাঠাদের; মোগল
সম্রাট এমনিতেই
তাদের সঙ্গে
সন্ধি করে
এক ধরনের
বন্দিদশায় দিন
পার করছিলেন।
সে ক্ষেত্রে
দিল্লির সিংহাসনও
হতো মারাঠাদের—শশী
থারুর বিশ্লেষণ
করে দেখিয়েছেন
ভারতবর্ষের টুকরো
টুকরো অংশের
মালিকানা চলে
যেত ছোট-বড়
পেশোয়াদের হাতে।
আফগান যোদ্ধারা
ভারতের সার্বভৌমত্ব
হরণ করতে
আসেনি। এসেছে
মারাঠাদের শিক্ষা
দিতে এবং
যতটা সম্ভব
সম্পদ লুটপাট
করে নিজের
দেশে ফিরে
যেতে। নিরপেক্ষ
বিশ্লেষকের কাছে
যত নির্মমই
হোক যুদ্ধের
পরিণতি, তারা
আফগান বিজয়কে
স্বাগত জানিয়েছে।
মারাঠা বর্গিদের
পরাজয়ে এমনকি
বর্গি লুণ্ঠনের
শিকার বাঙালি
হিন্দুরাও তাদের
পরাজয় উদযাপন
করেছে।
পানিপথের আরো
দুটি যুদ্ধ
পানিপথ
ভারতের হরিয়ানার
ঐতিহাসিক শহর।
দিল্লি থেকে
১৫ কিলোমিটার
উত্তরে এর
চণ্ডীগড় থেকে
১৬৯ কিলোমিটার
দক্ষিণে। ১৫২৬,
১৫৫৬ ও
১৭৬১ সালের
তিনটি ইতিহাস
সৃষ্টি করা
যুদ্ধ পানিপথকে
উপমহাদেশের রাজনৈতিক
ও সামরিক
মানচিত্রে অত্যন্ত
গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান
প্রদান করেছে।
পানিপথের প্রথম
যুদ্ধ, ২১
এপ্রিল ১৫২৬
মোগল
সাম্রাজ্যের গোড়াপত্তনে
একক ভূমিকা
এ যুদ্ধের।
জহির উদ্দিন
মুহাম্মদ বাবর
দিল্লি জয়
করার লক্ষ্য
নিয়ে ১৫
হাজার সৈন্য
এবং ২০
থেকে ২৪টি
কামান নিয়ে
যাত্রা করেন।
দিল্লির সুলতান
ইব্রাহিম লোদির
বাহিনীতে ৩০
থেকে ৪০
হাজার নিয়মিত
সৈন্যসহ এক
লাখ যোদ্ধা
এবং এক
হাজার রণহস্তী।
এই পানিপথেই
২১ এপ্রিল
১৫২৬ যুদ্ধটি
হয়। এ
যুদ্ধেই প্রথম
বিস্ফোরক গান
পাউডার, আগ্নেয়াস্ত্র
ও কামান
ব্যবহার করা
হয়। অসাধারণ
রণকুশলী বাবর
তার সৈন্যদের
এমনভাবে সাজালেন
যে তাতেই
কার্যত ইব্রাহিম
লোদির লক্ষ
যোদ্ধার বাহিনী
ঘেরাও হয়ে
পড়ল। যখন
কামান দাগতে
শুরু করলেন
ভয়ংকর শব্দে
আতঙ্কিত হস্তি
দিগ্বিদিক ছুটল,
হাতির পায়ে
পিষ্ট হয়ে
নিহত হলো
বহুসংখ্যক সৈন্য।
বাবরের রণকৌশলের
কাছে হেরে
গেল দিল্লির
রাজকীয় বাহিনী।
যখন গোলাবর্ষণ
শুরু হলো
জেনারেলরা বুঝতে
পারলেন এ
ধরনের প্রস্তুতি
তাদের নেই,
প্রাণভয়ে তারা
পালানোর পথ
খুঁজলেন। সুলতান
ইব্রাহিম লোদির
মৃতদেহ পড়ে
রইল রণক্ষেত্রে।
দিল্লি অবলীলায়
বাবরের পদানত
হলো: শুরু
হলো মোগল
শাসন, প্রতিষ্ঠিত
হলো মোগল
সাম্রাজ্য।
পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধ, ৫
নভেম্বর ১৫৫৬
সম্রাট
হুমায়ুনের মৃত্যুর
পর তার
তেরো বছর
বয়সী পুত্র
আকবরকে সম্রাট
ঘোষণা করে
বৈরাম খানকে
করা হলো
তার অভিভাবক,
পরামর্শক। আকবর
তখন বৈরাম
খানের সঙ্গে
কাবুল অভিযানে।
ইসলাম শাহর
প্রধানমন্ত্রী হেমচন্দ্র
বিক্রমাদিত্য, হিমু
নামেই যিনি
খ্যাত, ২২টি
যুদ্ধ বিজয়ের
কৃতিত্ব তার—তিনি
মোগল বাহিনীর
মোকাবেলা করলেন।
৩০ হাজার
অশ্বারোহী আফগান
এবং ১৫০০
হস্তি বাহিনীর
নেতৃত্ব দিলেন
স্বয়ং হিমু।
মোগলদের অশ্বারোহী
১০ হাজার
এবং অর্ধেক
কেবল পূর্ণ
প্রশিক্ষিত। হিমুর
বাহিনীই ভালো
করছিল কিন্তু
হঠাৎ একটি
তীর হিমুর
চোখে আঘাত
করল, এতে
মস্তিষ্ক আহত
হলো এবং
হিমু অজ্ঞান
হয়ে রণাঙ্গনেই
পড়ে গেলেন।
হিমুর মৃত্যুসংবাদ
তার বাহিনীর
পরাজয় ডেকে
আনল।
পানিপথের তৃতীয়
যুদ্ধের পটভূমি ও যুদ্ধ
মোগল-মারাঠা
বৈরিতার ইতিহাস
দীর্ঘ। ১৬৮০
থেকে ১৭০৭—এই
২৭ বছরের
বৈরিতার খেসারত
মারাঠা সাম্রাজ্যকেই
নিতে হয়েছে।
সম্রাট আওরঙ্গজেবের
সমরশক্তি এবং
তার কুশলী
সঞ্চালন মারাঠা
রাজত্বের ভৌগোলিক
মানচিত্র অনেকাংশে
সংকুচিত করে
এনেছিল। কিন্তু
১৭০৭ সালে
আওরঙ্গজেবের মৃত্যুর
পর পরিস্থিতি
পাল্টে যায়।
ক্রমাগত দুর্বল
হয়ে আসা
মোগল সাম্রাজ্য
মারাঠা আক্রমণের
মুখে দখলকৃত
ভূখণ্ড ছেড়ে
দিতে থাকে।
পেশোয়া বাজি
রাওয়ের রাজত্বকালে
গুজরাট, মালবা
ও রাজপুতানা
মারাঠা নিয়ন্ত্রণে
চলে আসে।
তিনি এখানেই
থেমে থাকেননি,
১৭৩৭ সালে
বাজি রাওয়ের
ছেলে বালাজি
বাজি রাও
দিল্লির বহিঃসীমানায়
মোগল বাহিনীকে
পরাস্ত করেন।
মোগল রাজত্বের
আগ্রার দক্ষিণাংশ
নিজেদের দখলে
নিয়ে নেয়,
এমনকি একপর্যায়ে
পাঞ্জাবের একাংশও
মারাঠা মানচিত্রের
অংশ হয়ে
ওঠে। ১৭৫৮
সালের ৪
মে রঘুনাথ
রাও বালাজি
বাজি রাওকে
আহমদ শাহ
দুররানির বিরুদ্ধে
অস্ত্র ধরার
আমন্ত্রণ জানালেন।
১৭৫৯ সালে
আহমদ শাহ
তার নবগঠিত
পশতুন ও
বালুচ গোত্রভুক্ত
সৈনিকদের পরীক্ষায়
নামিয়ে দিলেন।
তারা পাঞ্জাবে
মারাঠা গ্যারিসনে
বেশ সফলতার
সঙ্গে আক্রমণ
চালায় এবং
বিস্তর লুটপাট
করে। এ
ঘটনা মারাঠা
পেশোয়া ও
আফগান দুররানিদের
মুখোমুখি করে
দেয়। আহমদ
শাহ দুররানি
ভারতের অভ্যন্তরে
মারাঠা শত্রুদের
শনাক্ত করে
তাদের সঙ্গে
রণমৈত্রী করলেন।
সবার আগে
এলেন রোহিলাখন্ডের
রাজা। তার
সঙ্গে যোগ
দিল অযোধ্যা,
কালাত ও
গোটা মোগল
সাম্রাজ্য। সবচেয়ে
গুরুত্বপূর্ণ ছিল
অযোধ্যার সুজাউদ্দৌলার
সমর্থন। আফগানদের
দীর্ঘ সময়
উত্তর ভারতে
অবস্থানের ব্যয়
বহন করেছেন
সুজাউদ্দৌলা। তাকে
নিয়েই সন্দিহান
ছিলেন দুররানি।
কারণ সুজাউদ্দৌলা
বা সফদর
জংকে রোহিলাদের
পরাস্ত করতে
মারাঠা শক্তি
বিপুল সমর্থন
জুগিয়েছে। আফগান-রোহিলা-অযোধ্যা ও
অন্যান্যের আঁতাত
যখন ঘটছে
মারাঠারাও তখন
বসে নেই।
উচ্চাভিলাষী আবদালি/দুররানিদের
যারা ক্রোধের
শিকার তারা
সমর্থন জুগিয়েছে
মারাঠা পেশোয়াদের।
হোলকার, সিন্ধিয়া
গায়কোয়াড়, গোবিন্দ
বান্ডেল, সুরজ
মাল প্রমুখ
সেনানায়কের সম্মিলিত
বাহিনী দিল্লি
গুঁড়িয়ে দেয়ার
জন্য যথেষ্ট।
কার্যত তা-ই
হলো। মোগলদের
দিল্লি মারাঠাদের
হাতে ধুলোয়
মিশে গেল।
পেশোয়ার পুত্র
এবং মারাঠা
সেনাপতি সদাশিব
রাওয়ের পুত্র
দিল্লির সিংহাসন
অধিকার করবেন
সে সিদ্ধান্ত
হলো। এ
সময় জাঠরা
তাদের সমর্থন
প্রত্যাহার করে
নিল।
জাঠদের প্রত্যাহার
মারাঠা সমর্থক
ঐতিহাসিকদের বিবেচনায়
ভারতের ইতিহাসে
সবচেয়ে বড়
বিশ্বাসঘাতকতা, আর
তা-ই
পাল্টে দিয়েছে
ইতিহাসের স্বাভাবিক
গতি।
আফগান বাহিনী
বুরারি ঘাটে
দত্তজি সিন্ধের
নেতৃত্বাধীন মারাঠি
বাহিনীর ওপর
আক্রমণ চালায়।
দত্তজি নিহত
হন। আফগান
ঝুলিতে বিজয়
জমতে শুরু
করে। বিজয়ী
আফগানরা বুঝতে
পারেনি যে
ভয়ংকর আঘাত
আসছে তাদের
ওপর। দিল্লি
থেকে ৬০
মাইল উত্তরে
যমুনার তীরে
মারাঠা আগমনে
তছনছ হয়ে
গেল কুঞ্জপুর
গ্যারিসন। ১৫
হাজার সৈন্যের
অনেকে নিহত
হলো, পালাল
অনেকে। আহমদ
শাহ দুররানির
শ্রেষ্ঠ জেনারেলদের
একজন নাজাবত
খান এখানেই
নিহত। আহমদ
শাহ যে
শিবিরে ছিলেন
সেখান থেকে
অগ্নিশিখা ও
গোলার ধূম্র
তার দৃষ্টিতেও
পড়ল। বিরূপ
প্রকৃতির কারণে
আহমদ শাহ
সামরিক সহায়তাও
পাঠাতে পারলেন
না। মারাঠা
বাহিনীর কুঞ্জপুর
বিজয় সংবাদ
ভারতবর্ষে ছড়িয়ে
পড়ল—বর্গি
রাজত্ব কায়েম
হতে চলেছে।
কুঞ্জপুর দুর্গে
মারাঠা বাহিনীর
হত্যাযজ্ঞ আহমদ
শাহকে আরো
ক্ষুব্ধ ও
প্রতিশোধপরায়ণ করে
তোলে। এর
আগে লাহোর
থেকে তার
পুত্র বিতাড়িত
হলে তিনি
ক্ষিপ্ত হয়ে
ওঠেন।
মারাঠা প্রতিরোধের
মধ্যেও আহমদ
শাহর বাহিনী
যমুনা অতিক্রম
করে। এটাই
ছিল অগ্রগামী
বাহিনীর জন্য
সবচেয়ে ঝুঁকিবহুল
সিদ্ধান্ত। যমুনা
পাড়ি দেয়ার
প্রথম ঘটনাটি
ঘটে ১০
জানুয়ারি ১৭৬০।
তারপর চলে
বিভিন্ন ধরনের
কৌশল অবলম্বন
প্রস্তুতি এবং
খণ্ড খণ্ড
যুদ্ধ। ঠিক
১ বছর
৪ দিন
পর ১৪
জানুয়ারি ১৭৬১
ভোরে পানিপথের
শিবিরে পবিত্র
জল পান
করে মারাঠা
বাহিনী। তারা
দুই কিলোমিটার
দূরে আফগান
শিবিরের দিকে
অগ্রসর হয়
এবং ইব্রাহিম
কার্দির বিজয়ী
পদাতিক বাহিনী
রোহিলা ফরমেশনের
ওপর প্রথম
আক্রমণ চালায়।
যুদ্ধ শুরু
হয়ে গেছে
বুঝতে পেরে
আহমদ শাহ
তার দলের
ষাটটি কামান
চালু করার
নির্দেশ দেন।
দুপুর পর্যন্ত
যুদ্ধ ইব্রাহিম
কার্দি ও
মারাঠাদের দিকে
ঝুঁকে যায়।
কার্দির বাহিনীর
হাতে অন্তত
১২ হাজার
রোহিলা নিহত
হয়। দুপুরের
দিকে আহমদ
শাহ আবদালি
তার রিজার্ভ
থেকে সৈন্য
পাঠাতে থাকেন।
উষ্ট্রারোহী সৈনিকদের
গোলা ফ্রন্টলাইনের
আফগানিদের ডিঙ্গিয়ে
মারাঠা অগ্রগামী
দলকে তছনছ
করে দেয়।
মারাঠা সুপ্রিম
কমান্ডার সদাশিব
রাও পালিয়ে
যান। অবস্থা
টের পেয়ে
বন্দি আফগান
সৈন্যরা পেছন
থেকে মারাঠা
বাহিনীর ওপর
আক্রমণ চালায়।
সন্ধ্যার আগে
অন্তত ৪০
হাজার মারাঠির
মৃত্যু ঘটে,
অধিকাংশেরই শির
দেহচ্যুত হয়।
মানবসভ্যতার ইতিহাসে
বহু নির্মম
ঘটনার বিবরণ
রয়েছে। কিন্তু
এমনভাবে একটার
পর একটা
শিরশ্ছেদের নজির
কম।
আহমদ শাহর
চিঠি
আহমদ
শাহ পানিপথে
এসেছেন প্রতিশোধ
নিতে, সাম্রাজ্য
সম্প্রসারণ করে
দিল্লি পর্যন্ত
অধিকার করতে
আসেননি, এটা
তার চিঠিতে
স্পষ্ট। ১০
ফেব্রুয়ারি ১৭৬১
তিনি মারাঠা
পেশোয়ার নানাসাহেবকে
লেখেন: আমাদের
মধ্যে বৈরিতার
কোনো কারণ
নেই। আপনার
পুত্র বিশ্বাস
রাও এবং
ভাই সদাশিব
রাও যুদ্ধে
নিহত হয়েছেন,
এটা খুব
দুর্ভাগ্যজনক। (সদাশিব
রাও) ভাউ
যুদ্ধটা শুরু
করেছে, কাজেই
অনিচ্ছা সত্ত্বেও
আমাকে লড়তে
হয়েছে। তবুও
তার মৃত্যুর
জন্য আমি
ব্যথিত। অনুগ্রহ
করে আপনি
আগের মতোই
দিল্লির ওপর
আপনার অভিভাবকত্ব
অব্যাহত রাখুন।
এতে আমার
কোনো আপত্তি
নেই। কেবল
পাঞ্জাব আমাদের
সঙ্গে থাকতে
দিন। আগে
আপনি যেমন
করেছেন, তেমনিভাবে
শাহ আলমকে
আবার দিল্লির
সিংহাসনে আসীন
করুন। আমার
একান্ত বাসনা
আমাদের মধ্যে
শান্তি ও
বন্ধুত্ব বজায়
থাকুক। অনুগ্রহ
করে আমার
এই প্রত্যাশা
অনুমোদন করুন।
ভারত ত্যাগের
আগে আহমদ
শাহ ইস্ট
ইন্ডিয়া কোম্পানির
প্রধান লর্ড
ক্লাইভসহ সব
দেশীয় রাজাদের
কাছে ফরমান
পাঠিয়ে জানালেন
শাহ আলমই
দিল্লির সম্রাট।
তারা সবাই
যেন সম্রাটকে
স্বীকৃতি দেন।
যুদ্ধে বিজয়ী
হলেও আর্থিকভাবে
এবং সামরিক
শক্তিতে ভীষণ
ক্ষতিগ্রস্ত আফগান
আহমদ শাহ
দুররানি আর
ভারতবর্ষে আসেননি।
পানিপথের তৃতীয়
যুদ্ধের ১০
বছর পর
আবার মারাঠা
উত্থান ঘটে
এবং দিল্লি
তাদের অধিকারে
আসে—১৮০৩
সালে ইস্ট
ইন্ডিয়া কোম্পানির
কাছে পরাজিত
হওয়ার পর
মারাঠা শক্তি
ক্রমেই হ্রাস
পেতে থাকে।
সেজওয়াকারের ‘পানিপথ
১৭৬১’-এ
উল্লেখ করা
হয়েছে একদিনের
যুদ্ধে কমপক্ষে
এক লাখ
মারাঠা যোদ্ধা
ও বেসামরিক
নাগরিকের মৃত্যু
ঘটেছে।
ইতিহাস মানুষকে
কিছুই শেখায়
না। যুদ্ধের
শিক্ষা মানুষ
ভুলে যায়।
তবুও ১৭৬১
সালের পানিপথের
তৃতীয় যুদ্ধ
যে ভারতের
ইতিহাসের একটি
টার্নিং পয়েন্ট,
এটা সবাই
স্বীকার করেন।
এম এ মোমেন: সাবেক সরকারি কর্মকর্তা