কনটেন্ট নির্মাতাদের জন্য এখন বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্লাটফর্ম ইউটিউব। ২০২৫ সালের হালনাগাদ তথ্যানুযায়ী, গুগলের এ ভিডিও শেয়ারিং পরিষেবায় ১১ কোটির বেশি চ্যানেল রয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ৭০ হাজার কনটেন্ট ক্রিয়েটরের সাবস্ক্রাইবার সংখ্যা ১০ লাখের ঊর্ধ্বে। ডাটা বিশ্লেষণ প্লাটফর্ম ডিমান্ডসেইজের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, সাবস্ক্রাইবারের ভিত্তিতে নির্মাতাদের মধ্যে শীর্ষে রয়েছেন মিস্টার বিস্ট। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইউটিউবার জিমি ডোনাল্ডসনের চ্যানেলটির সাবস্ক্রাইবার ৪২ কোটি ৪০ লাখ। এরপর আছে বিনোদন জায়ান্ট টি-সিরিজ, যার সাবস্ক্রাইবার ৩০ কোটির বেশি। ইউটিউব চ্যানেলের সংখ্যা ২০১৮ সালের পর থেকে দ্রুত বেড়েছে। ২০২৩ সালে মোট চ্যানেলের সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়িয়েছে।
ইউটিউবে শিশুদের চ্যানেল যেমন কোকোমেলন, ভ্ল্যাড অ্যান্ড নিকি ও কিডস ডাইআনা শো এখনো বিশ্বব্যাপী রÅvংকিংয়ে শীর্ষে রয়েছে। পরিবারবান্ধব কনটেন্ট প্লাটফর্মটিতে অত্যন্ত জনপ্রিয়।
পরিসংখ্যান বলছে, গত বছর প্রায় ৪৬ শতাংশ ইন্টারনেট ব্যবহারকারী প্রতি মাসে অন্তত একবার বিশ্বের অন্যতম বড় ডিজিটাল মিডিয়া সাইটটি পরিদর্শন করেছে। ইউটিউবে সবচেয়ে বেশি সক্রিয় ভারতীয়রা। এরপর রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিল।
বিশ্বব্যাপী স্ট্রিমিং প্লাটফর্মের বাজারেও শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে ইউটিউব। গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেটের দ্বিতীয় প্রান্তিকের (এপ্রিল-জুন) আয়ের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০২৫ সালের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে ইউটিউব বিজ্ঞাপন থেকে প্রায় ১ হাজার কোটি ডলার আয় করেছে, যেখানে গত বছর একই সময়ে আয় ছিল ৮৭০ কোটি ডলার। এক বছরে প্লাটফর্মটির বিজ্ঞাপন আয় বেড়েছে ১৩ শতাংশ।
ইউটিউবের ইতিহাস বলছে, টেক জায়ান্ট গুগলের ভিডিও শেয়ারিং প্লাটফর্মটির প্রথম ভিডিও প্রকাশ হয় ২০০৫ সালের এপ্রিলে। ১৯ সেকেন্ডের ঝাপসা একটি ক্লিপে দেখা যায়, সান দিয়েগো চিড়িয়াখানায় দাঁড়িয়ে ইউটিউবের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত তরুণ জাওয়াদ করিম কিছুটা অপ্রস্তুত ভঙ্গিতে হাতিদের পরিচয় দিচ্ছেন। ধীরে ধীরে প্লাটফর্মটি জনপ্রিয় হতে থাকে। চলতি বছর দৈনিক ১১ কোটি ব্যবহারকারী নিয়ে ২০ বছর পূর্ণ করে তৃতীয় দশকে পদার্পণ করল ইউটিউব। পাশাপাশি প্লাটফর্মটির পডকাস্টের মাসিক দর্শক সংখ্যাও সম্প্রতি ১০০ কোটি ছাড়িয়েছে।
ডিমান্ডসেইজের তথ্যানুযায়ী, ইউটিউবে শক্তিশালী উপস্থিতি তৈরি করেছেন ভারতীয় নির্মাতারাও। প্লাটফর্মটিতে টি-সিরিজ, সনি এন্টারটেইনমেন্ট টিভি ইন্ডিয়া ও জি মিউজের মতো চ্যানেলগুলো বেশ জনপ্রিয়।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, ইউটিউব প্রতি ভিউতে প্রায় দশমিক শূন্য ১৮ ডলার দেয়। ফলে একজন ইউটিউবার সাধারণত এক হাজার ভিউতে ১-৩০ ডলার উপার্জন করতে পারে। মাসে ১০ হাজার ভিউ হলে আয় হতে পারে ১০-৩০০ ডলার পর্যন্ত। এছাড়া ইউটিউবে উপার্জনের জন্য চ্যানেলের কমপক্ষে এক হাজার সাবস্ক্রাইবার এবং এক বছর ধরে ৪ হাজার ঘণ্টার ওয়াচ টাইম (ভিডিও দেখা সময়ের মোট যোগফল) থাকা প্রয়োজন।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০১৪-১৫ সালের দিকে এবং ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকের আগমনের আগে কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের প্রধান আয়ের উৎস ছিল ইউটিউব। বৈশ্বিক দর্শক, বৈচিত্র্যময় ভিডিও কনটেন্ট ও সরাসরি আয় করার সুযোগের কারণে প্লাটফর্মটি বিশেষভাবে জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। নতুন সব সোশ্যাল মিডিয়ার আগমনের মধ্যেও ইউটিউব আজও ক্রিয়েটরদের জন্য শক্তিশালী অবস্থান ধরে রেখেছে।