২০২০-২৩ সাল

প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর কার্বন নিঃসরণ বেড়েছে ১৫০ শতাংশ

বিশ্বব্যাপী শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর কার্বন নিঃসরণ ২০২০-২৩ সালে গড়ে ১৫০ শতাংশ বেড়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের ডিজিটাল এজেন্সি।

বিশ্বব্যাপী শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর কার্বন নিঃসরণ ২০২০-২৩ সালে গড়ে ১৫০ শতাংশ বেড়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের ডিজিটাল এজেন্সি। এর প্রধান কারণ হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ডাটা সেন্টারের ব্যাপক বিকাশ, যা বিশ্বজুড়ে বিদ্যুতের চাহিদা অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। খবর আল জাজিরা।

জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিট (আইটিইউ) সম্প্রতি একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। যেখানে বলা হয়েছে, বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ডিজিটাল কোম্পানিগুলোর গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ ২০২০-২৩ সালের মধ্যে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

প্রতিবেদন অনুসারে, তিন বছরে অ্যামাজনের কার্বন নিঃসরণ বেড়েছে ১৮২ শতাংশ। মাইক্রোসফটের ক্ষেত্রে এ পরিমাণ বেড়েছে ১৫৫ শতাংশ, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের প্যারেন্ট কোম্পানি মেটার ১৪৫ শতাংশ এবং গুগলের মূল কোম্পানি অ্যালফাবেটের ১৩৮ শতাংশ বেড়েছে।

ক্রমবর্ধমান এ কার্বন নিঃসরণের পেছনে প্রধানত দুটি কারণ উল্লেখ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। এক. এআইয়ের মতো নতুন প্রযুক্তির অগ্রগতি, যা বিদ্যুতের ব্যবহার অনেক বাড়িয়ে দিচ্ছে। দুই. ক্লাউড কম্পিউটিং ও অন্যান্য ডিজিটাল সেবার ক্রমবর্ধমান চাহিদা, যা ডাটা সেন্টারগুলোর বিদ্যুৎ খরচ আরো বাড়িয়ে তুলছে।

আইটিইউর প্রধান ডোরিন বোগডান-মার্টিন বলেছেন, ‘ডিজিটাল উদ্ভাবন (বিশেষত এআই) বিদ্যুতের খরচ ও বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণ বাড়াচ্ছে। এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে যে পরিমাণ শক্তির ব্যবহার হচ্ছে, তাতে শিগগিরই এআই ব্যবস্থাগুলোর কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ ১০ কোটি ২৬ লাখ টনের সমান হতে পারে, যা যথেষ্ট উদ্বেগজনক।’

এছাড়া ডাটা সেন্টারগুলোর বিদ্যুৎ খরচও দ্রুত বাড়ছে। জাতিসংঘের তথ্যানুযায়ী, ২০১৭ সাল থেকে প্রতি বছর খাতটিতে খরচ ১২ শতাংশ হারে বাড়ছে। বর্তমানে ডাটা সেন্টারগুলো সারা বিশ্বে মোট ৪১৫ টেরাওয়াট ঘণ্টা বিদ্যুৎ ব্যবহার করছে, যা বিশ্বব্যাপী মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ১ দশমিক ৫ শতাংশ। যদি এ ধারা চলতে থাকে, তাহলে ২০৩০ সাল নাগাদ এ খাতে বিদ্যুৎ ব্যবহার ৯৪৫ টেরাওয়াট ঘণ্টায় পৌঁছতে পারে, যা জাপানের মোট বার্ষিক বিদ্যুৎ চাহিদার চেয়েও বেশি হবে।

২০০টির মধ্যে ১৬৪টি কোম্পানির দেয়া তথ্য বলছে, কেবল ১০টি কোম্পানি ২০২৩ সালে তাদের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ৫১ দশমিক ৯ শতাংশ উৎপন্ন করেছে।

এদিকে ২০০টির মধ্যে ১৬৬টি কোম্পানির পাওয়া কার্বন নিঃসরণ তথ্য অনুযায়ী, তারা ২০২৩ সালে ২৯ কোটি ৭০ লাখ টন কার্বন ডাই-অক্সাইডের সমপরিমাণ গ্যাস নির্গত করেছে, যা আর্জেন্টিনা, বলিভিয়া ও চিলির সম্মিলিত নিঃসরণের সমান।

আরও