২০২৪ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) বৈশ্বিক স্মার্টফোন বিক্রি বেড়েছে ২ দশমিক ৪ শতাংশ। ডিসেম্বর শেষে ডিভাইস বিক্রি পৌঁছেছে ৩৩ কোটি ১৭ লাখ ইউনিটে। এ নিয়ে টানা ছয় প্রান্তিক বিশ্বব্যাপী স্মার্টফোনের বিক্রি ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। এছাড়া ৬ দশমিক ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে ১২৪ কোটি ডিভাইস বিক্রি হয়েছে বছরজুড়ে। বাজার গবেষণা সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ডাটা করপোরেশনের (আইডিসি) গত সোমবারের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে আসে।
আইডিসির প্রত্যাশা, টানা দুই বছরের পতন ঠেলে ২০২৩ সালের দ্বিতীয়ার্ধ থেকে ২০২৪ সালে স্মার্টফোনের এ প্রবৃদ্ধি চলতি বছরও চলমান থাকবে। তবে পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় সামনের দিনে প্রবৃদ্ধির গতি কমবে। কারণ এখন ব্যবহারকারীরা ডিভাইস আপডেট করছে কম। যারা নতুন ফোন কেনার অপেক্ষায় ছিল, তাদের অধিকাংশের চাহিদা এরই মধ্যে পূর্ণ হয়ে গেছে। তাই সামনে বিক্রয় প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে, কিন্তু প্রবৃদ্ধির হার আগের বছরের তুলনায় কম হবে।
আইডিসির বিশ্বব্যাপী ক্লায়েন্ট ডিভাইসের সিনিয়র রিসার্চ ডিরেক্টর নাবিলা পোপাল বলেছেন, ‘২০২৪ সালে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ, উদীয়মান বাজারগুলোয় মুদ্রাসংক্রান্ত উদ্বেগ, চলমান মুদ্রাস্ফীতি ও কম চাহিদা সত্ত্বেও ডিভাইসের বিক্রি ঊর্ধ্বমুখী ছিল। বিক্রির এ প্রতিবেদন স্মার্টফোন বাজারের দৃঢ়তা প্রমাণ করে।’
বছর শেষে উৎসব মৌসুমে স্মার্টফোন কোম্পানিগুলো বিভিন্ন দামের ডিভাইস বাজারে এনেছে এবং এসব পণ্যে মূল্যছাড় দিয়েছে। ফলে অন্যান্য প্রান্তিকের তুলনায় এ সময় দামি ও সাশ্রয়ী উভয় ধরনের ফোন বিক্রি হয়েছে বেশি। ২০২৪ সালে বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে বেশি স্মার্টফোন বিক্রি করেছে কুপারটিনোভিত্তিক টেক জায়ান্ট অ্যাপল। এ তালিকায় এরপর আছে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রযুক্তি কোম্পানি স্যামসাং। তবে উভয় কোম্পানিরই বিক্রি ও বাজার হিস্যা কমেছে। কারণ এ ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় অনেক চীনা স্মার্টফোন কোম্পানি দ্রুত বেড়েছে। এসব ব্র্যান্ডের সাশ্রয়ী ডিভাইস ক্রেতাদের বেশি আকৃষ্ট করেছে। অ্যাপল ও স্যামসাংয়ের পর এ তালিকায় সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধির হার নিয়ে বছরজুড়ে তৃতীয় স্থানে ছিল চীনের শাওমি।
বর্তমানে দৈনন্দিন জীবনের একটি অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে স্মার্টফোন। বিশ্বে এখন ৭২০ কোটির বেশি ব্যবহার হচ্ছে ডিভাইসটি। আগামী বছরগুলোয় এ সংখ্যা আরো বাড়বে বলেও ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা। কুলেস্টগ্যাজেটসের সাম্প্রতিক জরিপ বলছে, বিশ্বব্যাপী সেলফোনের ৯০ শতাংশই স্মার্টফোন। বেশির ভাগ মানুষ এখন অন্তত একটি এ ধরনের ডিভাইস ব্যবহার করে। ফলে এ বাজারের প্রবৃদ্ধি সামনেও গতিশীল থাকবে। চীনা কোম্পানিগুলো উন্নত ফিচারসহ বাজেট ফ্রেন্ডলি স্মার্টফোন বাজারে আনা শুরু করলে বাজারটি আরো দ্রুতগতিতে বাড়তে শুরু করে। আইডিসির তথ্যানুযায়ী, ২০২৮ সালের মধ্যে এ বাজারের গড় বার্ষিক প্রবৃদ্ধির হার হবে ২ দশমিক ৬ শতাংশ। এতে মূল ভূমিকা রাখবে জেনারেটিভ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা জেনএআই। এছাড়া সহজলভ্য ইন্টারনেট, স্মার্টফোনকে ক্যামেরা হিসেবে ব্যবহার, বিনোদন ও গেমিংয়ের জন্য এসব ডিভাইস জিনপ্রিয় হয়ে উঠছে। ফলে গত এক দশকে স্মার্টফোনের বাজার দ্রুত বেড়েছে।
আইডিসির তথ্যানুযায়ী, স্মার্টফোন বিক্রি, বাজার হিস্যা ও প্রবৃদ্ধির দিক থেকে গত ডিসেম্বরে শেষ হওয়া প্রান্তিকে শীর্ষ পাঁচ কোম্পানি হলো অ্যাপল, স্যামসাং, শাওমি, ট্রানসন ও ভিভো।