দীর্ঘদিন পরও ল্যাপটপ নতুনের মতো রাখার কিছু টিপস

যেকোনো ল্যাপটপের কর্মক্ষমতা কয়েক বছর ধরে বজায় রাখতে প্রয়োজন নিয়মমাফিক যত্ন ও পরিচর্যা।

যেকোনো ল্যাপটপের কর্মক্ষমতা কয়েক বছর ধরে বজায় রাখতে প্রয়োজন নিয়মমাফিক যত্ন ও পরিচর্যা। ঠিকঠাকভাবে যত্ন নিলে পাঁচ বছর পরও নিজের ল্যাপটপ থেকে নতুনের মতো অভিজ্ঞতা পাওয়া সম্ভব। নির্দিষ্ট কিছু টিপস মেনে চলতে দীর্ঘস্থায়ী পারফরম্যান্স অর্জন করা যেতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে নিয়মিত পরিষ্কার, সফটওয়্যার আপডেট, অতিরিক্ত গরম হওয়া প্রতিরোধ করা। প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট মেকইউজঅবের প্রতিবেদনে এমন কিছু টিপস সম্পর্কে বলা হয়েছে

নিয়মিত পরিষ্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ

ল্যাপটপের দীর্ঘস্থায়িত্বের ক্ষেত্রে বড় বাধা হতে পারে ধুলা। কারণ এর মাধ্যমে ভেন্টিলেশন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হতে পারে। এতে ল্যাপটপ নিয়মিত গরম হবে, যা এর কর্মক্ষমতা কমিয়ে দেয়। এজন্য নিয়মমাফিক ল্যাপটপ পরিষ্কার করা জরুরি। তবে তা করার ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। অ্যালকোহলের পরিবর্তে নরম কাপড় হালকা ভিজিয়ে নিয়ে প্রথমে ডিসপ্লে পরিষ্কার করে পরে শুকনা কাপড় দিয়ে মুছে নিতে হবে। বিভিন্ন পোর্ট ও ফাঁকা অংশ ব্লোয়ারের সাহায্যে পরিষ্কার করা যেতে পারে। সামগ্রিকভাবে ল্যাপটপ পরিষ্কার করার কিট বাজারে পাওয়া যায়। এছাড়া ভেতরের ধুলাবালি একটি নির্দিষ্ট সময় পর পর খুলে পরিষ্কার করা যেতে পারে অথবা পেশাদার প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির শরণাপন্ন হওয়া যেতে পারে।

র‍্যাম ও হার্ড ড্রাইভ আপগ্রেড

সময়ের পরিক্রমায় সফটওয়্যার আপডেটের মাধ্যমে ল্যাপটপের মাল্টিটাস্কিং ফিচার বেড়ে যেতে পারে। সফটওয়্যারের উন্নতির সঙ্গে হার্ডওয়্যার মানানসই নাও হতে পারে। মূলত মাল্টিটাস্কিং কতটা সহজভাবে হচ্ছে, তা র‍্যাম ও হার্ড ড্রাইভের কর্মক্ষমতার ওপর নির্ভর করে। আগেকার হার্ড ড্রাইভের চেয়ে বর্তমানে এসএসডি অধিক দ্রুত কাজ করে থাকে। ফলে ভালো মানের ও ধারণক্ষমতার র‍্যাম ও এসএসডি পরিবর্তন করে নেয়ার মাধ্যমে ল্যাপটপ থেকে নতুনের মতো গতি পাওয়া সম্ভব।

ভাইরাসমুক্ত রাখা

ল্যাপটপের নিরাপত্তা ও কর্মক্ষমতা নিশ্চিত করতে একে ভাইরাস ও ম্যালওয়্যার থেকে মুক্ত রাখা জরুরি। এসব ক্ষতিকর সফটওয়্যারের কারণে ল্যাপটপের গতি কমে যায়। পাশাপাশি যথেষ্ট গরমও হয়, যা ল্যাপটপের ক্ষতি করে। এজন্য নিয়মিত ভাইরাস ও ম্যালওয়্যার আছে কিনা, তা যাচাই করতে অ্যান্টিভাইরাস ব্যবহার করা প্রয়োজন। উইন্ডোজ-চালিত কম্পিউটারে আগে থেকে ‘উইন্ডোজ ডিফেন্ডার’ নামে অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার দেয়া থাকে। এটি বেশ শক্তিশালী একটি সফটওয়্যার। তাছাড়া এ রকম পরিচিত ও ভালো মানের অ্যান্টিভাইরাসের মাধ্যমে নিয়মিত ল্যাপটপ স্ক্যান করার মাধ্যমে কোনো ক্ষতিকর সফটওয়্যার আছে কিনা জানা যাবে এবং প্রতিহতও করা যাবে।

স্টার্টআপ প্রোগ্রাম বন্ধ রাখা

অনেক প্রোগ্রাম বা অ্যাপ্লিকেশন ল্যাপটপ চালু করার সঙ্গে সঙ্গেই অ্যাক্টিভ হয়ে যায়। এতে ল্যাপটপের বুটআপ প্রসেসের ওপর যথেষ্ট চাপ পড়ে। এজন্য খুব বেশি প্রয়োজন না হলে এসব প্রোগ্রাম বন্ধ রাখলে কম্পিউটার দ্রুত চালু হবে। প্রথমে টাস্ক ম্যানেজার চালু করতে হবে। এরপর স্টার্টআপ অ্যাপস সেকশনে যেতে হবে। সেখান থেকে দেখে নেয়া যাবে কোন অ্যাপগুলো অ্যাক্টিভ রয়েছে। মাউসের রাইট বাটনে ক্লিক করে ডিজেবল অপশন পাওয়া যাবে।

আরও