ইনস্টাগ্রামের বিকল্প হিসেবে ‘ফ্ল্যাশেস’ নামে নতুন ফটো-শেয়ারিং পরিষেবা অ্যাপলের অ্যাপ স্টোরে উন্মুক্ত হয়েছে। গত সপ্তাহে আত্মপ্রকাশের পর ব্লুস্কাইভিত্তিক অ্যাপটি প্রথম ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ৩০ হাজারবার ডাউনলোড হয়েছে। প্লাটফর্মটি ইনস্টাগ্রামের মতোই কাজ করে। এটি ব্লুস্কাই প্লাটফর্মের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হওয়া নতুন অ্যাপগুলোর একটি। ব্যবহারকারীরা এখানে সর্বোচ্চ চারটি ছবি ও ১ মিনিট দৈর্ঘ্যের ভিডিও আপলোড করতে পারবেন। খবর টেকক্রাঞ্চ।
বার্লিনভিত্তিক ডেভেলপার সেবাস্তিয়ান ভোগেলসাং তৈরি ফ্ল্যাশেস অ্যাপটি ব্লুস্কাইয়ের মতোই ‘এটি প্রোটোকল’ প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে। প্রোটোকলটি সোশ্যাল অ্যাপগুলো বিকেন্দ্রীভূত করতে সাহায্য করে, যা কোনো একক কোম্পানির নিয়ন্ত্রণে থাকে না। ফলে ব্যবহারকারী নিজের ডাটা ও বিভিন্ন প্লাটফর্মের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে আরো স্বাধীনতা ও নিয়ন্ত্রণ পায়।
টেকক্রাঞ্চ বলছে, অ্যাপটি ব্লুস্কাই প্লাটফর্মের ওপর ভিত্তি করে তৈরি, যার ব্যবহারকারীর সংখ্যা বর্তমানে ৩ কোটি ২০ লাখের বেশি। ফলে এটি প্রাথমিকভাবে বড় সংখ্যক ব্যবহারকারী পেয়ে যাচ্ছে। এটি ফ্ল্যাশেস ব্যবহারকারীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে আরো বিস্তৃত দর্শকের কাছে পৌঁছতে পারবে।
প্লাটফর্মসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ফ্ল্যাশেস কিছু ক্ষেত্রে ইনস্টাগ্রামের মতো হলেও এতে আরো বেশি কাস্টমাইজ করার সুযোগ থাকবে। সাধারণ সামাজিক মাধ্যমে যেখানে একটি অ্যালগরিদম ব্যবহারকারীদের জন্য কনটেন্ট নির্ধারণ করে, সেখানে ফ্ল্যাশেস ব্যবহারকারীরা ব্লুস্কাইয়ের ৫০ হাজারের বেশি কাস্টম ফিড থেকে পছন্দমতো কনটেন্ট দেখতে পারেন। অর্থাৎ ব্যবহারকারী নিজের ইচ্ছামতো নির্দিষ্ট ধরনের পোস্ট বা বিষয়বস্তুর ফিড নির্বাচন করতে পারবেন। এছাড়া অ্যাপটিতে টপ পোস্ট ও সাম্প্রতিক পোস্ট দেখার জন্য বিল্ট-ইন ফিডও থাকছে।
আলোকচিত্রীদের কাজ প্রদর্শনের জন্য বিশেষ ফিচার যুক্ত করা হয়েছে ফ্ল্যাশেস অ্যাপে। ‘পোর্টফোলিও মোড’ দিয়ে পছন্দের ছবি প্রোফাইলে সাজিয়ে রাখা যাবে, যাতে দর্শক ব্যবহারকারীর সেরা কাজগুলো প্রথমেই দেখতে পান। এছাড়া ইনস্টাগ্রামের মতো ফ্ল্যাশেসেও বিল্ট-ইন ফিল্টার দিয়ে ছবি এডিট করার সুবিধা রয়েছে।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ফ্ল্যাশেস অ্যাপের ডাউনলোড সংখ্যা সাড়ে ৪০ হাজার ছাড়িয়েছে। এটি আপাতত শুধু আইফোনে ব্যবহার করা যাবে।